কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে লাগা এই আগুনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রিসোর্টটির ভেতরে আরও কোনো পর্যটক আটকা পড়ে আছেন কি না, তা তল্লাশি করে দেখছে উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহতরা সবাই পর্যটক ছিলেন এবং রিসোর্টটিতে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজদের খোঁজে কাজ চলছে। দুর্ঘটনাস্থলটি মেরিন ড্রাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হওয়ায় সেখানে সাধারণ মানুষের ভিড় তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধার কাজে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নুর আলম নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে এই অগ্নিকাণ্ডে হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রিয়জনদের হারানোর এই শোক সইবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রিসোর্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, রিসোর্টের অবকাঠামো ও ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন লাগার সঠিক কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।
কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে এই দুর্ঘটনা এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অবকাশ যাপনে এসে এমন প্রাণহানির ঘটনায় পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বা মালিকপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আপডেট পাওয়া মাত্রই বিস্তারিত জানানো হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]