খুঁজুন
, ,

ভারতের আন্দোলনকে প্রতিবেশী দেশের সরকার পতনের সঙ্গে তুলনা করা অমূলক: অভিজিৎ দিপকে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভারতের আন্দোলনকে প্রতিবেশী দেশের সরকার পতনের সঙ্গে তুলনা করা অমূলক: অভিজিৎ দিপকে

ভারতের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শোরগোল শুরু হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে। চলমান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রেক্ষাপট নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে, তখন তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতের এই আন্দোলনকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল বা বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে কোনোভাবেই তুলনা করা সমীচীন নয়। তার মতে, পরিস্থিতির ভিন্নতা এবং আন্দোলনের প্রকৃতি বিবেচনা করলে এমন সমীকরণ টানার কোনো অবকাশ নেই।

অভিজিৎ দিপকে তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতের চলমান আন্দোলনের ধরন নিয়ে। তিনি একে ‘অহিংস সত্যাগ্রহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ভারতীয় যুবসমাজ বা আন্দোলনকারীরা যে প্রক্রিয়ায় তাদের দাবি উত্থাপন করছেন, তা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও অহিংস কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই পদ্ধতিটি প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে ধরণের আন্দোলন দেখা গিয়েছিল, তার সাথে মৌলিকভাবে আলাদা। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপট তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এটি নিছকই একটি জনদাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতা নিয়ে যে আলোচনার ঝড় উঠেছে, তার প্রভাবেই হয়তো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এই ধরনের তুলনা সামনে আসছে। তবে অভিজিৎ দিপকে এই ধরনের ব্যাখ্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে যে এটি হয়তো একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, কিন্তু ভেতরগত ও কৌশলগতভাবে ভারত অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একদম স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত প্রকাশ ও আন্দোলনের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তাকে কোনোভাবেই অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য ও দাবিগুলো মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে। একে জাতীয় নিরাপত্তার সংকট বা সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখাটা ভুল এবং এটি এক ধরনের ভুল ব্যাখ্যা। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে, তা মূলত বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি প্রয়াস মাত্র। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে নিজের মত প্রকাশ করার এবং তা শান্তিপূর্ণ উপায়ে পালন করা ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বাইরের দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের তুলনা করাটা তাই বাস্তবতাবর্জিত।

সবশেষে, তিনি শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন ভারতের এক দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি নিজ দেশের আন্দোলনের স্বরূপ রক্ষা করতে এবং কোনো ভুল বার্তা যেন বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছেন। তার এই স্পষ্ট বার্তা ভারতের চলমান আন্দোলনের ধরণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা অনেকটাই দূর করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল

শারদীয় দুর্গাপূজার আমেজ এবং উৎসবে রাজধানী যখন মুখরিত, ঠিক সেই সময়ে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির ও শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেছেন রাজনৈতিক দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে শারদীয় উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা।

পরিদর্শনকালে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট মন্দিরের পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। তারা পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উৎসবের সার্বিক আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এবং কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হবে।

রমনা কালী মন্দিরে উপস্থিত হয়ে নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রতিটি মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করবে—এটিই রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে, তারা উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গেও সৌহার্দপূর্ণ আলাপচারিতায় অংশ নেন।

পরবর্তীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে তারা একই ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেখানেও মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তারা বলেন, উৎসবের এই দিনগুলোতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জানান, যেকোনো অশুভ শক্তি যেন এই উৎসবের আনন্দ ম্লান করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সচেতনতা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের এই পরিদর্শনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মন্দির পরিদর্শনকালে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক সিনিয়র নেতা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পূজা মণ্ডপগুলোর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং কোনো ধরণের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মাঝে বিভিন্ন দলের নেতাদের এভাবে ধর্মীয় উৎসবের কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শন ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এই সফর কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সম্প্রীতি বজায় রাখার একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতেও যেন দেশের সকল ধর্মের মানুষ তাদের উৎসব আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন, সেই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই মন্দির পরিদর্শন কর্মসূচি শেষ করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে গরুর জন্য ঘাস কাটার জের ধরে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানও রয়েছেন, যা এলাকাটিতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য এলাকায় গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা বা এই জাতীয় সাধারণ বিষয় নিয়ে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা মতপার্থক্য ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই পুরনো আক্রোশ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দুই পক্ষের লোকজন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যা দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে আশেপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এলেও উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং গুরুতর জখম ব্যক্তিদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন নাকি সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন থাকলেও তার আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়।

গ্রামীণ জনপদে ছোটখাটো বিষয়ে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটে থাকে, যা সামাজিকভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। বিশেষ করে গবাদি পশু পালন এবং ঘাস কাটার মতো বিষয়ে অতীতেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন বিরোধের তথ্য শোনা গেছে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এমন বড় ধরনের সংঘাত ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মামলা দায়েরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীগত কোন্দল নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

ভাঙা ল্যাপটপ আর সন্তান আগলে যেভাবে সফলতার শিখরে মিতু আক্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ভাঙা ল্যাপটপ আর সন্তান আগলে যেভাবে সফলতার শিখরে মিতু আক্তার

জীবনের কঠিনতম সময়ে যখন সবাই হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন মিতু আক্তার। তার এই সাফল্যের গল্প কোনো রূপকথার মতো মনে হলেও এর প্রতিটি পরতে মিশে আছে এক ভয়াবহ সংগ্রামের ইতিহাস। একপাশে অভাবের তাড়না, অন্যপাশে সন্তানের দায়িত্ব—এমন পরিস্থিতির মধ্যে ভাঙা ল্যাপটপ নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং জগতে পা রাখা সহজ ছিল না। কিন্তু ধৈর্যের সাথে সব বাধা জয় করে তিনি আজ কেবল নিজেই সফল নন, বরং তার অভিজ্ঞতা দিয়ে তৈরি করেছেন এক নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক।

মিতুর শুরুর দিনগুলো ছিল চরম অনিশ্চয়তার। তখন হাতে ছিল একটি অচলপ্রায় ল্যাপটপ। টেকনিক্যাল জটিলতায় সেটি বারবার বন্ধ হয়ে যেত, কাজের মাঝখানে বাধা আসত প্রতিনিয়ত। অথচ সেই ল্যাপটপটিই ছিল তার উপার্জনের একমাত্র ভরসা। একই সঙ্গে তাকে সামলাতে হতো ছোট সন্তানকে। কোলের শিশুকে এক হাতে আগলে রেখে অন্য হাতে কিবোর্ডে টাইপ করে কাজ চালিয়ে যাওয়া মিতুর জন্য ছিল প্রতিদিনের রুটিন। অনেক রাত তিনি নির্ঘুম কাটিয়েছেন, কারণ দিনের বেলা সন্তানের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। অগণিত মানুষের অবহেলা ও উপহাসের পাত্র হতে হয়েছে তাকে, তবুও তিনি দমে যাননি।

পরিশ্রম আর একাগ্রতা যে কখনো বৃথা যায় না, মিতু আক্তারের জীবনই তার বড় প্রমাণ। ধীরে ধীরে কাজের মান উন্নত করতে শুরু করেন তিনি। প্রতিকূল পরিবেশে কাজ শিখে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেন। প্রযুক্তিগত বাধাগুলো কাটিয়ে যখন তিনি নিয়মিত কাজ পেতে শুরু করলেন, তখন তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। ল্যাপটপটি ঠিক করার সামর্থ্য হওয়ার পর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। এখন তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্লায়েন্টদের সাথে সফলভাবে কাজ করছেন এবং নিজের একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে মিতুর সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক হলো, তিনি শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেই থেমে থাকেননি। আজ তিনি হয়ে উঠেছেন অন্য অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। যে দশজন তরুণ-তরুণী জীবনের নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার স্বপ্ন দেখেও হতাশায় নিমজ্জিত ছিল, তাদের মিতু আক্তার হাতে-কলমে পথ দেখাচ্ছেন। নিজের উপার্জনের একটি অংশ তিনি ব্যয় করছেন অন্যদের দক্ষতা উন্নয়নে। তার এই মানবিক উদ্যোগ তাকে কেবল একজন ফ্রিল্যান্সার নয়, বরং এক সমাজ পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রযুক্তির এই যুগে মিতু আক্তার প্রমাণ করেছেন যে, ল্যাপটপ কিংবা উচ্চমানের সরঞ্জাম সাফল্যের একমাত্র শর্ত নয়। প্রবল ইচ্ছা আর পরিস্থিতির সাথে লড়াই করার মানসিকতা থাকলে শূন্য থেকেও আকাশ ছোঁয়া সম্ভব। তিনি এখন অনেকের কাছেই একটি নাম, যার গল্পের প্রতিটি শব্দ সাহস যোগায়। ভবিষ্যতে তিনি তার এই কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান যাতে দেশের তরুণ সমাজ প্রযুক্তির দক্ষতাকে পুঁজি করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

মিতুর এই পথচলা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জীবনের যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত সংকট আসলে থামিয়ে দেওয়ার জন্য আসে না, বরং নতুন করে শুরু করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। সন্তান, সংসার এবং একই সাথে নিজের ক্যারিয়ার সামলানোর এক দারুণ ভারসাম্য তৈরি করে তিনি আজ এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। সমাজ পরিবর্তনের এই ধারা যেন আরও বিস্তৃত হয়, সেই লক্ষ্যেই মিতু আক্তার প্রতিনিয়ত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ ভাঙা ল্যাপটপ আর সন্তান আগলে যেভাবে সফলতার শিখরে মিতু আক্তার দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু পাঁচ, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬ ভারতে জয়শঙ্কর ও রুবিওর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে জোর ভারতের আন্দোলনকে প্রতিবেশী দেশের সরকার পতনের সঙ্গে তুলনা করা অমূলক: অভিজিৎ দিপকে চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৪ জনের, শোকের ছায়া স্বজনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একটি বিশ্লেষণ বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি
Advertisement