ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন। রবিবার রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ডাকে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও কারচুপির ফসল হিসেবে অভিহিত করেন। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের কার্যকারিতা এবং ভোটার তালিকা তৈরির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।
সমাবেশে সমবেত মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, গত লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তার অভিযোগ, ইভিএম মেশিনে কারিগরি ত্রুটির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কারচুপির বিষয়টি। এছাড়াও তিনি ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর আপত্তি তুলেছেন। তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে বলেন, তার বর্তমান ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়। রাহুল গান্ধী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যতে এই অনিয়ম ও কারচুপির দায়ে জ্ঞানেশ কুমারকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জেলে যেতে হবে।
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো যে ইভিএম ভিত্তিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছে, তা পুনরায় স্পষ্ট হলো। সমাবেশস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। তারা দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন শাসকদলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে, যার ফলে নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না। বিরোধী জোটের নেতারা বারবার দাবি করে আসছেন যে, ব্যালট পেপারে ফিরে আসাই এখন ভারতীয় গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র উপায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তাপ ছড়াতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদের একজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি জেলের হুমকি দেওয়া দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলো ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এবার একেবারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দিল্লির এই সমাবেশটি মূলত দেশব্যাপী ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধী নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রত্যেকেই আসন্ন নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাহুলের এই বক্তব্য ঘিরে শাসকদলের তরফ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ভোট প্রক্রিয়ার বিশুদ্ধতা বজায় রাখার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে এবং রাহুলের এই বক্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে নতুন ঘি ঢাললো বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৫ অপরাহ্ণ