খুঁজুন
, ,

গণশুনানি কি কেবল এলপিজির দাম বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিকতা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
গণশুনানি কি কেবল এলপিজির দাম বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিকতা

এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এর ওপর নির্ভরশীল দেশের সিংহভাগ পরিবার। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই জনমনে এক গভীর সংশয় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইন অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে সব পক্ষের মতামত নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এই প্রক্রিয়াটি কেবল দাম বৃদ্ধির একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। গণশুনানির নামে যে নাটকীয়তা চলে, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকের ঘাড়ে বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই খাতে তিনটি বড় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রতিটি শুনানিতেই ঘুরেফিরে দাম বাড়ানোর সুপারিশ বা প্রস্তাব এসেছে। এর বিপরীতে দাম কমানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা এমন কোনো জোরালো প্রস্তাব সাধারণত দেখা যায় না। যখনই কোনো কোম্পানি বা সংস্থা শুনানিতে অংশ নেয়, তখন তাদের মূল এজেন্ডা থাকে ব্যয় বৃদ্ধি ও মুনাফার অজুহাত দেখিয়ে গ্যাসের দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধির দাবি জানানো। গ্রাহক পর্যায়ে এই বর্ধিত মূল্য কতটুকু সহনীয় হবে বা তাদের জীবনযাত্রায় এর কী প্রভাব পড়বে, তা যেন গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সর্বশেষ শুনানির প্রসঙ্গটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। সেখানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১৩৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এই ধরনের বিশাল অঙ্কের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা চাপ সৃষ্টি করে, তা স্পষ্ট। গণশুনানির মূল চেতনা ছিল স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। কিন্তু যখন প্রতিটি শুনানিতেই কেবল দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসে এবং তা অনুমোদনের পথ প্রশস্ত হয়, তখন এই শুনানির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এটি কি কেবল কোম্পানিগুলোর বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করার একটি আইনি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর উচিত কোম্পানিগুলোর খরচ ও মুনাফার হিসাব নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। কিন্তু বারবার একই ধারার দাম বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, যথাযথ যাচাই-বাছাই বা গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় ঘাটতি রয়ে গেছে। যদি প্রতিটি শুনানিতে দাম বৃদ্ধির সুপারিশই প্রাধান্য পায়, তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? জ্বালানি খাতের অস্থিরতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ লাঘব করতে এই প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। কেবল দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বরং কীভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি নিশ্চিত করা যায় এবং জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অব্যবস্থাপনা কমিয়ে খরচ কমানো যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। অন্যথায়, গণশুনানি নামক এই প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের কাছে কেবল এক অসার ও হতাশাজনক অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে, যা কোনোভাবেই একটি জনবান্ধব অর্থনীতির কাম্য হতে পারে না।

উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে আসন সংকট হবে না: আশ্বস্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে আসন সংকট হবে না: আশ্বস্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। দেশের প্রতিটি কৃতকার্য শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত আসন রয়েছে এবং কাউকে ভর্তি বঞ্চিত হতে হবে না বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন। চলমান ভর্তি মৌসুমকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করতে সরকারের এই অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।

চলতি বছর সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। বিপুল সংখ্যক এই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহ এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ আসন খালি রয়েছে, তা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে বেশি। ফলে আসন সংখ্যার সংকট বা ভর্তির সুযোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন যে, মেধা এবং পছন্দের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তির প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সহজতর হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত ভালো ফল করেছে, তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তাদের নিকটস্থ কিংবা পছন্দসই কলেজে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে। শিক্ষার গুণগত মান ধরে রেখে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এবং তথ্য প্রদানের জন্য প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে বিশেষ হেল্পডেস্ক খোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে। যদি কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে তারা যেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সহায়তা নিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা হাজারো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের এই স্বপ্ন পূরণে সরকার প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির সময়সীমা এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোতে প্রকাশিত হবে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামগ্রিক ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে যাতে কোনো শিক্ষার্থীই হয়রানির শিকার না হয়। শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধার মূল্যায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ সাউরির নতুন সিসিটিভি ফুটেজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ সাউরির নতুন সিসিটিভি ফুটেজ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরিকে নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের জট যেন কাটছে না। সম্প্রতি তার গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড ঘিরে নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘটনার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় তাকে দেখা যায়। ওই সময় তিনি একা ছিলেন না, বরং তার সঙ্গে কয়েকজন বন্ধুকেও দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্বাভাবিকভাবেই ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে, তবে এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বিষয়টিকে সাধারণ কোনো চলাফেরা হিসেবে দেখছে না সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা।

উত্তরা এলাকায় রেকর্ড হওয়া এই ভিডিও ফুটেজটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে তাহসিফ সাউরি এবং তার বন্ধুদের মধ্যকার কথোপকথন বা তাদের গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা না গেলেও, তাদের উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ঘটনার সময় এবং স্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাত গভীর হওয়ার প্রাক্কালে তারা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে চলাফেরা করছিলেন। ভিডিও ফুটেজের দৃশ্যগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, তারা কোনো একটি বিষয়ে আলাপ করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাহসিফ সাউরির বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাহসিফ সাউরির সাম্প্রতিক গতিবিধি পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি সাধারণ ভিডিও চিত্র নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার দিন রাতের ওই সময়ে তারা কোন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন কিংবা ওই এলাকায় তাদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। তাহসিফ সাউরি এর আগে আলোচনায় আসার পর থেকেই তার প্রতিটি পদক্ষেপ জনমনে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। এই সিসিটিভি ফুটেজটি সেই কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা এখন এই ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য যোগসূত্রগুলো খোঁজার চেষ্টা করছেন। অপরাধ বা ঘটনার তদন্তে সাধারণত সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেক্ষেত্রে তাহসিফ সাউরির এই ফুটেজটিও তদন্তের প্রয়োজনে একটি বড় দলিল হতে পারে। উত্তরা এলাকার নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ওই সময়ের আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত তাহসিফ সাউরি বা তার পক্ষ থেকে এই নতুন ফুটেজ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এই ফুটেজটি বড় ধরনের সহায়তা করবে বলে আশা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা দেখার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন।

রাজপথে সক্রিয় বিরোধী জোট: বিভাগীয় পর্যায়ে লং মার্চ কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজপথে সক্রিয় বিরোধী জোট: বিভাগীয় পর্যায়ে লং মার্চ কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি

রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বিরোধী জোট। দীর্ঘমেয়াদী দাবির ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১টি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমঞ্চ বিভাগীয় শহরগুলোতে লং মার্চ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। গণভোটের রায় কার্যকর করা, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সারের ক্রমবর্ধমান সংকট নিরসনের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দিতেই রাজপথে নেমেছে বিরোধী এই জোট।

চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লং মার্চের মধ্য দিয়ে এই নতুন ধারার আন্দোলনের সূচনা হয়। ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনের গতি বাড়িয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় দফায় লং মার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়। সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়া রুটে তৃতীয় দফার লং মার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রতিটি লং মার্চেই তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে, যা বিরোধী দলের শক্তির জানান দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে রাজপথের এই কর্মসূচিগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। লং মার্চের যাত্রাপথে পথসভা ও জনসমাবেশের মাধ্যমে সরকারবিরোধী জনমত গঠনের চেষ্টা করছে এই জোট। প্রতিটি লং মার্চে স্থানীয় জনসাধারণের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সরকারের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরার মাধ্যমে তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করার পাশাপাশি সরকারকেও চাপে ফেলার কৌশল অবলম্বন করছে।

তবে, বিরোধী দলের এই সক্রিয়তার বিপরীতে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন বা রাষ্ট্র সংস্কারের পথে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলো এখন রাজপথের এই কর্মসূচিকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। সাধারণ মানুষের দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে যখন এই লং মার্চগুলো পরিচালিত হচ্ছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকেও পাল্টা কর্মসূচি বা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং দুর্নীতিবিরোধী নানা ইস্যুতে বিগত কয়েক মাস ধরেই রাজপথে সরব রয়েছে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো। ঢাকা থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে এই লং মার্চগুলো মূলত সেই আন্দোলনের একটি সম্প্রসারিত রূপ। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকাংশেই এই লং মার্চের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে। এখন পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারি লক্ষণীয়। বিভাগীয় শহরগুলোতে এই লং মার্চের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাল এবং ক্ষমতাসীনরা এর জবাবে কী কৌশল গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন সবার নজর।

সর্বশেষ
উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে আসন সংকট হবে না: আশ্বস্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ সাউরির নতুন সিসিটিভি ফুটেজ রাজপথে সক্রিয় বিরোধী জোট: বিভাগীয় পর্যায়ে লং মার্চ কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি মুমতাহিনা টয়া ও বন্ধুরা লালাখালে আনন্দময় ভ্রমণ, ৮টি ছবি প্রকাশ ইদে দেশে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন দুই প্রবাসী সিরিয়া মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাইবার অপরাধের পথ বেছে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া গণশুনানি কি কেবল এলপিজির দাম বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিকতা বিশেষ চিঠির আড়ালে মানবিক আর ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ বিভাজন না চাইলে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ও সমঝোতা অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement