চীন সফররত কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মন্ত্রী লিউ হাইশিং ঢাকা সফরে এসেছেন। মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিনিধিরা। এই কূটনৈতিক সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে লিউ হাইশিংকে বহনকারী বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করে। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে বিমানবন্দরে উপস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধি দলে দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে চীনের এই উচ্চপদস্থ নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন বিএনপি নেতারা। দুই পক্ষের মাঝে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের দৃশ্যটি কূটনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিমানবন্দরে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে এয়ার ভাইস মার্শালসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। চীনা এই মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে লিউ হাইশিংয়ের এই সফর বাংলাদেশের সাথে চীনের চলমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করবে। বিশেষ করে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির পক্ষ থেকে এই অভ্যর্থনা দলের সাথে চীনের নেতৃত্বের যে যোগাযোগ ও সখ্যতা রয়েছে, সেটিই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চীনা মন্ত্রীকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর আবাসস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে অবস্থানকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীনের এই সফর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির প্রতিনিধি দল তাকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে চীনকে এটি বার্তা দিচ্ছে যে, তারা দুই দেশের বন্ধুত্বের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
আগামী কয়েক দিন লিউ হাইশিং ঢাকা অবস্থানকালে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করতে পারেন। এই সফর শেষ হলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও নতুন কোনো ক্ষেত্র উন্মোচন হবে কি না, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা চলছে। তবে সার্বিকভাবে এই সফর কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা বয়ে আনছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]