যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুসারীদের জন্য আয়োজিত একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি ট্রাম্পের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। লেভিট তার সাবেক বসকে কেবল একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই নয়, বরং একজন সদয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২৯ বছর বয়সী ক্যারোলিন লেভিট এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি পরিচালনা করেন ভ্রমণের সময়। ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সময় বের করে তার অনুসারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের কাজের সময়কার স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা। ট্রাম্পের কর্মপদ্ধতি ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেভিট বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাইরে থেকে মানুষ যতটা কঠোর মনে করেন, তার ব্যক্তিগত আচরণ অনেক ক্ষেত্রে তার বিপরীত। তিনি ট্রাম্পকে একজন সদয় মনের মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যিনি সবসময় তার সহযোগীদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করেন। এছাড়া ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। সাবেক প্রেস সচিবের মতে, ট্রাম্পের কঠোর পরিশ্রমী মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকার ক্ষমতা যে কাউকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট।
ইনস্টাগ্রামের এই লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বে কেবল ট্রাম্পের প্রসঙ্গই নয়, বরং লেভিট নিজের ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানান যে, ক্যারিয়ারের উচ্চ শিখরে থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সব সময় সহজ ছিল না। তবে ট্রাম্পের সান্নিধ্যে কাজ করার সময় তিনি যে শিক্ষা পেয়েছেন, তা তাকে জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে সাহসী করে তুলেছে।
সাবেক এই প্রেস সচিবের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তার এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। ক্যারোলিন লেভিট হোয়াইট হাউসে প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সময় থেকেই তিনি ট্রাম্পের একজন বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে এসে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে এভাবে খোলামেলা কথা বলায় লেভিটের এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প যখন পুনরায় রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, তখন তার প্রাক্তন সহযোগীর এমন ইতিবাচক মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। লেভিট তার বক্তব্যে ট্রাম্পের শাসনামলের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
পরিশেষে, ক্যারোলিন লেভিট তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, সঠিক নেতৃত্বের অধীনে কাজ করার সুযোগ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যা তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তার এই প্রশংসাসূচক বক্তব্য ভবিষ্যতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো নতুন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে আপাতত লেভিট তার নিজের নতুন কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি মনোযোগী বলে জানিয়েছেন।

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:৪৫ অপরাহ্ণ