খুঁজুন
সোমবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গরমের রসালো ফল তরমুজে আমতলীর বাজার সয়লাব

মাইনুল ইসলাম রাজু ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
গরমের রসালো ফল তরমুজে আমতলীর বাজার সয়লাব
শীত বিদায় নিয়ে গরমের যাত্রা শুরু। একদিকে গরম অন্যদিকে মাহে রমজান। সারা দিন রোজা শেষে ইফতারিতে কি রসালো ফল তরমুজ না রাখলে চলে? গরম এবং রোজাকে সামনে রেখে অধিক মূল্য পাওয়ার আশায় আমতলীতে এবছর আগাম তরমুছ চাষ করেছেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছে ভালো। প্রতিদিন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত তরমুজ ট্রাক, ট্রলি টমটমসহ নানা বাহনে করে ক্ষেত থেকে নিয়ে আসছেন আমতলীর বাজারে। রবিবারও সোমবারে দু’দিন ধরে তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে আমতলীর বাজার। ইতোমধ্যে ফলের দোকান, সড়কের পাশ ধরে এবং কাঁচা বাজারে সাজিয়ে কিংবা ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রি করছেন রসালো এই ফল তরমুজ।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর আমতলী উপজেলায় ৪ হাজার ৪শ’ ৪১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২লক্ষ ১৪ হাজার ৬০ টন। মৌসুম শুরু এবং এখন পর্যন্ত ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবছর আশা কৃষি ভিাগের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইস্টিটিউটের প্রফেসর মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ,বি, সি পটাশিয়াম ও আঁশ। মৌসুমি এই ফলটিতে রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি৬’ এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিস্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। তরমুজে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে। এবং এতে পানি রয়েছে প্রচুর পরিমান তাই ইফতার শেষে তরমুজ খেলে দ্রুত পানি শূন্যতা পূরন হয় বলে মতও দেন তিনি। তাই ইফতারিতে রোজাদাররা অন্যান্য ইফতার সামগ্রীর সাথে পরিমিত তরমুজ ক্ষেতে পারেন অনায়াসে। এছাড়া নিয়মিত তরমুজ খেলে মাসুষ দীর্ঘজীবি হয়।
আমতলী পৌরসভার বাসিন্দা রোজাদার তরিকুল ইসলাম টারজন বলেন, ইফতারে রসালো ফল তরমুজ না রাখলে কি চলে? তাই তিনি প্রতিদিন এই ফল রাখছেন তার ইফতাওে সামগ্রীর সাথে।
সোমবার সকালে আমতলীর নতুন বাজার চৌরস্তা ঘুরে দেখা গেছে সড়কের দু’পাশ, ফলের দোকান, কাঁচা বাজারে প্রতিটি দোকানে ভরে গেছে তরমুজে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো বলে জানান ফল ব্যবসায়ী আরাফাত।
আমতলীর বাজারে তরমুজ নিয়ে আসা ধানখালীর কৃষক শাহীন জানান, এবছর ৪বিঘা জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছি খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছে এপর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। ক্ষেতে যে পরিমান তরমুজ আছে তাতে আরো ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
লোন্দা গ্রামের রিফাত গাজী বলেন ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ৬ লক্ষ টাকা বিক্রি হয়েছে। আশা করি এবছর খরচ বাদে ১০ লক্ষ টাকা লাভ করতে পারবো।
আমতলীর সোনাখালী গ্রামের হোচেন আলী খা চাওড়া ইউনিয়নে পাতাকাটা গ্রামে ৫৬ বিঘা জমি ১বছরের জন্য লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে ৮লক্ষ টাকার মত। তার ক্ষেত জুরে তরমুজে ভওে গেছে আর ২-৩ দিনের মধ্যে তরমুজ বিক্রি শুরু করবেন। তিনি জানান যে ভাবে ফলন ভালো হয়েছে তাতে ২০ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করা যাবে। তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে দাম বলছেন বনিবনা হলে ক্ষেতসহ একত্রে বিক্রি করে দেব।
আমতলী চৌরাস্তা নতুন বাজার এলাকার আড়ৎদার মো. আব্দুস ছালাম জানান, ছোট এবং মাঝারি সাইজের তরমুজ ১৮০ থেকে ২শ’ টাকা এবং বড় সাইজের তরমুজ আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, গত ২-৩ দিন ধওে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এবং কুয়াকাটা থেকে প্রচুর পরিমান তরমুজ আসছে বাজারে। দামও নাগালের মধ্যে বলে তিনি মনে করেন।
আমতলীর খোন্তাকাটা এলাকার খুচরা তরমুজ ক্রেতা আলী হোসেন জানান, এবছর দাম নাগলের মধ্যে আছে। এজন্য ২-১ দিন পর পর তরমুজ কিনে বাসায় নেই।
শহরের রিকসা চালক চান্দু গাজী বলেন, দাম কোম অওয়ায় পোলা মাইয়াগো লইগ্যা মাঝে মধ্যে দুই একটা তরমুজ কিনি।
আমতলী উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন জানান, তরমুজে লাভ বেশী হওয়ায় কৃষকরা অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ঠিকমত পরিচর্জা করলে ৩ মাসের মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ধানের পর আমতলীতে দ্বিতীয় ফসল হিসেবে তরমুজ চাষ করছেন চাষীরা। এবছর মৌসুমের শুরু থেকে কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লক্ষমাত্রার চেয়েও অধিক উৎপাদন হবে। রমজানে তরমুজের চাহিদা থাকায় কৃষকরা দামও পাচ্ছেন ভালো। আশা করি তরমুজি চাষীরা এবছর লাভবান হবে।

চাঁদপুর ভূঁইয়ার ঘাট ডিঙ্গি মাঝি সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
   
চাঁদপুর ভূঁইয়ার ঘাট ডিঙ্গি মাঝি সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন
চাঁদপুর ভূঁইয়ার ঘাট ডিঙ্গি মাঝি সমবায় সমিতি রেজি নং ৮৪০/চাঁদ ০৭ এর আগামী ৩ বছরের জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের বড় স্টেশন ভূঁইয়াঘাট নিজস্ব কার্যালয়ে কমিটি গঠন এর পূর্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতি করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রধানীয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম মিজির পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা সোলেমান প্রদানীয়া, মঞ্জিল হক খান, তফিল দেওয়ান, রহিম মিজি, সাবেক প্রচার সম্পাদক আলী হোসেন ও উপদেষ্টা মনির প্রধানীয়া।

আলোচনা সভা শেষে সমিতির সকল মাঝিদের সর্বো সম্মতিক্রমে ৬ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রধানীয়া, সহ সভাপতি জয়দল প্রদানীয়া, সাধারণ সম্পাদক, নিজাম মিজি, যুগ্ম সম্পাদক শেকুল মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন প্রদানীয়া ও প্রচার সম্পাদক বাসার দেওয়ান।

চাঁদপুরে সোনালী ব্যাংকের সিবিএ নেতা আবদুস সামাদ মিয়ার ইন্তেকাল—সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
   
চাঁদপুরে সোনালী ব্যাংকের সিবিএ নেতা আবদুস সামাদ মিয়ার ইন্তেকাল—সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোক
সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশন (সিবিএ) এর চাঁদপুর জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আবদুস সামাদ মিয়া (৫১) আর নেই। তিনি হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার মৃত্যু সংবাদে পুরো সোনালী ব্যাংক পরিবারসহ চাঁদপুরের সর্বস্তরের ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মোঃ আবদুস সামাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংক সিবিএ’র বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং সহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলির জন্য সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা এবং সংগঠনী কাজে আন্তরিকতার কারণে তিনি সহকর্মী ও পরিচিত মহলে ছিলেন জনপ্রিয়।

তার মৃত্যুতে সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশন (সিবিএ) চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেন, “মোঃ আবদুস সামাদ মিয়া ছিলেন সংগঠনের এক নিবেদিত প্রাণ। তার মতো একজন সৎ, পরিশ্রমী এবং অঙ্গীকারবদ্ধ নেতার মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

এদিকে, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও মরহুমের পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছেন। সবাই মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

ইফতি হোসেন ,চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনায় চট্টগ্রামে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে হযরত সুলতানুল আরেফিন বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে এ দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশের শান্তি-উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন—

  • শিল্পী আবুল হাশেম আজাদ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) ও সভাপতি, জিসাস চট্টগ্রাম মহানগর

  • মোঃ নুন নবী, সিনিয়র সহ-সভাপতি, জিসাস চট্টগ্রাম মহানগর

  • মোঃ শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক, তাঁতীদল চট্টগ্রাম মহানগর

  • ফয়সাল মাহমুদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল

  • মোর্শেদ আলম, সদস্য সচিব, বায়েজিদ থানা তাঁতীদল

  • তারেক সিদ্দিকী মুন্না, সাবেক সদস্য, বায়েজিদ থানা স্বেচ্ছাসেবক দল

  • মোঃ ওসমান গনি, নেতা, বায়েজিদ থানা যুবদল

  • তোফাজ্জল হোসেন সিদ্দিকী, নেতা, থানা শ্রমিকদল

  • গোলাম রাব্বানী ও আমিনুল ইসলাম মামুন

  • মোঃ ইফতি হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক, মহানগর জিসাস

  • মোহাম্মদ বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর জিসাস

এছাড়া মহানগর ও বিভিন্ন থানা ইউনিট থেকে আরও নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষও মিলাদ ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন।

মাহফিল শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।