রেকর্ডের ডামাডোলে শেষ ১৮তম সামার অ্যাথলেটিকস
নতুন নয়টি জাতীয় রেকর্ডের সাক্ষী থাকল আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা। তিন দিনব্যাপী এই আসরে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। পদক তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে নৌবাহিনী।
ক্রীড়াঙ্গনের সব আলো কেড়ে নিয়ে সাফল্যের সাথে পর্দা নামল আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে অ্যাথলেটদের দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি রেকর্ড বইয়েও এল বড় পরিবর্তন। প্রতিযোগিতার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অ্যাথলেটরা নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় গড়েছেন নতুন নয়টি জাতীয় রেকর্ড। যা দেশের অ্যাথলেটিকসের ভবিষ্যতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অ্যাথলেটদের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে স্প্রিন্ট ইভেন্টগুলোতে বরাবরই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুরুষ বিভাগে বরাবরের মতো নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন ইমরানুর রহমান। নিখুঁত টেকনিক এবং গতির ঝলকানিতে তিনি জিতে নিয়েছেন দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব। তাকে টেক্কা দেওয়া বা তার কাছাকাছি পৌঁছানো অন্য অ্যাথলেটদের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নারী বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অ্যাথলেটিকসে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এই অ্যাথলেট আবারো প্রমাণ করলেন, কেন তাকে দেশের দ্রুততম মানবী বলা হয়।
সামগ্রিক পদক তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তিন দিনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তারা ২১টি স্বর্ণপদক নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে। সব মিলিয়ে তাদের পদক সংখ্যা ৬০টি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য দলের তুলনায় তাদের প্রস্তুতি এবং অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স ছিল অনেক বেশি সুসংহত। পদক জয়ের দৌড়ে অন্য দলগুলো লড়াই করলেও নৌবাহিনীর অ্যাথলেটরা একের পর এক ইভেন্টে আধিপত্য ধরে রেখে আসরের মান বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এবারের আসরের বড় প্রাপ্তি হলো রেকর্ড ভাঙার হিড়িক। ট্র্যাকে এবং ফিল্ডে অ্যাথলেটরা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যার ফলস্বরূপ নয়টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল ইভেন্ট এবং দৌড় প্রতিযোগিতায় নতুন অ্যাথলেটদের আগমন এবং তাদের রেকর্ডের খাতায় নাম লেখানো অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের জন্য বড় সাফল্যের বিষয়। এই রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ পেলে দেশীয় অ্যাথলেটরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালো করার সামর্থ্য রাখেন।
তবে কেবল পদক জয় বা রেকর্ড ভাঙাই শেষ কথা নয়, আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা অ্যাথলেটদের পরবর্তী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিশনের জন্য দারুণ কাজে আসবে। আগামী দিনগুলোতে এই অ্যাথলেটদের কীভাবে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সেদিকে নজর দিচ্ছে ফেডারেশন। অ্যাথলেটদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও এবারের আসরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দিনের লড়াই শেষে এক উৎসবমুখর আবহে শেষ হলো অ্যাথলেটিকসের এই মহাযজ্ঞ। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিভার সন্ধানে এবং নিয়মিত অনুশীলনের তাগিদে এই ধরনের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]