দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হলো ভারী ড্রোনের প্রযুক্তি
জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে ৭০ কেজি পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম বিশেষ ড্রোনের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবেতর পরিস্থিতিতে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, বন্যা কবলিত জনপদ কিংবা বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। এই জটিলতা নিরসনে এবার নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার তৎপরতায়। সংস্থাটি প্রথমবারের মতো এমন একটি ড্রোনের সফল উড্ডয়ন করেছে, যা আকাশপথে ৭০ কেজি পর্যন্ত ভার বহন করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে সক্ষম। এই অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সংযোজন জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উড্ডয়নকৃত এই বিশেষায়িত ড্রোনটির বহুমুখী ব্যবহারের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। সাধারণত অগ্নিকাণ্ড কিংবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন উদ্ধারকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েন। এই ড্রোনটি সেই পরিস্থিতিতে আশীর্বাদ হয়ে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষের কাছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম আকাশপথেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। শুধু ত্রাণ সামগ্রীই নয়, উদ্ধার অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো স্থানে আটকা পড়েন যেখানে মানুষের পক্ষে পৌঁছানো অসম্ভব, তবে এই ড্রোনের সাহায্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া যাবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধারকাজে ড্রোনের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে, তবে ৭০ কেজি পর্যন্ত ভার বহনের সক্ষমতা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সাধারণ ড্রোন থেকে আকারে বড় এবং অনেক বেশি শক্তিশালী মোটর ও ব্যাটারি প্রযুক্তিতে তৈরি। দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম এই ড্রোনটি নিখুঁতভাবে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এর আগে ছোট ছোট ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি কিংবা তথ্য সংগ্রহের কাজ হলেও ভারী ত্রাণ পরিবহনের সক্ষমতা থাকায় এটি বড় ধরনের মানবিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হবে।
ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তির সংযোজন করা হয়েছে। সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন জরুরি ইউনিটে এই ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে এই ড্রোন ইউনিট মোতায়েন থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে উদ্ধারকাজের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে এবং সময় বাঁচবে। উদ্ধারকর্মী ও ভুক্তভোগী—উভয়ের জন্যই এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান।
আগামী দিনগুলোতে এই প্রযুক্তির পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে কর্তৃপক্ষের। পর্যায়ক্রমে ড্রোন অপারেটরদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। কারণ, উচ্চ ক্ষমতার এই ড্রোন পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলের কোনো বিকল্প নেই। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড্রোন উড্ডয়নের প্রোটোকলও তৈরি করা হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এই ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সংযোজন একদিকে যেমন সরকারি সেবার মান বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিপদে পড়া সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পথকে সুগম করছে। এখন কেবল যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমেই এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]