খুঁজুন
, ,

লালমনিরহাটে লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়ানো চিতা বাঘের রহস্যভেদ অধরাই

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়ানো চিতা বাঘের রহস্যভেদ অধরাই

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে গত ২৫ অক্টোবর তিনজনকে আহত করার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল পুরো এলাকায়। কিন্তু ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারী চিতা বাঘটির আর কোনো সন্ধান মেলেনি। বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা টানা চার দিন ধরে এলাকাটিতে অভিযান চালিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। বর্তমানে বাঘটি কোথায় অবস্থান করছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়ে গেছে প্রবল উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৫ অক্টোবর বিকেলে। ওইদিন আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা শরীফা বেগম তার পোষা ছাগল চরাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে ঘরে ফেরার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, তার ছয়টি ছাগলের মধ্যে একটি অনুপস্থিত। হারিয়ে যাওয়া ছাগলটির সন্ধানে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় যান। ঠিক তখনই ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে আক্রমণ করে একটি চিতা বাঘ। বাঘের আক্রমণে শরীফা বেগম গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা স্থানীয় আরও দুজনকেও বাঘটি আক্রমণ করে আহত করে। ঘটনার পরপরই বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের চার সদস্যের একটি বিশেষ দল ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা স্থানীয় বনসহ আশপাশের পাঁচটি ইউনিয়নজুড়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালান।

তদন্তকারী দলের অন্যতম সদস্য ও বন্য প্রাণী পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত পায়ের ছাপ এবং ছাগলের শরীরে আঘাতের ধরন বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি একটি চিতা বাঘই ছিল। বাঘটির আক্রমণে ওই ছাগলটি মারা গিয়েছিল। তবে বাঘটির অস্তিত্ব খুঁজে পেতে তারা ব্যর্থ হন। অনুসন্ধানের পর গত শুক্রবার দলটি ঢাকায় ফিরে এসেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, বাঘটি সম্ভবত সীমান্ত পেরিয়ে পুনরায় ভারতের ডুয়ার্স বা বক্সারের জঙ্গলে ফিরে গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ আস সাদিক জানান, আমঝোল সীমান্তের ওপারে ভারতের অংশে শালবন, বাঁশঝাড় এবং বড় শিমুল ও সেগুন গাছ রয়েছে। চিতা বাঘ অত্যন্ত চটপটে প্রাণী এবং অনায়াসেই গাছে উঠতে পারে। হয়তো কোনো গাছ বেয়ে সে কাঁটাতারের বেড়ার ওপরে উঠে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করেছিল। কারণ, কাঁটাতারের বেড়া এমনভাবে তৈরি যে নিচ দিয়ে বাঘের প্রবেশের সম্ভাবনা প্রায় নেই। বন্য প্রাণী বিভাগের এই ধারণাটি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত করতে পারছে না। কারণ বাঘটি যদি এখনো বাংলাদেশের সীমানার ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে থাকে, তবে যেকোনো সময় আবার বিপদের সম্মুখীন হতে পারে গ্রামবাসী।

এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে আমঝোল ও এর আশপাশের এলাকার জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। মানুষ এখন সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের পশুপালন বা কৃষিকাজের জন্য বাইরে যেতে হয়, তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি। প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বাঘটির কোনো স্থায়ী হদিস না মেলায় আতঙ্ক যেন কাটছে না গ্রামবাসীদের। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এ ধরনের বন্য প্রাণীর আনাগোনা নতুন নয়, তবে লোকালয়ে ঢুকে আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক। বন বিভাগ এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোর কথা ভাবছে। আপাতত পুরো এলাকাটিতে এক ধরনের গা ছমছমে নীরবতা বিরাজ করছে, আর সবাই তাকিয়ে আছে কখন নিশ্চিত হওয়া যাবে যে বাঘটি আর সীমানার ধারেকাছে নেই।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পালা শেষ হচ্ছে আজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফল প্রকাশের কার্যক্রম শুরু হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মন্ত্রী কর্তৃক ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। একই সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারে।

পরীক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনের মাধ্যমেও সহজেই তাদের ফলাফল দেখে নিতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ফলাফল দেখা সম্ভব হবে। এছাড়া মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে বেশ উত্তেজনা কাজ করছে। ফল ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবে, যা তাদের উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে সহায়তা করবে। এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আগামীর পথচলা শুভকামনার অপেক্ষায় রয়েছে।

ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি ছাড়াই যেন শিক্ষার্থীরা ফলাফল পেতে পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী অনলাইনে ফলাফল দেখতে ইচ্ছুক, তারা শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত ওয়েবসাইট ভিজিট করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

প্রতি বছরই এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের ওপর ভিত্তি করে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আজকের এই ফলাফল প্রকাশের ওপরই নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের স্বপ্ন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ওয়েবসাইটগুলোতে ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার এবং নির্ধারিত মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তের জটে রহস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তের জটে রহস্য

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পর থেকেই তার মৃত্যুর কারণ ও নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটত্রিশ বছর বয়সী এই সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর তদন্তের শুরুতেই একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সংস্থাগুলোকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি যে, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে তিনি মৃত্যুর অতলে তলিয়ে গেলেন।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, তাহসিফ উত্তরার নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন কোনো এক বন্ধুর ফোন পেয়ে তিনি জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এই বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার অবস্থান এবং কার সাথে তার দেখা হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এরপর কীভাবে তিনি তুরাগ নদের মতো জনমানবহীন ও নির্জন এলাকায় গিয়ে পৌঁছালেন, তা নিয়ে তদন্তকারীরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। তুরাগ নদের পাড় থেকেই তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই রহস্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই মোটরসাইকেলটি সেখানে কীভাবে পৌঁছাল এবং সেটি চালানোর অবস্থায় ছিল কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা চলছে।

তদন্তের খাতিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসছে তা হলো আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের ভূমিকা। এই ব্যক্তি তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় এবং ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত। ঘটনার সময় তার সাথে তাহসিফের কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তিনি কেন বা কোন প্রয়োজনে তাহসিফের সাথে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তাহসিফের সাথে ঘটনার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কে কে ছিল, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই স্পষ্ট কোনো চিত্র উঠে আসেনি।

তদন্তকারীরা বলছেন, তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং সেই রাতের গতিবিধি পর্যালোচনার কাজ চলছে। তুরাগ নদের যে এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি অত্যন্ত নির্জন হওয়ায় সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার উপস্থিতি খুবই নগণ্য। ফলে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা প্রযুক্তিগত প্রমাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কোনো একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ঘটনার প্রতিটি মোড় গুরুত্বসহকারে দেখছেন। বন্ধুস্থানীয় ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো গরমিল আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত সব সম্ভাবনার দিকই খোলা রাখা হয়েছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে।

তদন্তের এই প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকগুলো বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। যেমন, তাহসিফ স্বেচ্ছায় ওই এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, নাকি তাকে কোনো কৌশলে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তুরাগ নদে তার মৃত্যুর ঘটনা কি কোনো দুর্ঘটনার ফল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র কৌতুহল তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো কোনো অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না; বরং প্রতিটি তথ্যের বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই রহস্যের জট খুলতে এখন ফরেনসিক রিপোর্ট এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি শুধুমাত্র একজন সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু নয়, বরং তদন্তের স্বচ্ছতা ও সঠিক বিচারের একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তাহসিফের মৃত্যুর সাথে জড়িত আসল রহস্য উন্মোচনে তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন নিহতের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

কমনওয়েলথ কাবাডি থেকে বিদায় বাংলাদেশের, সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
কমনওয়েলথ কাবাডি থেকে বিদায় বাংলাদেশের, সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার

কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। ভারতের আহমেদাবাদের ভীর সাভারকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের কাছে পাত্তাই পেল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫৬-২৭ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। শিরোপা জয়ের মিশনে এসে সেমিফাইনালের বাধা আর টপকাতে পারল না দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় কাবাডি দলের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশের দুর্বলতা ফুটে ওঠে, যেখানে প্রতিপক্ষ ভারতের কাছে ২৮-৮ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জনে ব্যর্থতার কারণে বিরতির আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হয় বাংলাদেশ দলের। দ্বিতীয়ার্ধেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি, বরং ভারত তাদের পয়েন্টের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে। শেষ পর্যন্ত ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে ভারত যখন দাপুটে জয় নিশ্চিত করে, তখন বাংলাদেশের নামের পাশে ছিল মাত্র ২৭ পয়েন্ট।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল মোট ছয়টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে চারটি ম্যাচে জয়লাভ করলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরাজয় তাদের আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত করে। দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য থাকলেও নকআউট পর্বে এসে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছন্দপতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগে ভারতীয় আক্রমণ সামলানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

উল্লেখ্য যে, এর আগে সর্বশেষ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসেও ভারত ও বাংলাদেশের মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে সোনা জয়ের পথে ভারত যে ধারাবাহিকতা ও শক্তির পরিচয় দিয়েছিল, তারই প্রতিফলন যেন দেখা গেল আহমেদাবাদের এই ম্যাচেও। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে স্বাগতিকরা বরাবরের মতোই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।

টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের কাবাডি খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি অধ্যায় শেষ হলো। যদিও সেমিফাইনালে হার মানতে হয়েছে, তবুও পুরো টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ জয়ের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক আসরে ভালো ফলাফল করার জন্য এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুলগুলো সংশোধন করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভারতের বিপক্ষে এই বড় ব্যবধানের পরাজয় বাংলাদেশের কাবাডি আঙ্গিনায় একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।

সর্বশেষ
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তের জটে রহস্য কমনওয়েলথ কাবাডি থেকে বিদায় বাংলাদেশের, সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার অভাবের সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল মনিরুলের, ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে লালমনিরহাটে লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়ানো চিতা বাঘের রহস্যভেদ অধরাই রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার ঘটনায় ২৬ জন কারাগারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন ড. শহীদ উজ জামান রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ খুলনা রেঞ্জে শুদ্ধি অভিযান: ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা
Advertisement