খুঁজুন
, ,

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে সিনেমা হলের সোনালী দিন

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Tuesday, 11 November, 2025, 11:09 pm
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে সিনেমা হলের সোনালী দিন

‘চলিতেছ… চলিতেছে..’ এবং পরবর্তী আকর্ষণ ‘আসিতেছে….’ আসিতেছে…’  সাথে ছায়াছবির সংলাপ। একসময়ে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। তখন মানুষ পরিবার পরিজনসহ দল বেঁধে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যেতো। কিন্তু বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় টেলিভিশন, ক্যাবল লাইন, স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের দাপটে হারিয়ে গেছে সিনেমা হলের বড় পর্দায় সিনেমা দেখার পুরোনোঐতিহ্যের সোনালি সেই দিনগুলো।

নব্বইয়ের দশকে দর্শকদের কাছে সিনেমা হলে চলা সিনেমার বার্তা প্রচারের জন্য রিকশায় মাইক ঝুলিয়ে রিকশার দু’পাশে চাটাইয়ে পোস্টার ঝুলিয়ে এলাকার মূল সড়ক, গ্রাম-গঞ্জের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার আনাছে-কানাছে, মাইকিংয়ে, মাইকিংয়ে ছিলো জাঁকজমকপূর্ণ। রিকশায় বসা মাইকিং ম্যানের কন্ঠে বিভিন্ন আওয়াজে ভেসে আসতো ফাইট, এ্যাকশান, সংলাপ, হাঁসি-কান্না, ও বাংলা ছায়াছবির গানের ফাঁকে, ফাঁকে বলা হতো- চলিতেছ… চলিতেছে.. এবং পরবর্তী আকর্ষণ আসিতেছে.. আসিতেছে.. ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন ছায়াছবির পোস্টারিং ছিলো বিদ্যুতের খুটি, দেয়ালে, রাস্তার ধারে ধারির চাটাইয়ে। অথচ কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সেই আওয়াজ করা বাংলা ছায়াছবির মাইকিং আর শুনা যায় না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা হয় না বাংলা ছায়াছবির পোস্টারিং। হলগুলোতে তখন সময়ের কাটা হিসেব করে দিন-রাত চলতো একের পর এক শো। মর্নিং শো- দুপুর ১২ টায়, ইভিনিং শো- সন্ধ্যা ৬ টায় এবং রাত ১২ টায় নাইট শো চলতো হলগুলোতে। মফস্বলের হলগুলোতে বসার সিটগুলোকে তিন স্তরে ভাগ করা হতো (ডিসি, প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি) দর্শকের সংখ্যা বেশি হলে কখনো কখনো হলের সামনে সাইনবোর্ডে টানানো হতো হাউসফুল।

দর্শক, সিনেমা হল মালিক ও সিনেমা হল সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বললে তারা জানান, নব্বইয়ের দশক ছিলো বাংলা সিনেমার সোনালী যুগ। তবে সময়ের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে বড় পর্দায় সিনেমা দেখার কদর, হারিয়ে গেছে সিনেমা হলের যৌবন-জৌলুশ। টেলিভিশন, মোবাইল, ইন্টারনেটের দাপটে দিন দিন দর্শক ভাটা পড়েছে এক সময়ের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম সিনেমা হলগুলোতে। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে সিনেমা হলগুলো আধুনিক যুগের স্রোতের সাথে তাল মিলাতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ সিনেমা হল।

তারা বলেন, সিনেমা হলগুলো হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানো নয় বরং একটি ঐতিহ্য, একটি মিলনমেলা, একটি যুগের স্মৃতিকে হারিয়ে ফেলা। নতুন প্রজন্মের কাছে এই হলগুলোর অস্তিত্ব অজানাই থেকে যাচ্ছে। অথচ সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এগুলোকে ফিরিয়ে আনা যেতো নতুন রূপে, নতুন প্রাণে।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের স্থানীয় বাসিন্দা ও সিনেমা প্রেমী মো. কামরুজ্জামান, বেলাল হোসেন, বাউসী এলাকার সাজ্জাদ মিয়া, মুকুল সরকার, বিক্রমশ্রী এলাকার জানু মিয়া, সাহতা এলাকার আক্কাস আলী, মনোরঞ্জন দাসের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, আমাদের বারহাট্টায় একটি মাত্র সিনেমা হল ছিল (মাধবী) পরে মালিকানা পরিবর্তন হয়ে ‘আঁচল’ নাম হয়েছিল। এই সিনেমা হলটি শুধু বিনোদনের জায়গা ছিল না, ছিল মানুষের সম্পর্ক গড়ার কেন্দ্রস্থল। আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবার সবকিছুরই সূচনা হয়েছে এই হলকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের বিনোদনের একমাত্র সিনেমা হলটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে বর্তমানে বসত বাড়িতে পরিনত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, আমাদের উপজেলার অন্যতম পুরোনো ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন কেন্দ্র হিসাবে একটি মাত্র সিনেমা হল’ই ছিল। বারহাট্টার হল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনগঞ্জে তিনটা হলে (দিলশাদ, মিতালী ও কংকন) এবং নেত্রকোনা শহরেরর দুইটা হলে (হাসনা, হেনা) পরবর্তীতে দুইটা মিলে হীরামন নামকরণ করা হয়। আমরা সমবয়সী বন্ধুরা মিলে সিনেমা দেখতে যেতাম হলগুলোতে। শুক্রবার থেকে শুরু করে ঈদ কিংবা পূজার ছুটিতে সিনেমা হলগুলোতে উপচে পড়ত দর্শকের ভিড়। সেইসব দিনে দর্শকেরা দেখতে পেতেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের সিনেমার জনপ্রিয় জসিম, রাজ্জাক, আলমগীর, শাবানা, সুচরিতা, কবরী কিংবা আধুনিক যুগের মান্না, সালমান শাহ’র অভিনীত সিনেমা। সে সময়ে পরিবার, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে হলমুখী হওয়া ছিল এক সামাজিক মেলবন্ধনের উপলক্ষ্য। শুধু সিনেমা দেখা নয়, বরং এটি ছিল এক ধরনের আনন্দ উৎসব। কিন্তু সময় এখন বদলেগেছে।

উপজেলার রায়পুর গ্রামের রিকশা চালক মৌজ আলী (৭০), নিবারণ দাস (৭৫) ও ডেমুরা গ্রামের ভ্যান চালক নান্টু মিয়া, দশাল গ্রামের বাস হেলপার জজ মিয়া বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সিনেমা হলের চারপাশে মানুষের ভীড় আর চিৎকার চেঁচামেচিই জানান দিতো সিনেমা হলে চলছে নতুন কোন ছবি। যার জন্য সিনেমা প্রেমী উৎসুক দর্শকের হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকতো পুরো সিনেমা হলের আশপাশের এলাকা কিন্তু বর্তমানে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন খুবই কষ্ট লাগে।

কথা হয় সত্তর বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বিধান চন্দ্র দাসের সাথে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একসময়ে বিশেষ কোনো উপলক্ষে বা বিশেষ ছবি মুক্তি পেলে দর্শকরা সিনেমা হলের টিকিট কাউন্টারে লাইন ধরত। টিকিট পেতেও অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। সিনেমা শুরু হলে ছায়াছবির বিশেষ কোনো দৃশ্য পর্দায় ভেসে উঠলে করতালিতে ভরে যেত পুরো হল। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘দাঙ্গা’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘জজ- ব্যারিস্টার’, ‘বেদের মেয়ে জোসনার মতো জনপ্রিয় ছবিতো দুই-তিন সপ্তাহ জুড়ে চলেছে। সেই সিনেমা হলগুলো তো এখন অস্তিত্বহারা। আঁচল, দিলশাদ, মিতালী, কংকন, হীরামন সিনেমা হলের মতো বেশিরভাগ সিনেমা হলই তো এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আসলে দেশি সিনেমায়-ই তো এখন দুর্দিন চলছে।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সী সিনেমাপ্রেমী ইকবাল মিয়া বলেন, বড় পর্দায় সিনেমা অনেক দেখেছি। টিকিট কেটে দেখেছি, টিকিট ছাড়াও দেখেছি যা এখন শুধুই স্মৃতি। আজও মনেপড়ে ঈদের দিন কিংবা শুক্রবারে একটি টিকিটের জন্য গরমে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছি। শতজনের পিছনে লাইনে থেকে ঘন্টা খানেক পর টিকিট পেয়ে আনন্দ পেয়েছি। ভীড়ের মধ্যে ছাড়পোকার কামড়ে সিনেমা দেখে ঘামে শরীর ভিজে একাকার হলে শার্ট খুলে চিপে আবার গায়ে দিয়েছি। কিন্তু শত কষ্ট হলেও সিনেমা দেখা বন্ধ করিনি। সেই সময়ের কষ্টের স্মৃতি আমাদের জীবনে মধুর আনন্দের স্মৃতি।

এই বেহাল দশা নিয়ে আঁচল সিনেমা হলের মেশিন অপারেটর খাদেম আলী জানান, আমি ৪০ বছর আগে সিনেমা হলের অপারেটরের কাজ করেছি। সিনেমা হলে দর্শক না আসায় সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি এ পেশা ছেড়ে ঢাকাতে কোম্পানিতে কাজ করছি।

এই সিনেমা হলের আরেক স্টাফ গেটম্যান কার্তিক সরকার জানান, আমি.আঁচল সিনেমা হলে ৩৫ বছর চাকরি করেছি। পুরনো এই হলটা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই জীবন চালাতে অন্য পেশা বেছে নিয়েছি।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক বলেন, আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আমরা হয়ত চাইলেই সিনেমা দেখতে পারি হাতে ধরা মোবাইলের পর্দায়। কিন্তু হলের অন্ধকার ঘরে একসঙ্গে শ’খানেক মানুষের হাসিকান্না ভাগ করে নেওয়ার যে অভিজ্ঞতা, তার তুলনা নেই। সেই অভিজ্ঞতা, সেই ঐতিহ্যই যেন হারিয়ে না যায় এটাই সময়ের দাবি।

দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 4:13 pm
   
দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:  দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।

রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে  কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে।

আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।

ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার,

একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে

আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

তরুন রানার এলিন খান বলেন,  একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে  ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা,

অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।

একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান,

তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়;

৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।

ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”

পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 9:37 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু সাঈদ নূর আলম বাবু। নতুন এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে সংগঠিত ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভূল্লী উপজেলা থেকেই ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবু বলেন, “আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। সকলের সহযোগিতা নিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করতে চাই। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভূল্লী উপজেলা থেকে ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা করি।”

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 3:16 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আলম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৭ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নূর আলম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া-শিলুলতলা এলাকার মো. সুফিয়ার রহমানের ছেলে। ডিবি পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো সংক্রান্ত ২০টি অ্যাপ পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নূর আলমের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় এর আগে তাকে রংপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, নূর আলম রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।