খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ, মাজারের খুঁটি ভাঙচুর

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ, মাজারের খুঁটি ভাঙচুর

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে কবরস্থানের গাছ কাটা ও মাজারের সিমেন্টের খুঁটি এবং সাইনবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক পক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ এবং অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কেটে রাখা গাছ সরিয়ে নেওয়া ও মাজারের স্থাপনা ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে পার্শ্ববর্তী আদর্শ বাজারের কাছ থেকে কর্তন করা গাছগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলাধীন শুখানপুকুরী ইউনিয়নের পশ্চিম শুখানপুকুরী (মুন্সিপাড়া) গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম শুখানপুকুরী (মুন্সিপাড়া) এলাকায় ২ একর ৩৬ শতক খাস খতিয়ানভুক্ত জমির মধ্যে জান্নাতুল বাকী নামে একটি কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানটির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. ইউনুছ আলী (৫০)। তিনি ওই গ্রামের সদরুপাড়ার মৃত সদরুর ছেলে।

কবরস্থানের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে প্রায় ১৮-১৯ বছর আগে মারা যাওয়া হযরত শাহ সুফি শেখ নমির উদ্দিন পীর সাহেবের কবর রয়েছে। তাঁর পিতার নাম মৃত হাবিল উদ্দিন মুন্সী। পরিবারের সদস্যরা ওই কবরকে মাজার শরিফ হিসেবে নামকরণ করেছেন। তাঁর ১০ ছেলের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন জীবিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অষ্টম ছেলে মো. বেলাল হোসেন ও তাঁর আপন খালাতো ভাই মো. মনছুর আলী মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ ও ২৮ অক্টোবর বেলাল হোসেন তাঁর অন্য ভাইদের নিয়ে মাজারের পাশে থাকা ছয়টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে কবরস্থানের সভাপতি ইউনুছ আলীর বড় ভাই মো. দারাজ উদ্দিন (৬০) এবং কবরস্থান পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা সেখানে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন। এ সময় মাজারের লোকজন কাটা গাছগুলো সেখানে রেখেই চলে যান।

এরপর গত ২৯ অক্টোবর রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কেটে রাখা গাছগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে মাজারের সিমেন্টের খুঁটি ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মাজারের খাদেম মো. বেলাল হোসেন ও মো. মনছুর আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, কবরস্থানের সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা কেটে রাখা গাছগুলো নিয়ে গেছেন এবং মাজারের খুঁটি ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন বলেন, ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচন থাকায় দিনভর নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে তাঁরা বাড়িতে ফিরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁরা কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁদের দাবি, হয়রানি ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ নিজেরাই এমন ঘটনা সাজিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

কবরস্থানের সভাপতি ইউনুছ আলী জানান, কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তাঁরা নিজেরাই এসব ইউক্যালিপটাস গাছ রোপণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো কবরস্থানের জায়গায় বেড়ে উঠছিল। তাঁদের দাবি, কমিটির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই মাজারের লোকজন ছয়টি গাছ কেটে ফেলেছেন। এতে তাঁরা বাধা দিলে পরবর্তীতে কাটা গাছ বিষয়ে নির্বাচনের পরে স্থানীয় ভাবে বসার কথা ছিল।

আরও বলেন, রাতের আঁধারে কাটা গাছ সরিয়ে নেওয়া এবং মাজারের খুঁটি ও সাইনবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

খবর পেয়ে ভূল্লী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ অভিযোগকারী, মাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পার্শ্ববর্তী আদর্শ বাজারের কাছ থেকে কর্তন করা গাছগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কবরস্থান ও মাজারের জায়গা, গাছপালা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ও মতবিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া মাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কবরস্থান ও মাজারের মতো ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে স্পর্শকাতর স্থাপনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ভূল্লী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী আদর্শ বাজারের কাছ থেকে কর্তন করা গাছগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুতে অবশেষে হত্যা মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
   
সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুতে অবশেষে হত্যা মামলা

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার মোড় ঘুরে গেল নতুন পথে। তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাহসিফের এক বন্ধুকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এর পেছনে থাকা রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে তুরাগ নদের পানি থেকে তাহসিফের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানামুখী গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। এখন মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আরও গতিশীল হলো। পুলিশের ভাষ্যমতে, দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তের স্বার্থে তাহসিফের বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রাতে কিংবা মৃত্যুর আগে তাহসিফের সাথে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

নিহতের বাবা বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেছেন, সেখানে ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং সন্দেহের কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। মামলার এজাহারে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং কাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, দীপকে আটক করে ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা বা এই ঘটনার পেছনের অন্য কোনো মোটিভ আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তার মৃত্যুর ঘটনাটিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তুরাগ নদ সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ওই রাতে তাহসিফের চলাফেরার তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে পরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত থাকতে পারে, যা পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী দলের প্রধান জানিয়েছেন যে, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্য উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরণের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছে। মামলার বাদীপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীরা আইনের আওতায় আসবে এবং তারা ন্যায়বিচার পাবেন।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও তাহসিফের স্বজনরা। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিটি ব্যাংকের মুনাফা ৮৬৭ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিটি ব্যাংকের মুনাফা ৮৬৭ কোটি টাকা

দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় সিটি ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৮৬৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নয় মাসে ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মুনাফার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফার পরিমাণ ছিল ৭২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সিটি ব্যাংকের মুনাফায় ১৪৫ কোটি টাকার প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা শতকরা হিসেবে ২০ শতাংশের বেশি।

সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের তিন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এই ইতিবাচক আর্থিক ফলাফলের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে অর্জিত আয়। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে ব্যাংকটি ৩ হাজার ২ কোটি টাকা আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে ২২৭ কোটি টাকা বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে ৮ শতাংশেরও বেশি।

পাশাপাশি ব্যাংকটির প্রকৃত সুদ আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও আর্থিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটি প্রকৃত সুদ আয় করেছে ৩২৪ কোটি টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৬৯ কোটি টাকা। মূলত ঋণের বিপরীতে সুদ আয় বৃদ্ধির কারণেই প্রকৃত সুদ আয়ের ক্ষেত্রে এই বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঋণের সুদ বাবদ ব্যাংকটি ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের বছরের ৪ হাজার ২৬ কোটি টাকা থেকে ২২৯ কোটি টাকা বেশি।

অন্যদিকে, ঋণের বিপরীতে সুদ আয় বাড়লেও আমানতের ওপর সুদ প্রদান বা খরচ বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আমানতকারীদের সুদ বাবদ ব্যাংকটি ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই খরচের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমানত সংগ্রহের বিপরীতে খরচ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকটি ঋণের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের মাধ্যমে মুনাফায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর শেষে সিটি ব্যাংক মোট ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। চলতি বছরের তিন প্রান্তিকের এই আর্থিক ফলাফল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক হিসেবে আগামী রোববার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির এই মুনাফা অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও কর্মদক্ষতার প্রতিফলন। আগামী দিনগুলোতে ব্যাংকটি এই ধারা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আর্থিক বিশ্লেষকদের আগ্রহ রয়েছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, অকৃতকার্য ৩১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, অকৃতকার্য ৩১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এবারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কোনো বিষয়ে পাস করতে সক্ষম হয়নি, যা স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভাগের ছয়টি জেলার মোট ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩১ হাজার ৯৯ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী সফল হতে পারেনি। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি বোর্ডের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। পুরো বোর্ড থেকে এবার মাত্র ৯৫০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সক্ষম হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় বেশ কম।

ফলাফলের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডটি এবার পাসের হারের দিক থেকে যেমন পিছিয়ে আছে, তেমনি সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে এই সামগ্রিক ব্যর্থতার মধ্যেও ব্যতিক্রমী কিছু ফলাফল দেখা গেছে। বোর্ডের অধীনে থাকা ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা হতাশাজনক। অন্যদিকে, বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজের ক্ষেত্রে। শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করার গৌরব ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার ফলাফলের এই ধস শুধু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং সামগ্রিক পাঠদান প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকেও নির্দেশ করে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়াটা একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। কেন এত বড় একটি অংশ পাস করতে ব্যর্থ হলো এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বরিশাল অঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের বর্তমান পাঠদান পদ্ধতি ও কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ড এখন এই ব্যর্থতার কারণগুলো বিশদভাবে বিশ্লেষণের পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আপাতত এই ফলাফল যে সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই একটি বড় ধাক্কা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয়, আগামীতে বরিশাল বোর্ড এই ফলাফল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কোন কৌশল গ্রহণ করে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসে কি না।

সর্বশেষ
সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুতে অবশেষে হত্যা মামলা চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিটি ব্যাংকের মুনাফা ৮৬৭ কোটি টাকা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, অকৃতকার্য ৩১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভয়ঙ্কর ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ, নিখোঁজ তরুণের সন্ধানে তল্লাশি শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন: শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মন্তব্য তাহসিফের মৃত্যুর মামলায় নৌ‑পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় অতিষ্ঠ হয়ে গলায় ফাঁস দিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ, মাজারের খুঁটি ভাঙচুর এইচএসসি পরীক্ষায় বিদেশের কেন্দ্রে নজরকাড়া সাফল্য, পাসের হার নব্বই শতাংশের বেশি মিরপুরে ধুঁকছে বাংলাদেশ, জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
Advertisement