প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দ্রুততর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৫ অপরাহ্ণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমান আজ (৩ নভেম্বর ২০২৬) দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে Y-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংযোগ সহজ হবে, ফলে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচল দ্রুত হবে।

Y-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পটি পূর্বে পরিকল্পনা পর্যায়ে ছিল এবং এর নকশা ও অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা চলছিল। প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের নির্দেশে এখন এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও তহবিল দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। সেতুটি মূলত দুইটি লেনের সঙ্গে অতিরিক্ত পাদচারণের জন্য পর্যাপ্ত স্থান থাকবে, যা ভবিষ্যতে ট্রাফিকের বৃদ্ধি মোকাবেলায় সহায়ক হবে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতু, যা পূর্বে পরিকল্পিত কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হয়ে ছিল, এখন আবার কাজের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এই সেতুটি দেশের উত্তরাঞ্চলকে রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করবে, ফলে বাণিজ্যিক লেনদেন ও কৃষি পণ্যের রপ্তানি-আমদানি সহজ হবে। সেতুর নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পদ্মা ব্যারেজের কাজও ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ব্যারেজটি দেশের বৃহত্তম নদী পদ্মা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা প্রতিরোধ এবং সেচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্যারেজের মাধ্যমে নদীর পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাবেন কৃষকরা, বিশেষত মৌসুমী বন্যা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত কাজের সূচি নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং তহবিলের সুষ্ঠু বরাদ্দ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে, যা নিয়মিতভাবে অগ্রগতি রিপোর্ট করবে।

অবকাঠামো উন্নয়নের এই পদক্ষেপগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষত পরিবহন ও সেচের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দেশের মোট উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, বেকারত্বের হার কমবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, অবকাঠামো প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জাগাবে। তবে, প্রকল্পের বাস্তবায়নে সময়মতো তহবিল সরবরাহ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সর্বশেষে, প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের এই নির্দেশনা দেশের ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন