রাজধানীর ব্যস্ততম এক জনপদে প্রকাশ্যে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন এক বিএনপি নেতা এবং তার সঙ্গে থাকা তিন ছাত্র। হামলায় অংশ নেওয়া ঘাতক চক্রটিকে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে দেশি ধারালো অস্ত্র, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটিকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আক্রান্ত বিএনপি নেতা দলীয় কাজে এবং নিজ এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন ছাত্র। পথিমধ্যে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাদের ওপর চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন নৃশংস হামলার দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ পথচারীরা। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, হামলাকারীদের ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা হয়েছিল। এই অর্থের উৎস এবং কারা এই ভাড়াটে ঘাতকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল, তা বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার পরপরই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।
আহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ছিল। তবে এমন প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার বিষয়টি ছিল একেবারেই অভাবনীয়। দলের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারল এবং নির্ভয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জখম হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপর তিন ছাত্রের অবস্থাও স্থিতিশীল নয়। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলোকে দমন করতে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুতই রহস্য উন্মোচিত হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৪ পূর্বাহ্ণ