খুঁজুন
, ,

একই সড়ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি উদ্বোধন: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিড়ম্বনায় জনদুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
একই সড়ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি উদ্বোধন: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিড়ম্বনায় জনদুর্ভোগ

কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণত জনকল্যাণ ও এলাকার মানুষের স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসার কথা। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি একই দিনে দুবার উদ্বোধন করার মতো এক বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এলাকাবাসী। সকালে এক রাজনৈতিক নেতা উদ্বোধন করেছেন, আর বিকেলের আলো নিভতে না নিভতেই একই সড়ক নতুন করে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছেন অন্য দলের আরেক নেতা। উন্নয়ন কাজের চেয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এই প্রদর্শনী দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সকালে সড়কটির উদ্বোধন করেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি মূলত স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার বার্তা দিয়েই তার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছিলেন। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই বিকেলের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই একই রাস্তায় হাজির হন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোনো ধরনের প্রশাসনিক সমন্বয় ছাড়াই তার উপস্থিতিতে ফের ওই সড়কের উদ্বোধন করা হয়। এভাবে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি উদ্বোধনের ফলে সাধারণ মানুষ রীতিমতো বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এটি প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার চূড়ান্ত পর্যায়, নাকি রাজনৈতিক ইগো—কিসের কারণে এমনটা ঘটলো?

সাধারণত যেকোনো সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তা উদ্বোধন করেন। সেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক পরিচয়কে বড় করে দেখানোই যেন এখনকার স্থানীয় রাজনীতির সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রেষারেষি ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই দ্বন্দ্বের প্রতিফলনই দেখা গেছে এই সড়ক উদ্বোধনের ঘটনায়। উন্নয়ন কাজকে সাধারণ মানুষের সেবার চেয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এর ফলে উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে অসুস্থ প্রতিযোগিতার বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বা প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা সমন্বয় থাকলে হয়তো এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। প্রকল্পের মালিকানা বা কৃতিত্ব নেওয়ার এই লড়াই জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক রেষারেষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক স্টান্টবাজিই প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। স্থানীয়রা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের উচিত উন্নয়নমূলক কাজে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা এবং জনসেবাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা।

মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে এই ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলতে থাকলে উন্নয়নের গতিপথ বাধাগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট মহলের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের হীনমন্যতার পরিচয় দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে এখন সব মহলে তোলপাড় চলছে এবং এটি সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক রেষারেষি থাকুক, কিন্তু জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে সব সময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখন থেকে এ ধরনের প্রকল্প উদ্বোধনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মামুনুর রশিদ, মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা শিক্ষক, কারাগারে মৃত্যুবরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মামুনুর রশিদ, মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা শিক্ষক, কারাগারে মৃত্যুবরণ

যশোরের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক মামুনুর রশিদ, যিনি ২৮ অক্টোবর তার মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হন, কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ নভেম্বর রাতেই মৃত্যুবরণ করেন।

মামুনুর রশিদকে ২৮ অক্টোবর যশোরে গ্রেফতার করা হয়, যখন তার মায়ের মৃতদেহের সঙ্গে তার হাতে করা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, যা স্থানীয় পুলিশকে শক করে দেয়। মামুনুর রশিদকে অপরাধের গুরুতর স্বভাবের কারণে জেলখানায় স্থানান্তর করা হয় এবং তিনি সেখানে হৃদরোগের লক্ষণ দেখাতে শুরু করেন।

কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করে, জেল প্রশাসন তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, রশিদকে হৃদরোগের তীব্র আক্রমণ এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা গুরুতর ছিল এবং তীব্র পর্যবেক্ষণের অধীনে রাখা হয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরের কয়েক দিনেই, রশিদ তার রোগের জটিলতা বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১ নভেম্বর রাতের দিকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর যশোরের কারাগার হেফাজতকারী কর্মকর্তা আবিদ আহমেদ জানান, যিনি সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান।

মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করার পর থেকে তার অপরাধের শাস্তি এবং বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে তার মৃত্যুর ফলে মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে পরিবর্তন আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিবার ও সমাজের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যশোরের স্থানীয় জনগণ এই রকম হিংসাত্মক অপরাধের শিকার পরিবারকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ধরনের অপরাধের প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, পরিবারিক হিংসা এবং মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপের গুরুত্বকে জোর দেওয়া হয়েছে।

মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করার সময় তার পেশা শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা সমাজে শিক্ষকদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রের নৈতিকতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

মামুনুর রশিদকে শিকারের মায়ের পরিবার এখনো শোকাহত, এবং তারা ন্যায়বিচার ও শোকের সমাপ্তি প্রত্যাশা করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনগত সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন এই ধরনের অপরাধের শিকারদের জন্য যথাযথ সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

৩ নভেম্বর ২০২৬ টিভিতে সরাসরি দেখার জন্য আজকের প্রধান খেলাগুলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
৩ নভেম্বর ২০২৬ টিভিতে সরাসরি দেখার জন্য আজকের প্রধান খেলাগুলো

আজ ৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে টেলিভিশনের ক্রীড়া সেকশনটি বিশেষভাবে ব্যস্ত থাকবে। দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ঘরে বসে উপভোগ করতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য টি স্পোর্টস চ্যানেলটি একাধিক সরাসরি সম্প্রচার আয়োজন করেছে। এই সূচি অনুসারে, দর্শকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়া দুনিয়ার উত্তেজনা অনুভব করতে পারবেন।

সকাল ৬টায় টি স্পোর্টসের প্রথম প্রোগ্রাম হবে গ্লোবাল টুয়েন্টি ফাইনাল, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলো একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়, ফলে প্রতিটি দলই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই মুহূর্তে ঘরে বসে লাইভ স্কোর, বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন।

দুপুরের পরের দিকে, টি স্পোর্টসের প্রোগ্রামিংয়ে ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট রয়েছে। বিকাল ৫টায় এবিজি কাপের ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার হবে। এই ফাইনালটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট, যেখানে দুইটি শীর্ষ দল চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জেতার জন্য লড়াই করবে। দর্শকরা ম্যাচের আগে ও পরে বিশ্লেষক দলের সঙ্গে ট্যাকটিক্যাল আলোচনা, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং ম্যাচের মূল মুহূর্তগুলো পুনরায় দেখতে পারবেন।

টিভি স্ক্রিনে ফুটবলের পাশাপাশি, টি স্পোর্টস চ্যানেলটি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচারও পরিকল্পনা করেছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী এই ম্যাচগুলো সন্ধ্যা সময়ের মধ্যে সম্প্রচারিত হবে, যা ফুটবল ভক্তদের জন্য অতিরিক্ত উত্তেজনা যোগ করবে। এছাড়া, টি স্পোর্টসের অন্যান্য ক্রীড়া শো ও বিশ্লেষণ প্রোগ্রামগুলোও দিনের শেষে দর্শকদের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, সবসময় আপনার টিভির সেটিংস সঠিকভাবে চেক করুন এবং চ্যানেল পরিবর্তনের আগে টি স্পোর্টসের সঠিক ফ্রিকোয়েন্সি নিশ্চিত করুন। এছাড়া, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করলে রিয়েল-টাইমে ম্যাচের রিক্যাপ ও হাইলাইট দেখতে পারবেন। বিশেষ করে যারা মোবাইল ডিভাইস থেকে দেখেন, তাদের জন্য টি স্পোর্টসের অফিসিয়াল অ্যাপ্লিকেশনটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প।

সারসংক্ষেপে, আজকের টিভি শিডিউলটি ক্রীড়া প্রেমিকদের জন্য এক সমৃদ্ধ দিন নিশ্চিত করেছে। গ্লোবাল টুয়েন্টি ফাইনাল, এবিজি কাপের ফাইনাল এবং সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলো একত্রে টি স্পোর্টসের প্রাইম টাইমে আসছে, যা দর্শকদের ঘরে বসে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের রোমাঞ্চ উপভোগের সুযোগ দেবে। আপনার প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে এবং ক্রীড়া জগতের সর্বশেষ খবর জানার জন্য আজকের সূচি মিস না করা উচিত।

বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, সরকার নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিরোধীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, সরকার নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিরোধীরা

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহত্তর পরিসরে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সাধারণ নির্বাচনে ইহুদি জনগণের একটি বড় অংশ তার দল লিকুদ পার্টিকে সর্বাধিক সমর্থন দিয়েছে এবং তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই আহ্বানের পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে জরুরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, জনগণের রায় সুস্পষ্ট। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সরকার গঠন করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যেই তারা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে দেশের প্রধান দলগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। লিকুদ পার্টি মনে করছে, ভোটাররা তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং এখন সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা তাদের প্রধান দায়িত্ব।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে সক্রিয়তা বেড়েছে। প্রধান বিরোধী পক্ষগুলো আজকের এই বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে মূলত সরকার গঠনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, লিকুদ পার্টির প্রস্তাবের বাস্তবতা এবং বিরোধী দলগুলোর যৌথ কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধীদের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিরোধী দলগুলোর একক কোনো অবস্থান থাকবে, নাকি তারা নেতানিয়াহুর প্রস্তাবের বিপরীতে নতুন কোনো জোট গঠনের চেষ্টা করবে, তা এই বৈঠকের পরেই স্পষ্ট হবে।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক সংকট ও সরকার গঠনের জটিল সমীকরণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নির্বাচনের পর থেকেই দেশটির ক্ষমতায় কে থাকবে এবং কোন ধরনের জোট সরকার দেশ পরিচালনা করবে তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। লিকুদ পার্টি আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খুব একটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তারা দীর্ঘসময় ধরে বর্তমান প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে। ফলে জাতীয় সরকার গঠনের এই প্রস্তাব কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে, সাধারণ ভোটার ও সাধারণ জনগণের মধ্যেও নতুন সরকার নিয়ে কৌতূহল কাজ করছে। একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতের জন্য কতটা জরুরি, তা নিয়ে নাগরিক সমাজে নানা মতামত রয়েছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে জোট সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের নজির আগে থাকলেও, বর্তমান মেরুকরণের পরিস্থিতিতে ভিন্নমতাবলম্বীদের এক ছাতার নিচে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নেতানিয়াহুর এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর হবে, নাকি বিভাজন আরও বাড়বে, তা দেখার জন্য এখন বিরোধী দলের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। আজ সন্ধ্যায় কিংবা রাতের দিকেই বিরোধী দলগুলোর আলোচনার সারমর্ম প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ
মামুনুর রশিদ, মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা শিক্ষক, কারাগারে মৃত্যুবরণ ৩ নভেম্বর ২০২৬ টিভিতে সরাসরি দেখার জন্য আজকের প্রধান খেলাগুলো বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, সরকার নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫টি বিশেষ আমল একই সড়ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি উদ্বোধন: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিড়ম্বনায় জনদুর্ভোগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প, তবে প্রস্তুতির অভাব নেই ডেমোক্র্যাটদের কুষ্টিয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে বহিষ্কারের জের, স্কুলের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ মানিকগঞ্জে ড্রেন থেকে পুলিশের পরিত্যক্ত শটগান উদ্ধার দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে জিপিএ‑৫: রফিকুলের অনুপ্রেরণামূলক সাফল্য দাম বৃদ্ধির সময় নিয়ে সরকারের সমালোচনা করল এনসিপি
Advertisement