ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:২১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে দগ্ধ অবস্থায় আরও ৯ জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায়, যা পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করেছেন যে, আগুনে ভস্মীভূত এই রিসোর্টটির কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে রিসোর্টটি পর্যটকদের সেবা দিয়ে আসছিল। এই ধরনের গাফিলতি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, তা এখন বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শনিবার দুপুরের দিকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যখন এই তথ্য জানানো হয়, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিচয় ও তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই পর্যটক ছিলেন যারা ইনানীতে ভ্রমণে এসেছিলেন। তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রিসোর্ট ও হোটেলগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি আইনত বাধ্যতামূলক। তবে ইনানীর এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠানই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের এই অগ্নিকাণ্ড ও লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে আসার পর এখন অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আহতেরাও সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকতে পারেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন ব্যাপক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। রিসোর্ট মালিকপক্ষের দায়বদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পর্যটকরা বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় ও পথ পাননি বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে আছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। উদ্ধারকাজ ও তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন