খুঁজুন
, ,

চাঁদপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী-চাঁদপুর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
চাঁদপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দেশের ভবিষ্যতের জন্য জনগণের একমাত্র ভরসা হলো সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন
………মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) নির্বাচনের বিকল্প নেই মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ তখনই মাথাচাড়া দেয়, যখন ক্ষমতা এককভাবে কোনো একদল বা ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ থাকে। একের অধিকবার সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতা স্থায়ী করার প্রচেষ্টা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই দেশের গণতান্ত্রিক ও সুশাসিত ভবিষ্যতের জন্য জনগণের একমাত্র ভরসা হলো সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন।’

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে
সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রসংস্কার ও খুনীদের দৃশ্যমান বিচারের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর যে সমস্ত দল ক্ষমতায় এসেছে সবাই দুর্নীতি করেছে। সবাই দেশকে লুটে পুটে খেয়েছে। এখন সময় হয়েছে পরিবর্তনের। সময় এসেছে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার। পতিত ফ্যাসিস্ট  সরকার জুলুমের রাষ্ট্র তৈরি করেছিলো। হাজার হাজার মানুষকে গুম ও খুন করেছে। বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা দেশ থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে। লাখো মানুষকে কারাবন্দি করেছে। চাঁদাবাজি করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করেছে। আর ২৪ এর জুলাইয়েতো প্রকাশ্যে গণহত্যা করেছে। ফলে তাদের কোনো ক্ষমা নাই। যারা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের সাথে জড়িত ছিল তাদের বিচার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতা জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করেছে। এটি একটি সুন্দর, স্থিতিশীল এবং সুশাসিত সমাজ নির্মাণের ভিত্তি।’ দেশের রাষ্ট্রসংস্থান সংস্কার, অতীতের গণহত্যা ও অন্যায়ের বিচার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি তৈরি এবং ফলপ্রসূ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পিআর পদ্ধতি অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, এদেশের ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। আমরা আর কোনো নব্য স্বৈরাচার কে রাস্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাইনা। এদেশে চরমোনাই পীরের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র দেখতে চায় সকল শ্রেণীর মানুষ। দিনের ভোট রাতে হতে দিবে না ইসলামী আন্দোলন। এখন থেকেই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের কাছে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ। বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা রক্ত দিয়েছে। আমরা আর রক্ত দিতে চাইনা।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এদেশের জনগন দ্বিতীয় বারের মতো দেশ স্বাধীনতা করেছে। এ স্বাধীনতা আমাদের ধরে রাখতে হবে। এখানে কোনো ভেদাভেদ চলবে না। আমরা বিভক্তির রাজনীতি চাইনা। আগামী নির্বাচনে পীর মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরামদের সমন্বয়ে ইসলামী শক্তি একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম তৈরি করবে। তাই আগামী নির্বাচনে আমরা সকল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। যাদের ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, আমরা তাদের সকলের কাছে গভীরভাবে ঋণী।  ইসলামী আন্দোলনের অস্তিত্ব যতদিন থাকবে. আল্লাহ যেন তাদের ঋণ পরিশোধ করার শক্তিটাও ততদিন আমাদেরকে দান করেন। এতগুলো মানুষ এমনি এমনি জীবন দেন নাই। জীবন দিয়েছে জাতির মুক্তির জন্য। যদি পুরোনো সবকিছুই টিকে থাকবে তাহলে কেন তারা জীবন দিয়েছিল? যারা ওই পচা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আবার ফিরিয়ে নিতে চান, তাদেরকে আমরা বলি, জুলাই যুদ্ধ করে যারা জীবন দিয়েছেন আগে তাদের জীবনটা ফেরত এনে দেন। যদি শক্তি থাকে ফেরত এনে দেন। আপনারা পারবেন না। যেহেতু পারবেন না। কাজেই নতুন ব্যবস্থায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, ‘সমাজকে প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও অন্যায় থেকে মুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করবে এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে।’

সমাবেশে উপস্থিত সকল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি সহ্য করব না। এই বাংলাদেশটাই আমরা দেখতে চাই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য প্রার্থী শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইন, মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী, মাও শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মুফতি উমর ফারুক ইব্রাহীম কাসেমী, আলহাজ মোহাম্মদ আলী পাটওয়ারী।

এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাও বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, পৌর জামায়াতের আমির এডভোকেট শাহজাহান খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ, চাঁদপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চাঁদপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা গাজী মুহাম্মদ হানিফ, মাওলানা আফসার উদ্দিন, মাওলানা জামিল আহমাদ জাকির, জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহজামাল গাজী সোহাগ, মাওলানা নাসির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, প্রচার সম্পাদক আবু বকর, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আবদুল্লাহ তপাদার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুদ্দীন খান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমাদ, শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল, সহকারি দপ্তর সম্পাদক মুফতি আল-আমিন, শহর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ডাঃ বেলাল হোসাইন, ইসলামি শ্রমিক আন্দোলন চাঁদপুর জেলার সভাপতি আবুল বাশার তালুকদার, ইসলামী যুব আন্দোলন জেলা সাধারণ সম্পাদক গাজী নেয়ামত উল্লাহ, আইমা পরিষদ জেলা সহ সভাপতি মাওলানা আনোয়ার আল নোমান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জেলার সভাপতি ডিএম ফয়সাল প্রমুখ।

এর আগে দুপুর থেকেই সমাবেশস্থলে বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়ন ও উপজেলাগুলো থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে নেতাকর্মীদের ভিড়ে সমাবেশের মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।

ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
   
ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে?

বর্তমান সময়ে রূপচর্চার দুনিয়ায় ভিটামিন সি একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। উজ্জ্বল, দাগহীন এবং বয়সের ছাপমুক্ত ত্বকের সন্ধানে অধিকাংশ মানুষ এখন ভিটামিন সি যুক্ত প্রসাধনী বেছে নিচ্ছেন। বাজারে এখন ফেসওয়াশ থেকে শুরু করে ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের স্কিনকেয়ার পণ্যের সঙ্গেই ভিটামিন সি যুক্ত থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রসাধনীতেই কি এই বিশেষ উপাদানের উপস্থিতি প্রয়োজন? সত্যিই কি বেশি মাত্রায় ভিটামিন সি ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বাস্তবতা?

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন সি ত্বকের জন্য নিঃসন্দেহে একটি উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ত্বকের পিগমেন্টেশন বা কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বককে টানটান রাখতে সহায়তা করে। তবে সব প্রসাধনীতে এই উপাদান থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভিটামিন সি মূলত একটি কার্যকর অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট। এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘনত্ব বা কনসেন্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রতিটি প্রসাধনীতে একই উপাদান থাকতে শুরু করে, তবে ত্বকের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাজারজাত বিভিন্ন ফেসওয়াশে ভিটামিন সি থাকাটা খুব একটা কার্যকর নয় বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। ফেসওয়াশ মূলত ত্বক পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি ধোয়ার মাধ্যমেই ত্বক থেকে চলে যায়। তাই এখানে ভিটামিন সি ব্যবহারের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং সিরামের মাধ্যমে ভিটামিন সি প্রয়োগ করা অনেক বেশি কার্যকর, কারণ সিরাম ত্বকে দীর্ঘ সময় থাকে এবং শোষণ হতে পারে। আবার সানস্ক্রিনের সঙ্গে ভিটামিন সি-র সমন্বয় ভালো হলেও, এটি সবার ত্বকের জন্য মানানসই নাও হতে পারে। অত্যধিক শক্তিশালী ভিটামিন সি যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে অনেকের ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য নির্বাচন করা। যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণ প্রবণ, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘনত্বের ভিটামিন সি সিরাম ভালো ফল দিতে পারে। কিন্তু শুষ্ক বা অতি সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন। অনেক সময় গ্রাহকরা মনে করেন, বেশি দামি বা বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক খুব দ্রুত উজ্জ্বল হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা হিতবিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

পরিশেষে, রূপচর্চার রুটিনে ভিটামিন সি অন্তর্ভুক্ত করার আগে নিজের ত্বকের প্রয়োজনীয়তা বোঝা জরুরি। প্রতিটি পণ্যের পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে, ভালো মানের একটি ভিটামিন সি সিরাম বেছে নেওয়া এবং সেটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহারের অভ্যাস করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সব প্রসাধনীতে ভিটামিন সি থাকা মানেই সেটি আপনার ত্বকের জন্য ভালো, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচনই প্রকৃত সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের চাবিকাঠি।

অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছার পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দুপুর নাগাদ তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তবে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ এবং তাদের দাবির বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে সময় দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছেন। এই আল্টিমেটাম ঘোষণার পরই শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে আসেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তারা তাদের দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছেন। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তাদের অভিযোগ, বর্তমান অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যার ফলে দীর্ঘ দিন ধরেই তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান অধ্যক্ষের পদত্যাগই একমাত্র সমাধান বলে তারা মনে করছেন। এই দাবিতেই গত কয়েকদিন ধরে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শুক্রবারের এই সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি আরও জোরালোভাবে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পুলিশের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা সড়ক ছাড়ার ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশা করছেন। যদি এই সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কলেজের অন্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগের ছাপ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান না হলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে, এই ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্ররোচনায় নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের লক্ষে শিক্ষার্থীরা যে আল্টিমেটাম দিয়েছেন, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আগামী দুই দিন তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি খাতের সূচক নাসডাকের বড় দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি খাত নিয়ে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আসার আশঙ্কায় শেয়ারের দামে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বৃহস্পতিবার লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, নাসডাক সূচক প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো হারিয়েছে, যা গত বেশ কিছু সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন। এই অস্থির পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ভোটারদের দায়ী করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্প্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের বিজয় অর্জনের কারণেই বাজারের এই নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং তাদের নীতিমালার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শেয়ারবাজারের এই পতনের মাধ্যমে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যেও ইঙ্গিত করেছেন যে, তাদের ভুল সিদ্ধান্তের মাসুল দিতে হচ্ছে পুরো অর্থনীতিকে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বাজারের এই অস্থিরতা কেবল রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না, বরং প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপট এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নাসডাকের এই পতনের পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যে ধরনের কড়াকড়ির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন, যার ফলে সূচক বেশ খানিকটা নিচে নেমেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সবসময়ই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার দাবি জানিয়ে আসলেও, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক এই মন্দা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলো আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নাসডাকের এই ধসের পর অন্যান্য খাতের শেয়ারের ওপর এর কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্যে বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারের আগামী দিনগুলো বেশ উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস বা নীতিনির্ধারকরা বাজার স্থিতিশীল করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ
ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং