খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন আইনমন্ত্রী

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন আইনমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আদালতে মামলা দায়েরের আগেই নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-কেইস মেডিয়েশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান।

ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ২১(খ) ধারার আওতায় প্রাথমিকভাবে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের ১০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের আগে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা কমে বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের তফসিলভুক্ত সাত ধরনের বিরোধে ইতোমধ্যে প্রকল্পভুক্ত ২০টি জেলায় স্পেশাল মেডিয়েটরের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রমে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। পারিবারিক আদালত, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, বণ্টন, অগ্রক্রয়, পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও যৌতুকসংক্রান্ত বিরোধে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে ১১ হাজার ২৮০টি মামলা দায়ের হলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৪টিতে। নতুন মামলা দায়েরের হার ৬২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কমেছে, যা বিচারব্যবস্থায় মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব জেলায় পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হবে। এ উদ্যোগ সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিচারপ্রার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। মামলা আদালতে গড়ানোর আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আদালতের মামলার চাপও কমবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

অনুষ্ঠানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লুৎফর রহমান, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রফিকুল বারী, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফরিনা রীমা, সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) সুব্রত মল্লিক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান, সিভিল জজ মাহমুদুল ইসলাম মুন্না, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ, লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন। রবিবার রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ডাকে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও কারচুপির ফসল হিসেবে অভিহিত করেন। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের কার্যকারিতা এবং ভোটার তালিকা তৈরির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।

সমাবেশে সমবেত মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, গত লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তার অভিযোগ, ইভিএম মেশিনে কারিগরি ত্রুটির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে কারচুপির বিষয়টি। এছাড়াও তিনি ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর আপত্তি তুলেছেন। তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে বলেন, তার বর্তমান ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়। রাহুল গান্ধী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যতে এই অনিয়ম ও কারচুপির দায়ে জ্ঞানেশ কুমারকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জেলে যেতে হবে।

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো যে ইভিএম ভিত্তিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছে, তা পুনরায় স্পষ্ট হলো। সমাবেশস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। তারা দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন শাসকদলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে, যার ফলে নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না। বিরোধী জোটের নেতারা বারবার দাবি করে আসছেন যে, ব্যালট পেপারে ফিরে আসাই এখন ভারতীয় গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র উপায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তাপ ছড়াতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদের একজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি জেলের হুমকি দেওয়া দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলো ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এবার একেবারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

দিল্লির এই সমাবেশটি মূলত দেশব্যাপী ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধী নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রত্যেকেই আসন্ন নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাহুলের এই বক্তব্য ঘিরে শাসকদলের তরফ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ভোট প্রক্রিয়ার বিশুদ্ধতা বজায় রাখার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে এবং রাহুলের এই বক্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে নতুন ঘি ঢাললো বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস মূলত আত্মসমর্পণের ইতিহাস। স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করা এবং তাদের কাছে নতি স্বীকার করাই তাদের রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। রবিবারে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রিজভী। তিনি জামায়াতের আমিরের সম্প্রতি করা ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ শীর্ষক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা ঐতিহাসিকভাবেই স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির সাথে গোপন আঁতাত বজায় রেখে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে, তাদের মুখে বিপ্লবের কথা মানায় না। তাদের রাজনীতির প্রতিটি পরতে পরতে কেবল আত্মসমর্পণের চিত্রই ফুটে ওঠে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তার বক্তব্যে আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তখন এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের অবস্থান সবসময়ই অস্পষ্ট এবং সুবিধাবাদী। ক্ষমতার মসনদ ঠিক রাখতে তারা অতীতেও বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকারের সাথে নগ্নভাবে আপস করেছে। সেই পুরোনো স্বভাব এখনো রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ যখন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ, তখন জামায়াতের এ ধরনের কথাবার্তা মূলত জনগণের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপপ্রয়াস মাত্র।

একই আয়োজনে রিজভী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব অপতৎপরতা চালিয়ে জনগণ ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে বিএনপি অটল থাকবে এবং যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলন সফল হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রিজভী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় রাজনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে বাংলাদেশ। এই সময়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা কি আসলেই বিপ্লব চায় নাকি আবারও পেছনের দরজা দিয়ে কোনো অশুভ শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে মাঠ গরম করার কৌশল খুঁজছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে সাধারণ জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা কার রাজনীতি কী আর কে কোন আদর্শ ধারণ করে, তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারে। কোনো দলের অপরাজনীতি এখন আর টিকবে না। পরিশেষে তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি আগামী দিনে দেশ পরিচালনার জন্য এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে তারা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী।

সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর

ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক এই আদেশ দেন। একই ঘটনায় বাসার গৃহকর্মী নার্গিস বেগম আদালতে সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি প্রদান করেছেন। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পালন করছেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই অভিযুক্ত অর্ণবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে গৃহকর্মী নার্গিস বেগমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি অর্ণবকে কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা জরুরি। বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গৃহকর্মী নার্গিস বেগম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দিন এবং সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করছেন। নার্গিস বেগমের জবানবন্দি এই মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র যোগ করবে কি না, তা নিয়ে এখন আইনি পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আদালত গৃহকর্মীর জবানবন্দি রেকর্ড করে তা নথিভুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, আফিয়া আক্তারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্য হিসেবে ছেলে অর্ণবের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত চলছে। আদালত নির্দেশ দিলে তাকে পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করতে পারে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি একটি সংবেদনশীল মামলা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ভুল তথ্যের সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং সাক্ষীর বর্ণনার আলোকে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

এদিকে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আইনি অঙ্গনে নানা জল্পনা রয়েছে। অভিযুক্ত অর্ণবের আইনজীবী জামিনের আবেদন করবেন কি না বা রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে কতটুকু শক্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত আদালতের নির্দেশে অর্ণব কারাগারেই থাকছেন এবং গৃহকর্মীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করার মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এখন পুলিশের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।

সর্বশেষ
ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর সাভারে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিত রাজশাহীতে বৃষ্টিহীন আবহেও মাঠে গড়াল না বরিশাল-ঢাকা ম্যাচ কলকাতার কাছে দুদিনের ছুটি: ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির কোলে থাকা ৫টি গন্তব্যে লাঠিচার্জের ভিডিও করায় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি উপসাগরে কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজে রহস্যময় হামলা তাহসিফ হত্যা মামলা: গ্রেফতার তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর ও নায়েবে আমীরের রোকন পদ বাতিল
Advertisement