খুঁজুন
, ,

রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন নিয়ে ফটিকছড়িতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন নিয়ে ফটিকছড়িতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিস্থিতি। শনিবার রাতে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো এলাকায় বিএনপির স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের অর্ডার আগে দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিবাদ মুহূর্তের মধ্যেই সহিংস রূপ নেয়, যার ফলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখেন, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে হেয়াকো বাজারের একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় খাবারের অর্ডার দেওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি খুব সাধারণ মনে হলেও, এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক ক্ষোভ। ফটিকছড়ির এই অঞ্চলটিতে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। বিশেষ করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। রেস্তোরাঁর তুচ্ছ ঘটনাটি এই পুরোনো তিক্ততাকে আরও উসকে দেয় এবং দ্রুতই দুই পক্ষের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুরো হেয়াকো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছোটাছুটি শুরু করেন। রাস্তার ওপর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় যানবাহন চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলতে এক পর্যায়ে দুই পক্ষই প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ এবং অসুস্থ রোগীদের বহনকারী যানবাহনগুলো আটকা পড়ে তীব্র বিড়ম্বনায় পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল কেবল দলীয় ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ের শান্তি-শৃঙ্খলাকেও হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। যেকোনো ছোটখাটো ঘটনাকে রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে রূপান্তর করার প্রবণতা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শনিবার রাতের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ কাটেনি। বাজার এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাতের সৃষ্টি না হয়। রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ বারবার এমন রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হচ্ছেন। ফটিকছড়ির মতো একটি জনবহুল এলাকায় রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ এবং সহনশীলতা ফিরে আসা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। আপাতত সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও স্থানীয় পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে এবং যেকোনো সময় পুনরায় উত্তেজনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ

রাজধানীর পল্লবী থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, এদিন রাত সোয়া আটটার দিকে পল্লবী থানার পাশের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে দুর্বৃত্তরা থানা লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত ককটেলটির আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। ঘটনার পরপরই থানা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি অসাধু গোষ্ঠী বা চক্র অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে কারা এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন এবং সম্ভাব্য হামলাকারীদের খোঁজে আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে হামলার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার রহস্য উদঘাটন করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন দিক থেকে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে থানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে পুলিশ আশা করছে।

রোববারের এই ঘটনার পর থেকে পল্লবী থানা এবং এর আশেপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকেও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য যে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য বা সাধারণ মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিস্ফোরণটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। বর্তমানে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা

সরকারি প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া সাধারণ মানুষের আবেদন নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। দেশের কোনো নাগরিক প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে, সেই আবেদনটির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ কারণ না দর্শিয়ে তা অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থে এই নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের মতে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব হলো নাগরিকের আবেদনের ওপর একটি যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া।

রবিবার এই সংক্রান্ত একটি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তারা চাইলে কোনো নাগরিকের আবেদন অবহেলা করে ফেলে রাখতে পারেন না। এটি কেবল নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী নয়, বরং এটি প্রশাসনিক শৈথিল্যের বহিঃপ্রকাশও বটে। বিচারকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারী যখন কোনো প্রতিকারের জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হন, তখন রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কর্তব্য হলো সেই আবেদনের একটি আইনানুগ নিষ্পত্তি করা। যদি কোনো কারণে আবেদনটি গৃহীত না হয় বা তা বিলম্বিত হয়, তবে কেন এমনটি ঘটছে, তার যৌক্তিক কারণ অবশ্যই আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

আদালত আরও বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। কোনো নাগরিকের আবেদন নিষ্পত্তিতে অহেতুক কালক্ষেপণ করা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবকেই নির্দেশ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কারণ উল্লেখ না করে বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখা বা আবেদনের বিষয়ে নীরব থাকা কেবল প্রশাসনিক বিড়ম্বনা বাড়ায় না, বরং এটি মানুষের মধ্যে বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাকেও ক্ষুণ্ণ করে। তাই আবেদন প্রাপ্তির পর একটি নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা আবেদনকারীকে অবহিত করা সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত কাজের একটি অংশ হওয়া উচিত।

এই রিট মামলার শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে লড়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএইচএম মুশফিকুর রহমান। তিনি আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, এটি দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরে ফাইল আটকে রাখার যে প্রবণতা রয়েছে, এই রায়ের ফলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের এই নির্দেশনা যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তির মাত্রা অনেকটা কমে আসবে। কোনো নাগরিক যখন রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য বা সুবিচারের আশায় যান, তখন দ্রুত সাড়া পাওয়া তার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। হাইকোর্টের এই রায় একইসঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা নিরসনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব নিরূপণে নতুন সুবিধা আনছে এআই চ্যাটবট ক্লড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব নিরূপণে নতুন সুবিধা আনছে এআই চ্যাটবট ক্লড

দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, যার সর্বশেষ সংযোজন হতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক চ্যাটবট ক্লডের নতুন একটি বিশেষায়িত সুবিধা। এতদিন ক্লড মূলত লেখালেখি, কোডিং কিংবা তথ্যের বিশ্লেষণের জন্য পরিচিত থাকলেও এবার এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে যাচ্ছে। ক্লডের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ঘোষণা দিয়েছে যে তারা পার্সোনাল ফাইন্যান্স নামের একটি নতুন ফিচার যুক্ত করছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

আমাদের প্রতিদিনের অসংখ্য লেনদেনের মাঝে অনেক সময় ছোটখাটো অসামঞ্জস্য কিংবা খরচের লাগামহীন প্রবণতা নজর এড়িয়ে যায়। নতুন এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা এবং খরচের ধরনে শৃঙ্খলা আনা। ক্লড এখন ব্যবহারকারীর অনুমতিক্রমে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের খরচের তথ্য পর্যালোচনা করতে পারবে। এর ফলে মাসজুড়ে মোট কত টাকা ব্যয় হলো, কোন নির্দিষ্ট খাতে খরচের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে কি না, কিংবা কোথাও কোনো অপ্রত্যাশিত বা লুকানো চার্জ কেটে নেওয়া হয়েছে কি না—এই বিষয়গুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

প্রথাগত হিসাব পদ্ধতি বা এক্সেল শিটের বাইরে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই আধুনিক সমাধান সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারে না তাদের আয়ের একটি বড় অংশ কোথায় খরচ হয়ে যাচ্ছে। এআই চালিত এই চ্যাটবটটি খরচের ধারা বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীকে পরামর্শ দিতে পারবে কোথায় ব্যয় কমানো সম্ভব অথবা সঞ্চয়ের কোনো সুযোগ আছে কি না। এটি কার্যত একজন আর্থিক উপদেষ্টার মতোই কাজ করবে, যা সরাসরি চ্যাট ইন্টারফেসের মাধ্যমেই কথোপকথন চালিয়ে ব্যবহারকারীকে তাদের আর্থিক অবস্থার আপডেট জানাবে।

অ্যানথ্রপিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই নতুন ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কোনো প্রযুক্তির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ব্যবহারকারীরা যখন তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক বা কার্ডের তথ্য ক্লডের সাথে সংযুক্ত করবেন, তখন ডেটার নিরাপত্তা ও তথ্যের অপব্যবহার রোধে বিশেষ এনক্রিপশন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছামতো এই সুবিধাটি সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করতে পারবেন, যা পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা গ্রাহকের হাতেই রাখবে।

প্রযুক্তির এই অগ্রগতি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা বা পার্সোনাল ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বাজেটের হিসাব করতে হিমশিম খান অথবা আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান, তাদের জন্য ক্লডের এই নতুন ফিচারটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হবে। আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে আমাদের পকেট বা ওয়ালেটের হিসাব নিকাশ সহজ করে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধাটি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক অভ্যাসে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

সর্বশেষ
পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব নিরূপণে নতুন সুবিধা আনছে এআই চ্যাটবট ক্লড ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ চত্বর বাণিজ্যিক বিরোধ নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বার্তা চীনের জনগণ আর স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী পাল্লা বাড়ানোর ঘোষণা ইরানের: নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য রাজধানীর ভাটারা এলাকায় স্কুল বাসে অগ্নিসংযোগ ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস গুহায় পাওয়া প্রাগৈতিহাসিক বিশাল মুরগি, নতুন প্রজাতি ‘মেগাপোডিয়াস রোকুসি’ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বৈশ্বিক কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা আইনমন্ত্রীর