খুঁজুন
, ,

অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায়

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু নির্দিষ্ট সময়খণ্ড বা দিন রয়েছে যা কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানোর মতো ঘটনা নয়, বরং গোটা বিশ্বের মানচিত্র এবং রাজনৈতিক মতাদর্শকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। এমনই এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী অধ্যায় ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব। তৎকালীন রাশিয়ার পেত্রোগ্রাদে বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের সেই ঘটনা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রদবদল ছিল না, বরং তা বিশ্বরাজনীতির গতিপথকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান এবং পুঁজিবাদী বিশ্বের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের যে সূচনা, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক ১০ দিন বা তার আশেপাশের ঘটনাপ্রবাহে।

১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখটি ইতিহাসে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যদিও তৎকালীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি ছিল অক্টোবর মাস, বর্তমান গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে এটি নভেম্বরের শুরু। তবে ইতিহাসের পাতায় এটি অক্টোবর বিপ্লব নামেই পরিচিত হয়ে আছে। এই বিপ্লব ছিল রুশ সম্রাট বা জারতন্ত্রের পতন এবং এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের উত্থানের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা পেত্রোগ্রাদে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটিয়েছিল, তা শোষিত মানুষের স্বপ্নপূরণের স্লোগানকে সামনে রেখে সংঘটিত হয়েছিল। ভূমিহীন কৃষক এবং শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া এই বিপ্লব রাশিয়ার সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দেয়।

বিপ্লবটি একদিনে বা হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যসংকট এবং জার নিকোলাসের অদূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে রুশ জনমনে যে চরম ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল, তা-ই এই বিপ্লবের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। পেত্রোগ্রাদের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল একটি পরিবর্তনের আশায়। বলশেভিকরা সেই ক্ষোভকে সংগঠিত করে ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হয়। এই ক্ষমতা দখলের পর পৃথিবী প্রথমবার প্রত্যক্ষ করে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ধারণা প্রবর্তন করা হয়।

অক্টোবর বিপ্লবের প্রভাব কেবল রাশিয়ার সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়। পশ্চিমা বিশ্বের পুঁজিবাদী শক্তিগুলো এই নতুন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্থানকে নিজেদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। অন্যদিকে, এশিয়ার বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে মুক্তিকামী অনেক দেশ রাশিয়াকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখতে থাকে। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় জুড়ে চলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণগুলো এই ১৯১৭ সালের ঘটনাপ্রবাহেই নিহিত ছিল।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সেই উত্তাল সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, তখন বুঝতে পারি ইতিহাস কীভাবে পুনরাবৃত্তি হয় এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব কত প্রজন্ম ধরে টিকে থাকতে পারে। অনেকের মতে, অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বকে শিখিয়েছিল ক্ষমতার উৎস আসলে জনগণের হাতে। যদিও পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব যে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার ধারণা বিশ্বমঞ্চে নিয়ে এসেছিল, তা আজও রাজনৈতিক আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯১৭ সালের সেই ঘটনাবহুল দিনগুলো মানবজাতির রাজনৈতিক চেতনাকে এক নতুন স্তরে উন্নীত করেছিল। শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের যে তাত্ত্বিক কাঠামো লেনিন ও তাঁর সহযোগীরা সামনে এনেছিলেন, তার বাস্তব রূপায়ন নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। কেউ এটাকে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন মনে করেন, আবার কারো দৃষ্টিতে এটি ছিল অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এটি স্বীকার করতেই হয় যে, অক্টোবর বিপ্লব ছাড়া বিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতির রূপরেখা কল্পনা করা অসম্ভব ছিল।

বর্তমান সময়ে বিশ্ব যখন নতুন নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ইতিহাসের এই অধ্যায়টি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কীভাবে একটি রাষ্ট্রকে আমূল বদলে দিতে পারে। পেত্রোগ্রাদের সেই রাজপথের স্লোগান আর বলশেভিকদের দৃঢ় পদচারণা হয়তো ইতিহাসের পাতায় ধুলো জমেছে, কিন্তু তার প্রভাব আজও বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী বিতর্কের গভীরে রয়ে গেছে। ১০৯ বছর আগের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাসের চাকা সবসময় সাধারণ মানুষের আকঙ্ক্ষার পথ ধরেই এগিয়ে চলে, তা সময় সাপেক্ষে রূপ পাল্টালেও মূল সুরটি অপরিবর্তিত থাকে।

শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে ভীতি না ছড়ানোর জন্য তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে ভীতি না ছড়ানোর জন্য তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) রোববার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে অপ্রয়োজনীয় ভীতি ছড়ানো রোধে তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নতুন নির্দেশনা গ্রহণ করে। বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান, দুই কমিশনার, একাধিক নির্বাহী পরিচালক এবং ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিএসইসির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে তদন্তের উদ্যোগে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএসই বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ করে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটায়। ফলে মাঝারি ও বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে, যা লেনদেনের পরিমাণ ও শেয়ার মূল্যে প্রভাব ফেলে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়, বিএসইসি শেয়ারবাজারে ভীতি না ছড়ানোর জন্য “তথ্য‑উপাত্তভিত্তিক তদারকি” পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দেয়। এর অর্থ, তদন্তের সময় শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে, আর অপ্রয়োজনীয় চিঠি বা অনুরোধের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ থাকবে না।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, তদারকি ও তদন্তের কাজ অব্যাহত থাকবে, তবে তা কেবলমাত্র বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার লক্ষ্যে হবে। তদন্তের প্রক্রিয়ায় কৌশলী ও ডেটা‑নির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনো ধরণের কারসাজি বা অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করা হবে, যা বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিএসইসির দুই কমিশনার ও ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তারা একমত হন যে, শেয়ারবাজারে ভীতি ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, তদন্তের নামে অযথা চিঠি বা তথ্যের অনুরোধ পাঠানো বন্ধ করে, শুধুমাত্র প্রমাণভিত্তিক এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হবে। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে।

বৈঠকের শেষে, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উল্লেখ করেন যে, নতুন নির্দেশনা অনুসরণে ডিএসই তার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করবে। তদারকি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং বিনিয়োগকারীর অধিকার রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

বিএসইসির একটি মুখ্য কর্মকর্তা জানান, “তথ্য‑উপাত্তভিত্তিক তদারকি মানে হল, আমরা শুধুমাত্র প্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেব এবং অপ্রয়োজনীয় চিঠি বা অনুসন্ধান থেকে বিনিয়োগকারীর মধ্যে ভীতি সঞ্চার না করতে সচেষ্ট থাকব।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

বাজারের বিশ্লেষকরা এই নির্দেশনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। তারা বলেন, তথ্য‑উপাত্তভিত্তিক তদারকি বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। তদুপরি, এই পদ্ধতি বাজারে অনিয়মের দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়ক হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

বিএসইসির এই নতুন নীতি অনুসরণে ডিএসইকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তার তদারকি প্রক্রিয়া আপডেট করতে হবে। আপডেটের মধ্যে থাকবে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, চিঠি প্রেরণের মানদণ্ড এবং বিনিয়োগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রোটোকল। এই পরিবর্তনগুলো বাজারে অপ্রয়োজনীয় ভীতি ছড়ানো রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএসইসি ও ডিএসই উভয়ই জোর দিয়ে বলেছে, শেয়ারবাজারের স্বাস্থ্যের জন্য তদারকি ও তদন্ত অপরিহার্য, তবে তা বিনিয়োগকারীর অধিকার ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা উচিত। তথ্য‑উপাত্তভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই নির্দেশনা শেয়ারবাজারে কাজ করা ব্রোকারেজ হাউস, বিনিয়োগ সংস্থা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ভবিষ্যতে, যদি কোনো কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে তদন্তের প্রয়োজন হয়, তবে তা তথ্য‑উপাত্তভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি না হয়।

বিএসইসির এই পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজারে ভীতি না ছড়িয়ে, তথ্য‑উপাত্তভিত্তিক তদারকি নিশ্চিত করে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করা সম্ভব হবে।

অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে জয়: শেষ আটে কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে জয়: শেষ আটে কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমি

ফুটবলের মাঠ মানেই তো অনিশ্চয়তা আর নাটকের মঞ্চ। সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাঠে আজ বিকেলে এমনই এক টানটান উত্তেজনার সাক্ষী হলো দর্শক। প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের ঢাকা পর্বের শেষ দিনে দুর্দান্ত এক লড়াইয়ের পর শেষ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে টাইব্রেকার যুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি।

ম্যাচের শুরুর দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলছিল নারায়ণগঞ্জ প্রমীলা ফুটবল একাডেমি। কলসিন্দুরকে দুই গোলে পিছিয়ে দিয়ে অনেকটা জয়ের পথেই এগিয়ে ছিল দলটি। কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন কলসিন্দুরের ফুটবলাররা। প্রবল মানসিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করে তারা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় লড়াইয়ের গতিপথ পাল্টে দেন কলসিন্দুরের মেয়েরা। গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার পর তাদের আত্মবিশ্বাস যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে।

আজকের দিনটি কলসিন্দুরের কাছে ছিল স্নায়ুচাপের পরীক্ষার মতো। বিশেষ করে একই দিনে সকালের আঞ্চলিক সেমিফাইনালেও তারা টাইব্রেকারে জয়ী হয়েছিল। তাই ক্লান্তি আর মানসিক চাপের দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ ছিল দলটির সামনে। তবুও দমেনি ময়মনসিংহের মেয়েরা। টাইব্রেকারের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি তাদের জন্য। নিজেদের প্রথম শটটি মিস করে বসলে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় নারায়ণগঞ্জের মেয়েরা।

তবে ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত হার মানতে নেই—এই আপ্তবাক্যটি যেন আজ আবারো প্রমাণিত হলো। নারায়ণগঞ্জের সুমি খাতুন যখন পঞ্চম শট নিতে এলেন, গোল করলেই নিশ্চিত হতো জয়। কিন্তু তার নেওয়া শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে দারুণভাবে ম্যাচে প্রাণ ফিরে পায় কলসিন্দুর। এরপর শুরু হয় সাডেন ডেথ। দুই দলই নিজেদের দক্ষতা দেখাতে থাকে। পরপর পাঁচটি করে শট দুই দলই জালে জড়াতে সক্ষম হয়। এরপর টাইব্রেকার গড়ায় দীর্ঘতর পথে।

নাটকীয় মুহূর্তটি আসে সাডেন ডেথের একেবারে শেষ পর্যায়ে। নারায়ণগঞ্জ প্রমীলার ১১ নম্বর শটটি পোস্টে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি কলসিন্দুরের লামিয়া আক্তার। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। টাইব্রেকারে ১০-৯ ব্যবধানের এই জয় কলসিন্দুরকে নিয়ে গেল প্রতিযোগিতার শেষ আটে।

হারতে বসা ম্যাচে এমন অবিশ্বাস্য জয়ের পর কলসিন্দুরের ফুটবলারদের উল্লাস ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে, জয়ের খুব কাছে গিয়েও ফসকে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে যান নারায়ণগঞ্জ প্রমীলা একাডেমির কোচ এবং জাতীয় নারী দলের সাবেক ফুটবলার সুরভী আক্তার। তবে পরাজয় মেনে নিলেও নারায়ণগঞ্জ দলের খেলার প্রশংসা করেছেন উপস্থিত দর্শক ও ফুটবলবোদ্ধারা। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে কলসিন্দুরের এমন লড়াকু মানসিকতা এবং ফিরে আসার গল্প ফুটবল প্রেমীদের মাঝে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার খোরাক হয়ে থাকবে।

মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা

মার্চ ২০১৩-এ রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে শেষবারের মতো মুখোমুখি হওয়া এল‑ক্লাসিকো, জোসে মরিনিওর কোচিং ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয়। সেই ম্যাচে রিয়াল ২-১ হারে, বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি লিওনেল মেসি করেন। তবে সেই দিনের পর থেকে মরিনিওর রিয়াল দল আর বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়নি; আজ ২০২৬ সালে তিনি আবার লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনার বিপক্ষে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।

মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর দলটি ১১টি মুখ্য খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত ছিল, যাদের প্রত্যেকেরই আজকের দিন পর্যন্ত আলাদা আলাদা পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দুইজন—একজন গোলকিপার এবং একজন ডিফেন্ডার, যাদের নাম লোপেজ এবং সের্হিও রামোস।

মরিনিও যখন ২০১৩ সালে ইকার ক্যাসিয়াসকে দল থেকে বাদ দিয়ে লোপেজকে গোলকিপার হিসেবে বেছে নেন, তখন তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। লোপেজ তখনও ৪০ বছর অতিক্রম করলেও, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে মরিনিও তাকে বিশ্বাস করেন। লোপেজের ক্যারিয়ার তখন থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। রিয়াল মাদ্রিদে শেষ মৌসুমের পর তিনি স্পেনের রায়ো ভায়েকানোয় এক সিজন কাটিয়ে গ্লাভস জিতেন। অবসরের পরেও তিনি রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসেন, তবে এবার কাস্তিয়া দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবে। মূল দলের গোলকিপিং কোচ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলে মরিনিও তাকে অস্থায়ীভাবে মূল দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন, ফলে লোপেজ আবারও মরিনিওর কাছাকাছি কাজ করার সুযোগ পান। আজ লোপেজ মরিনিওর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, যা তার দীর্ঘ ফুটবলের যাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

অন্যদিকে, সের্হিও রামোসের গল্পটি তেমনই আকর্ষণীয়। ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে রামোস, তবে তার ফুটবলের প্রতি উত্সাহ এখনও কমেনি। ডিসেম্বর মাসে মেক্সিকোর ক্লাব মন্টেরেতে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি কোনো ক্লাবে যুক্ত নন। যদিও তার বুট জোড়া এখনও ত্যাগ করা হয়নি, তবে বর্তমানে তিনি ক্লাবহীন অবস্থায় আছেন। রামোসের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেননি।

লাপস এবং রামোস ছাড়াও, মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর অন্যান্য খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ফুটবলের জগতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন স্বাভাবিক, এবং অনেকেই হয়তো এখন কোচিং, বিশ্লেষণ বা মিডিয়ার কাজ করছেন।

মরিনিওর ফিরে আসা এল‑ক্লাসিকোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান দলটি লা লিগায় ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, এবং বার্সেলোনা আবারও শীর্ষে ফিরে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে ২০১৩ সালের সেই ম্যাচের স্মৃতি এবং সেই সময়ের খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা, বিশেষ করে লোপেজের সহকারী পদ এবং রামোসের ক্লাবহীন অবস্থা, এই ম্যাচকে অতিরিক্ত রঙিন করে তুলছে।

মরিনিও যখন আবারই বার্সেলোনার মুখোমুখি হবেন, তখন তিনি কেবল তার কৌশলগত দক্ষতা নয়, তার অতীতের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতিগুলিকেও পুনরায় পরীক্ষা করবেন। লোপেজের সহায়তায় তিনি কীভাবে দলকে পরিচালনা করবেন, আর রামোসের অনুপস্থিতি কীভাবে রিয়ালের ডিফেন্সকে প্রভাবিত করবে—এগুলোই হবে এই ম্যাচের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

সর্বশেষ
শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে ভীতি না ছড়ানোর জন্য তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে জয়: শেষ আটে কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমি মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে চাপা দেওয়ার চেষ্টা অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায় রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা সুজাত শিমুল রাজউক প্লট বরাদ্দে নজিরবিহীন অনিয়ম, পূর্বাচল ও ঝিলমিলে স্থগিত কার্যক্রম লালমনিরহাটের দুর্গম চরে জ্ঞানের আলো ছড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শাহজালাল রুমি গ্রেফতার ইস্যু: বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে সতর্কতা
Advertisement