বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, সরকার নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিরোধীরা
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহত্তর পরিসরে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সাধারণ নির্বাচনে ইহুদি জনগণের একটি বড় অংশ তার দল লিকুদ পার্টিকে সর্বাধিক সমর্থন দিয়েছে এবং তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই আহ্বানের পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে জরুরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, জনগণের রায় সুস্পষ্ট। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সরকার গঠন করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যেই তারা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে দেশের প্রধান দলগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। লিকুদ পার্টি মনে করছে, ভোটাররা তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং এখন সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা তাদের প্রধান দায়িত্ব।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে সক্রিয়তা বেড়েছে। প্রধান বিরোধী পক্ষগুলো আজকের এই বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে মূলত সরকার গঠনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, লিকুদ পার্টির প্রস্তাবের বাস্তবতা এবং বিরোধী দলগুলোর যৌথ কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধীদের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিরোধী দলগুলোর একক কোনো অবস্থান থাকবে, নাকি তারা নেতানিয়াহুর প্রস্তাবের বিপরীতে নতুন কোনো জোট গঠনের চেষ্টা করবে, তা এই বৈঠকের পরেই স্পষ্ট হবে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক সংকট ও সরকার গঠনের জটিল সমীকরণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নির্বাচনের পর থেকেই দেশটির ক্ষমতায় কে থাকবে এবং কোন ধরনের জোট সরকার দেশ পরিচালনা করবে তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। লিকুদ পার্টি আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খুব একটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তারা দীর্ঘসময় ধরে বর্তমান প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে। ফলে জাতীয় সরকার গঠনের এই প্রস্তাব কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে, সাধারণ ভোটার ও সাধারণ জনগণের মধ্যেও নতুন সরকার নিয়ে কৌতূহল কাজ করছে। একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতের জন্য কতটা জরুরি, তা নিয়ে নাগরিক সমাজে নানা মতামত রয়েছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে জোট সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের নজির আগে থাকলেও, বর্তমান মেরুকরণের পরিস্থিতিতে ভিন্নমতাবলম্বীদের এক ছাতার নিচে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নেতানিয়াহুর এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর হবে, নাকি বিভাজন আরও বাড়বে, তা দেখার জন্য এখন বিরোধী দলের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। আজ সন্ধ্যায় কিংবা রাতের দিকেই বিরোধী দলগুলোর আলোচনার সারমর্ম প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]