গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে ঘটা সহিংসতা, গাড়ি পোড়ানো ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নেতারা। ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ গাজীপুর জানিয়েছে, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের এই আন্দোলনে একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ করেছে। তারাই মূলত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল হোতা বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃত পোশাকশ্রমিকরা কখনোই রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি বা নিজেদের রুটি-রোজগারের জায়গা ধ্বংস করার মতো কাজে লিপ্ত হন না। তাদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে অনুপ্রবেশকারীরা পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালাচ্ছে। এই অপকর্মের মাধ্যমে পুরো শ্রমিক সমাজকে বিতর্কিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক নেতারা কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা কোনো প্রকার উসকানিতে পা না দেন এবং অযৌক্তিক সহিংসতা থেকে দূরে থাকেন। বরং তারা শ্রমিকদের দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। তারা মনে করেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যা আন্দোলনকারীদের কোনোভাবেই কাম্য নয়।
উল্লেখ্য যে, সরকার শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, তাকে শ্রমিক সংগঠনগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এটিকে তারা শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, এখন সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই এখন আর রাস্তায় অবস্থান না করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সকল কর্মীকে কারখানায় ফিরে গিয়ে উৎপাদন সচল রাখা উচিত।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শ্রমিক নেতারা। তারা অনুরোধ করেছেন, যেন কোনো নির্দোষ শ্রমিককে এই সহিংসতার দায়ে হয়রানি করা না হয়। প্রকৃত অপরাধী ও অনুপ্রবেশকারীদের নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত জটিলতাও ধাপে ধাপে নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ