খুঁজুন
, ,

মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, শ্বশুরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, শ্বশুরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও ভূল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক যুবককে নির্মমভাবে মারধরের পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শ্বশুর, স্ত্রীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ভূল্লী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিসমত কেশুরবাড়ী গ্রামের চা-দোকানি মো. হুমায়ুন কবিরের একমাত্র ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (২৬) প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেম করে শিরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে দাম্পত্য ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টির মীমাংসা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে নজরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে স্ত্রী শিরিন আক্তার অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বলেন। স্ত্রীর ডাকে তিনি সেখানে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুর শাহাজাহান আলী প্রথমে কাঠের শক্ত বাটাম দিয়ে নজরুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরে অন্য আসামীরাও একইভাবে তাকে মারধরে অংশ নেন। মারধরের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বমি করেন।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুজ্জামান (ইদু মেম্বার) খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নজরুল ইসলামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা অর্থাভাবে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুলাই তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই রাত ৮টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা দাবি করেন, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়েছে এবং সেই মারধরের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহাজাহান আলী, শিরিন আক্তার, নুরুল্লা, এনামুল, মান্নান, কাওসার ও শনু কসাইসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ভূল্লী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুজ্জামান (ইদু মেম্বার), হেলাল ইসলাম ও মমিনুল ইসলামকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও একাধিক সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

নিহতের বাবা জানান, নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা এবং ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং তার বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে যখন জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসছে, ঠিক তখনই দেশের বাজারে এই পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তেলের দাম নির্ধারণের এই জটিল সমীকরণ কেবল একটি একক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং এর পেছনে রয়েছে মুদ্রার বিনিময় হার, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতার মতো বহুমাত্রিক চাপ।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার খবরটি যতটা ইতিবাচক মনে হয়, বাস্তবতা ততটা সরল নয়। প্রথমত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম কমলেও, আমদানিকৃত জ্বালানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মানের ওপর। গত কয়েক বছরে ডলারের তীব্র সংকট এবং টাকার অবমূল্যায়ন দেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রায় একই খরচে জ্বালানি ক্রয় করতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার, যা শেষ পর্যন্ত জ্বালানির খুচরা মূল্য সমন্বয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

এর পাশাপাশি রয়েছে আমদানিনির্ভরতার বিষয়টি। দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয় আমদানি করা জ্বালানি দিয়ে। লজিস্টিক খরচ, বীমা ব্যয় এবং শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতাও জ্বালানি তেলের মোট আমদানিমূল্য বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন হলেও এই আনুষঙ্গিক খরচগুলো কমেনি, বরং মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন ও পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করতে না পারলে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর লোকসানের বোঝা পাহাড়সম হয়ে দাঁড়াবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল বিক্রিতে ভর্তুকি প্রদান দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। যখন ভর্তুকির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তখন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ থেকে অর্থ স্থানান্তর করতে হয়। এতে দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের গতি মন্থর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে সরকার প্রায়শই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণের পথ বেছে নেয়। অবশ্য এই প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা আছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বা অটোমেটেড প্রাইসিং ফর্মুলা থাকা জরুরি, যাতে করে বিশ্ববাজারের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিয়মিত ব্যবধানে দেশেও দামের সমন্বয় হতে পারে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সরকার যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, সেটিও বাস্তবতা। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমদানিনির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি আনার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল তেলের দাম বাড়ানো বা কমানোর ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের চাবিকাঠি।

গাজীপুরে অস্থিরতা: অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার শ্রমিক নেতারা, কাজে ফেরার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে অস্থিরতা: অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার শ্রমিক নেতারা, কাজে ফেরার আহ্বান

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে ঘটা সহিংসতা, গাড়ি পোড়ানো ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নেতারা। ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ গাজীপুর জানিয়েছে, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের এই আন্দোলনে একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ করেছে। তারাই মূলত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল হোতা বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃত পোশাকশ্রমিকরা কখনোই রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি বা নিজেদের রুটি-রোজগারের জায়গা ধ্বংস করার মতো কাজে লিপ্ত হন না। তাদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে অনুপ্রবেশকারীরা পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালাচ্ছে। এই অপকর্মের মাধ্যমে পুরো শ্রমিক সমাজকে বিতর্কিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক নেতারা কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা কোনো প্রকার উসকানিতে পা না দেন এবং অযৌক্তিক সহিংসতা থেকে দূরে থাকেন। বরং তারা শ্রমিকদের দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। তারা মনে করেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যা আন্দোলনকারীদের কোনোভাবেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য যে, সরকার শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, তাকে শ্রমিক সংগঠনগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এটিকে তারা শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, এখন সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই এখন আর রাস্তায় অবস্থান না করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সকল কর্মীকে কারখানায় ফিরে গিয়ে উৎপাদন সচল রাখা উচিত।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শ্রমিক নেতারা। তারা অনুরোধ করেছেন, যেন কোনো নির্দোষ শ্রমিককে এই সহিংসতার দায়ে হয়রানি করা না হয়। প্রকৃত অপরাধী ও অনুপ্রবেশকারীদের নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত জটিলতাও ধাপে ধাপে নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

শিকড় ভোলা কখনোই উচিত নয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শিকড় ভোলা কখনোই উচিত নয়

সাফল্যের শিখরে আরোহণ করার পরেও নিজেদের আদি সত্তা বা শেকড়কে ভুলে না যাওয়ার আহ্বান উঠে এসেছে বিভিন্ন মহলে। মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট ও আত্মপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। যে অবস্থানেই মানুষ থাকুক না কেন, অতীতকে স্মরণ রাখা এবং মাটির সাথে সংযুক্ত থাকা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তাকে প্রকাশ করে। এই দর্শন অনুযায়ী, শিকড় ভোলা কেবল নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা নয়, বরং নৈতিক অবস্থানের বিচ্যুতিও বটে।

বর্তমান সময়ে আমরা যখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বজনীন হয়ে উঠছি, তখন অনেক সময় নিজের শিকড় বা গোড়াকে অবহেলা করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রকৃত উন্নয়ন ও মানসিক প্রশান্তি পেতে হলে শৈশব, পরিবার এবং নিজ সংস্কৃতির সাথে সংযোগ বজায় রাখা অপরিহার্য। একজন ব্যক্তি তার পরিবার, সমাজ এবং যে পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন, তা-ই তার আসল পরিচয় বহন করে। সাফল্যের মোহে বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার চাপে যারা নিজেদের উৎসকে ভুলে যান, তারা দীর্ঘমেয়াদে বিচ্ছিন্নতাবোধে ভুগতে পারেন। তাই শেকড়কে আঁকড়ে ধরে সামনের দিকে এগিয়ে চলাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মপরিচয়ের সংকট নিরসনে শেকড়ের সাথে নিবিড় সংযোগ অত্যন্ত কার্যকর। যারা নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অতীতের কঠিন সংগ্রামের কথা স্মরণ রাখেন, তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ধৈর্যশীল ও স্থির থাকতে পারেন। জীবন চলার পথে নানা প্রতিকূলতা আসতে পারে, কিন্তু সেই সময়ে নিজের শিকড়ই মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। নিজের মাটির গন্ধ, ভাষা এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করেই মানুষ বড় হয়। এই বিষয়গুলোকে বিসর্জন দিলে দীর্ঘস্থায়ী কোনো অর্জন পাওয়া সম্ভব নয়।

পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের গুরুত্ব তুলে ধরা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং বিশ্বায়নের ফলে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তন আসছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে যেন আমরা নিজস্বতা হারিয়ে না ফেলি, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিকড়কে অস্বীকার করা মানে হলো নিজের ভিত্তিভূমিকে দুর্বল করে ফেলা। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের উচিত মানুষকে তাদের শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগী করে তোলা।

পরিশেষে, জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা—যাই আসুক না কেন, শেকড়কে কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এটি একজন মানুষের মানবিকতা ও নৈতিকতার পরিচায়ক। মাটির সাথে সম্পর্ক রেখে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখাই হলো প্রকৃত জীবনের সার্থকতা। আমরা যারা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছি, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে যে অতীতের শ্রম ও স্মৃতি রয়েছে, তাকে শ্রদ্ধা জানানোই হবে আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি। তাই শিকড়কে মনে রাখা এবং একে শ্রদ্ধার সাথে পালন করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

সর্বশেষ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট গাজীপুরে অস্থিরতা: অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার শ্রমিক নেতারা, কাজে ফেরার আহ্বান শিকড় ভোলা কখনোই উচিত নয় সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে সরকার: মজিবুর রহমান মঞ্জু সিউলে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিএনপির প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ শ্রমিক অসন্তোষ ও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তির কঠোর সমালোচনা
Advertisement