মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে একটি বেসরকারি হোটেলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। হোটেলের বর্জ্য চেম্বার বা স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারা মারা যান। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, শনিবার গভীর রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা চেম্বার পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকদের নিযুক্ত করেছিল। কাজ চলাকালীন চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন শ্রমিকরা। ভেতরে থাকা কোনো ব্যক্তি বের হতে না পারায় এবং তীব্র গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে তারা অচেতন হয়ে পড়েন। এর ফলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই উদ্ধার অভিযানে আরও একটি বিপত্তি ঘটে। চারজনকে উদ্ধার করতে চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করেন আরও দুজন। কিন্তু তারাও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের তড়িঘড়ি করে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার পর তাদের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা মিথেন বা অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শ্রমিকদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ ঘটনার পর হোটেলের মালিক ও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পরিষ্কারের কাজে বিশেষ সুরক্ষামূলক পোশাক ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না। এই অবহেলার কারণে মূল্যবান প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল। ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলকেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এই মুহূর্তে শোকের মাতম চলছে। প্রশাসন তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, ওই হোটেলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষও তদন্ত চালাচ্ছে। শহরের অন্যান্য হোটেলের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন