বাংলাদেশে সফলভাবে সম্পন্ন আইকাও-এর অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি অডিট
বাংলাদেশের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে পরিচালিত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি অডিট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলটির অডিট কার্যক্রম শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আইকাও প্রতিনিধিদলের সম্মানে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অডিট কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং আইকাও-এর নীতিমালা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে প্রতিনিধি দল। অডিট চলাকালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামোগত খুঁটিনাটি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সার্বিক কার্যক্রমও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে আইকাও প্রতিনিধি দল।
বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত ব্যবধানে আইকাও সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে এ ধরনের অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। বাংলাদেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অডিট দলের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের বিমান চলাচল আরও নিরাপদ ও বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তা অডিটের প্রতিটি পর্যায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান পরিবহন খাতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে আরো সুসংহত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই অডিট কার্যক্রম দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অডিট প্রক্রিয়া চলাকালে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে অডিটের বিশদ প্রতিবেদন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে আইকাও তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা উন্নতির কোনো ক্ষেত্র থাকলে তা উল্লেখ করা থাকবে। আপাতত অডিট সম্পন্ন হওয়ার সংবাদে দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য ইতিবাচক দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নিরাপদ আকাশ ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের চলমান প্রচেষ্টা এই অডিট কার্যক্রমের মাধ্যমে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]