খুঁজুন
, ,

জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি

জাপানি একটি নাটকের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, জাপানি সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পের আড়ালে সচেতনভাবে চীনবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশটির দাবি, সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে চীনকে নেতিবাচক ও অপশক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাপানের সাম্প্রতিক একটি নাটকের ঘটনাপ্রবাহ এবং চরিত্র চিত্রায়ণ চীনকে হেয় করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়াস। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প ব্যবহার করে কোনো রাষ্ট্রকে কলঙ্কিত করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী। কুও চিয়া খুন জানান, নির্দিষ্ট এই নাটকটিতে চীনা চরিত্রগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কেবল কাল্পনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানি কোম্পানি সানরিও তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। চীনা দর্শকদের মধ্যে এই নাটকটি নিয়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সানরিও কোম্পানি নাটকটির সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত চীনে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই জাপানি প্রতিষ্ঠানটি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বরাবরই কিছু স্পর্শকাতর বিষয় থাকে। তবে যখন কোনো বিনোদনমূলক নাটক বা সিরিজ কোনো বিশেষ দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে, তখন তা দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনার জন্ম দেয়। জাপান ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে বিনোদন জগতেও দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

বেইজিংয়ের এই কড়া বার্তার পর জাপানি বিনোদন শিল্পের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জাপানি কোম্পানি চীনা বাজারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে, তারা এখন আরও সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করবে। সানরিও কোম্পানির এই দ্রুত পিছু হটা সেই সতর্কতারই ইঙ্গিত বহন করে। চীন বরাবরই তাদের জাতীয় ভাবমূর্তির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কিংবা বিদেশি গণমাধ্যমে নিজেদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি বা চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য বা চিত্রায়ণকে তারা উসকানিমূলক হিসেবে দেখে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সরকার বা শিল্পমহলের পক্ষ থেকে আরও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বেইজিংয়ের এই অবস্থানের পর জাপানি প্রযোজনা সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে যে বিনোদন মাধ্যমগুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আপাতত জাপানি নাটকের এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতিতে অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে ডিসেম্বরের সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত সময়সূচি নয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ ডিসেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। ইউনিটটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তা গ্রিডে সরবরাহের পথে প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ-সংক্রান্ত অগ্রগতি হয়েছে। তবে ‘যেতে পারে’ কথাটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়; ডিসেম্বরেই সরবরাহ শুরু হবে—এমন নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে বিষয়টিকে দেখার সুযোগ নেই।

প্রথম ইউনিটকে ঘিরে এই অগ্রগতি প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা এবং সেই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠানো একই ধাপ নয়। একটি কেন্দ্র উৎপাদনের উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও গ্রিডে সরবরাহের আগে নির্ধারিত কারিগরি প্রস্তুতি ও যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে কোন কোন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, কী কাজ বাকি আছে কিংবা পরবর্তী ধাপগুলোর সময়সীমা কী—এসব বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপ বলতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চালুর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে বোঝায়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ধরনের পর্যায়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ এবং নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এই পর্যায়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থা, কাজের অগ্রগতির মাত্রা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে একটি ধাপের অগ্রগতিকে পুরো কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সমান ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর অর্থ হলো উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য সময় সামনে আসায় প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সম্ভাব্য সময়ের সঙ্গে বাস্তব সরবরাহ শুরুর তারিখের পার্থক্য থাকতে পারে। কাজের অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় যাচাই এবং প্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিন বা সময় নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ কারণে ডিসেম্বরের কথা সম্ভাব্য সময় হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রথম ইউনিটের অগ্রগতি প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট অংশের খবর; এটি থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের অবস্থা বা পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার তথ্যের ভিত্তিতে সরবরাহের পরিমাণ, উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এর প্রভাব নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণার জন্য ইউনিটের উৎপাদন শুরু, সরবরাহের মাত্রা এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।

রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে তা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যোগ করবে—এটি সম্ভাব্য সরবরাহের অর্থ থেকে বোঝা যায়। তবে এর ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কতটা কমবে, কোন এলাকায় কীভাবে সরবরাহ বাড়বে কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। এমন প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবে কত বিদ্যুৎ উৎপাদিত ও সরবরাহ করা হচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে তা কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—সেসব বিষয়ের ওপর।

এখন মূল নজর থাকবে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী কাজ এবং সম্ভাব্য সময়সূচির বাস্তবায়নের দিকে। ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রিডে বিদ্যুৎ পাঠানোর সম্ভাবনা জানানো হলেও তার নিশ্চয়তা বা কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়রেখা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। ফলে নতুন অগ্রগতিকে প্রকল্পের একটি আশাব্যঞ্জক ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু সরবরাহ শুরুর চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে নয়। ইউনিটটি কখন গ্রিডে যুক্ত হবে, তা নিশ্চিত হবে পরবর্তী কারিগরি অগ্রগতি ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে।

‘এই লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে’, শরীর প্রদর্শন বিতর্কে জাহ্নবী কাপুর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
‘এই লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে’, শরীর প্রদর্শন বিতর্কে জাহ্নবী কাপুর

দক্ষিণী সিনেমা ‘পেদ্দি’-তে নারী চরিত্রের উপস্থাপনা ও কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যে কথা বলেছেন অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর।

দক্ষিণী সিনেমা ‘পেদ্দি’-তে নারী চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। ছবিটির কয়েকটি দৃশ্য ঘিরে শরীর প্রদর্শনের অভিযোগ ও আলোচনা সামনে এসেছে। এ প্রসঙ্গে জাহ্নবীর বক্তব্যের সঙ্গে ‘এই লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে’ কথাটি আলোচনায় এসেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ছবিতে নারী চরিত্রকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন। দৃশ্যগুলোর উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি উঠেছে—তবে কোন দৃশ্য, তার প্রেক্ষাপট কী, কিংবা দৃশ্যগুলো ছবির কাহিনিতে কী ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিতর্কের নির্দিষ্ট কারণ বা দৃশ্যের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে আরও কিছু বলা যাচ্ছে না।

জাহ্নবী কাপুরের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁর মন্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, বক্তব্যটি কোন পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বিতর্কের কোন নির্দিষ্ট দিক নিয়ে কথা বলেছেন—এসব তথ্যও স্পষ্ট নয়। তাই তাঁর কথার ব্যাখ্যা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুমান করার সুযোগ নেই।

‘পেদ্দি’ দক্ষিণী সিনেমা হিসেবে পরিচিত হলেও ছবিটির নির্মাণ, কাহিনি, অভিনয়শিল্পীদের ভূমিকা কিংবা মুক্তির সময় নিয়ে এখানে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য নেই। একইভাবে বিতর্কে ছবির নির্মাতা বা অন্য অভিনয়শিল্পীদের বক্তব্য, দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ধরন এবং ছবির দৃশ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও নিশ্চিত করা যায়নি।

নারী চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দৃশ্যের প্রেক্ষাপট, চরিত্রের ভূমিকা এবং নির্মাতাদের পরিকল্পনা—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু ‘পেদ্দি’কে ঘিরে চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে এসব তথ্য অনুপস্থিত থাকায় বিতর্কের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়। জাহ্নবী কাপুরের বক্তব্যের বিস্তারিত জানা গেলে তাঁর মন্তব্যের তাৎপর্য এবং ছবির দৃশ্য নিয়ে ওঠা আপত্তির বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

এ পর্যায়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ‘পেদ্দি’-তে নারী চরিত্রের উপস্থাপনা ও কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাহ্নবী কাপুর কথা বলেছেন। এর বাইরে নির্দিষ্ট দৃশ্য, বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় সেগুলোকে ঘটনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।

ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ

দেশের আর্থিক খাতের মূল চালিকাশক্তি হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতের যে করুণ দশা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা সচেতন মহলকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, ব্যাংকিং খাত এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তার মতে, বিদ্যমান অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও তলানিতে ঠেকেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঋণখেলাপি সংস্কৃতির প্রসার, জালিয়াতি এবং বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা খাতটিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অর্থনীতি ইতিমধ্যে অনেকটা লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছে। যদি সময়মতো এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা যায়, তবে পুরো দেশের অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা অনেকটা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার মতো আশঙ্কার সৃষ্টি করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের এই অস্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণে যথাযথ আইনি কাঠামো ও প্রয়োগের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছেন না। এর ফলে ব্যাংকেরল তারল্য সংকট বাড়ছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর এই সতর্কবাণী দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় বার্তা বহন করে। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া এই বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তবে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

দেশের আর্থিক খাতের এই নাজুক পরিস্থিতিতে এখন প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই খাতকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। অনিয়ম রোধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা একটি জরুরি দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন এতটাই সংবেদনশীল যে, কালক্ষেপণ করার মতো সুযোগ খুব কমই রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এখনই যদি লাগামহীন ঋন জালিয়াতি ও অর্থ পাচার বন্ধ করা না যায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিশেষে, ব্যাংকিং খাতকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় অধ্যাপকের এই হুঁশিয়ারি যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হলে তা সংকট নিরসনে সহায়ক হতে পারে। দেশের স্বার্থেই ব্যাংকিং খাতে আমূল সংস্কার এখন সময়ের অন্যতম প্রধান প্রয়োজন।

সর্বশেষ
ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ ‘এই লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে’, শরীর প্রদর্শন বিতর্কে জাহ্নবী কাপুর ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা কমনওয়েলথ কাবাডিতে আধিপত্য বিস্তার করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ রাজধানীর ধলপুরে এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল এইচআরএসএস তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: তদন্তের আগে মন্তব্য করতে নারাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, স্বস্তি প্রকাশ ইসির
Advertisement