খুঁজুন
, ,

সাভারে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
সাভারে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিত

সাভারের হেমায়েতপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে একটি পোশাক কারখানায় নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উত্তাল পরিস্থিতিতে কারখানাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং এক পর্যায়ে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধরের শিকার হতে হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার দুপুরে, যখন কারখানার সামনে জড়ো হওয়া একদল বিক্ষোভকারী শ্রমিক সহিংস হয়ে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানাটির সামনে শ্রমিকদের জমায়েত ও বিশৃঙ্খলা হঠাৎ করেই রূপ নেয় বড় ধরনের তাণ্ডবে। তারা কারখানার মূল ফটক ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

কারখানার ভেতরের নিরাপত্তা কর্মীদের চোখের সামনেই একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করে এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করতে থাকে। ঘটনার সময় শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে মারমুখী অবস্থানে দেখা গেছে। কারখানায় কর্মরত অবস্থায় থাকা সাধারণ কর্মীরা ভয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় এক সংবাদকর্মী ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি হামলার শিকার হন। বিক্ষুব্ধরা ওই সাংবাদিককে ঘিরে ফেলে এবং তার ওপর চড়াও হয়। এতে তিনি গুরুতর লাঞ্ছনার শিকার হন বলে জানা গেছে।

কারখানার ভেতরে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা কারখানা সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঘরমুখো মানুষসহ সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। দীর্ঘক্ষণ মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময়কার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যে যেভাবে পেরেছে কারখানাটির ভেতরে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই হেনস্তা বা মারধর করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভাঙচুরের বড় অংশ সম্পন্ন হয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ বেগ পেতে হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে যে অস্থিরতা চলছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলায়। আহত সাংবাদিককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনা পরবর্তী সময়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি না হয়। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং কারখানার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন। রবিবার রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ডাকে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও কারচুপির ফসল হিসেবে অভিহিত করেন। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের কার্যকারিতা এবং ভোটার তালিকা তৈরির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।

সমাবেশে সমবেত মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, গত লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তার অভিযোগ, ইভিএম মেশিনে কারিগরি ত্রুটির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কারচুপির বিষয়টি। এছাড়াও তিনি ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর আপত্তি তুলেছেন। তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে বলেন, তার বর্তমান ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়। রাহুল গান্ধী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যতে এই অনিয়ম ও কারচুপির দায়ে জ্ঞানেশ কুমারকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জেলে যেতে হবে।

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো যে ইভিএম ভিত্তিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছে, তা পুনরায় স্পষ্ট হলো। সমাবেশস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। তারা দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন শাসকদলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে, যার ফলে নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না। বিরোধী জোটের নেতারা বারবার দাবি করে আসছেন যে, ব্যালট পেপারে ফিরে আসাই এখন ভারতীয় গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র উপায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তাপ ছড়াতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদের একজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি জেলের হুমকি দেওয়া দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলো ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এবার একেবারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

দিল্লির এই সমাবেশটি মূলত দেশব্যাপী ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধী নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রত্যেকেই আসন্ন নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাহুলের এই বক্তব্য ঘিরে শাসকদলের তরফ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ভোট প্রক্রিয়ার বিশুদ্ধতা বজায় রাখার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে এবং রাহুলের এই বক্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে নতুন ঘি ঢাললো বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস মূলত আত্মসমর্পণের ইতিহাস। স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করা এবং তাদের কাছে নতি স্বীকার করাই তাদের রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। রবিবারে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রিজভী। তিনি জামায়াতের আমিরের সম্প্রতি করা ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ শীর্ষক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা ঐতিহাসিকভাবেই স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির সাথে গোপন আঁতাত বজায় রেখে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে, তাদের মুখে বিপ্লবের কথা মানায় না। তাদের রাজনীতির প্রতিটি পরতে পরতে কেবল আত্মসমর্পণের চিত্রই ফুটে ওঠে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তার বক্তব্যে আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তখন এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের অবস্থান সবসময়ই অস্পষ্ট এবং সুবিধাবাদী। ক্ষমতার মসনদ ঠিক রাখতে তারা অতীতেও বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকারের সাথে নগ্নভাবে আপস করেছে। সেই পুরোনো স্বভাব এখনো রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ যখন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ, তখন জামায়াতের এ ধরনের কথাবার্তা মূলত জনগণের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপপ্রয়াস মাত্র।

একই আয়োজনে রিজভী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব অপতৎপরতা চালিয়ে জনগণ ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে বিএনপি অটল থাকবে এবং যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলন সফল হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রিজভী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় রাজনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে বাংলাদেশ। এই সময়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা কি আসলেই বিপ্লব চায় নাকি আবারও পেছনের দরজা দিয়ে কোনো অশুভ শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে মাঠ গরম করার কৌশল খুঁজছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে সাধারণ জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা কার রাজনীতি কী আর কে কোন আদর্শ ধারণ করে, তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারে। কোনো দলের অপরাজনীতি এখন আর টিকবে না। পরিশেষে তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি আগামী দিনে দেশ পরিচালনার জন্য এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে তারা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী।

সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর

ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক এই আদেশ দেন। একই ঘটনায় বাসার গৃহকর্মী নার্গিস বেগম আদালতে সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি প্রদান করেছেন। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পালন করছেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই অভিযুক্ত অর্ণবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে গৃহকর্মী নার্গিস বেগমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি অর্ণবকে কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা জরুরি। বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গৃহকর্মী নার্গিস বেগম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দিন এবং সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করছেন। নার্গিস বেগমের জবানবন্দি এই মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র যোগ করবে কি না, তা নিয়ে এখন আইনি পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আদালত গৃহকর্মীর জবানবন্দি রেকর্ড করে তা নথিভুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, আফিয়া আক্তারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্য হিসেবে ছেলে অর্ণবের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত চলছে। আদালত নির্দেশ দিলে তাকে পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করতে পারে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি একটি সংবেদনশীল মামলা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ভুল তথ্যের সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং সাক্ষীর বর্ণনার আলোকে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

এদিকে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আইনি অঙ্গনে নানা জল্পনা রয়েছে। অভিযুক্ত অর্ণবের আইনজীবী জামিনের আবেদন করবেন কি না বা রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে কতটুকু শক্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত আদালতের নির্দেশে অর্ণব কারাগারেই থাকছেন এবং গৃহকর্মীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করার মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এখন পুলিশের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।

সর্বশেষ
ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর সাভারে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিত রাজশাহীতে বৃষ্টিহীন আবহেও মাঠে গড়াল না বরিশাল-ঢাকা ম্যাচ কলকাতার কাছে দুদিনের ছুটি: ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির কোলে থাকা ৫টি গন্তব্যে লাঠিচার্জের ভিডিও করায় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি উপসাগরে কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজে রহস্যময় হামলা তাহসিফ হত্যা মামলা: গ্রেফতার তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর ও নায়েবে আমীরের রোকন পদ বাতিল
Advertisement