খুঁজুন
, ,

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন প্রাণী কচ্ছপ

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন প্রাণী কচ্ছপ

ধীর পায়ের হেঁটে যাওয়া চতুষ্পদী প্রাণী কচ্ছপ। একসময় সর্বত্রই পানিতে ও স্থলে এদের অবাধে বিচরণ করতে দেখা গেলেও মানব সৃষ্ট নানা কারণে বর্তমানে প্রকৃতি থেকে বিলীনের পথে বিপন্নপ্রায় সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী কচ্ছপ।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলায় দেশি কচ্ছপের দেখা পাওয়া অতি স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তখন নদী-নালা, খাল-বিল, ঝোপ-ঝাড়, পুকুর–ডোবাসহ অনেক জলাশয়েই কচ্ছপের দেখা মিলতো। কিন্তু বাসস্থানের অভাব, প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস, কৃষিজমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, চাষের জন্য বনভূমি পোড়ানো, জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারসহ নানা কারণে হারিয়ে যাওয়ার শেষ প্রান্তে রয়েছে কচ্ছপ।

সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে ও প্রবীন ব্যাক্তিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বিগত প্রায় অর্ধশত বছর আগে উপজেলার অধিকাংশ ডোবা-নালা ও পুকুর প্রায় সময়ই পতিত থাকতো। ফলে সেখানে পানি, কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছায় ভরে যেতো। আর সেই সুযোগে নির্ভয়ে পোকা-মাকরের পাশাপাশি বসবাস করতো কচ্ছপের মতো প্রাণী। তখন এসব খাল-বিল, পুকুর, ডোবা-নালা সেঁচ দিয়ে শুকালে সবার আগে চোখে পড়তো ছোট-বড় কচ্ছপ। কিন্তু বর্তমানে পানি দূষণ, খাদ্যাভাব ও মানুষের আক্রমণে দিন দিন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের বন্ধু কচ্ছপ।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান  বিভাগের প্রভাষক তফাজ্জল হোসেন আকন্দর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কচ্ছপ হল সরীসৃপ (Reptiles) শ্রেণির একটি দল, যাদের বৈজ্ঞানিক নাম “Testudines”। এই বর্গের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত, যেমন- সমুদ্র কচ্ছপ, মিঠা পানির কচ্ছপ, এবং স্থল কচ্ছপ। কচ্ছপ সাপ গুইসাপ ও কুমির প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী। দেশের ২৭ প্রজাতির কাছিমের মধ্যে গোত্রে ৪টি Cheloniidae ও Dermochelyidaeগোত্রে এক প্রজাতির কাছিম এবং Bataguridae, Testudinidae ও Trionychidae গোত্রে ২২ প্রজাতি রয়েছে। মিঠাপিানির কাছিমসহ Freshwater Tortoise (Cyclemis dentata), অধিকাংশ কাছিম দেশের সর্বত্র ব্যাপক ছড়িয়ে আছে।বাংলাদেশে মিঠাপানিতে বেশ কয়েক ধরনের কচ্ছপ দেখা যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: লাল-মুকুটি কড়ি কাইট্টা (Red-roofed turtle), সন্ধি কচ্ছপ (Indian Flapshell Turtle), এবং বোস্তামী কচ্ছপ। এছাড়াও, পাহাড়ি শিলা কচ্ছপ ও হলুদ কেটো কচ্ছপও মিঠাপানির কচ্ছপ হিসেবে পরিচিত।

তিনি আরও বলেন, জল ও ডাঙা দুই জায়গায়ই এরা বাস করতে পারে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে রাতের অন্ধকারে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পর মা কচ্ছপ ডিমগুলো মাটি, বালু বা অন্য যেকোনো জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রজাতি বিশেষ ৬০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। বেশির ভাগ প্রজাতির কচ্ছপের গড় আয়ু ১৫০ বছর হলেও এদের সর্বোচ্চ আয়ু ২৫০-৩০০ বছর।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা হাওরাঞ্চলের মানুষ। একসময়ে আমাদের এলাকায় পৌষ-মাঘের নিত্যকার দৃশ্য ছিলো নৌকার গলুইয়ে বসে রোদ পোহানো কচ্ছপের ছানা। শীতে নৌকা ব্যবহার হতো না, তাই ডিঙ্গি বা নৌকা ডুবিয়ে রেখে দেয়া হতো পুকুরে বা ডোবায়। সেই গলুই থেকে টুপ করে ডুব দিতো মানুষের সামান্য সাড়া পেলেই। অথচ এখন আমাদের এলাকাসহ সারা দেশে বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির নিরীহ প্রাণী কচ্ছপ। বর্তমানে এই কচ্ছপের দেখা পেতে আমাদের এখন যেতে হবে দেশের বাইরে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আশির দশকেও গ্রামগঞ্জের হাটগুলোর এক পাশে বিক্রি হতো শুধুই কচ্ছপ। চিৎ করে রাখা ছড়ানো সব কচ্ছপ। হিন্দু সম্প্রদায়ের মাংসের ভালো একটা যোগান আসতো কচ্ছপ থেকে। নব্বই দশকের পর হতে বিক্রয়ের জন্য আর বাজারে উঠতে দেখা যায়না কচ্ছপ। ফলে ক্রমেই হাওর-বাওর পুকুর-ডোবায় খাল-বিল থেকেও উধাও হয়ে যাচ্ছে কচ্ছপ। এখন কচ্ছপের দেখা মেলে কালেভাদ্রে।

জেলার দুর্গাপুর, পূর্বধলা, বারহাট্টা উপজেলার কয়েকজন কচছপ শিকারীর সাথে কথা বললে তারা জানান, বছরের কার্তিক মাস থেকে বৈশাখ পর্যন্ত (অক্টোবর থেকে এপ্রিল) কচ্ছপ শিকারের মৌসুম। আগে এসময় আমরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে নদী-নালা, খাল-বিল, ও ডোবা থেকে কাউট্টা/কচ্ছপ শিকার করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতাম। তবে, এখন আর আগের মতো কচ্ছপ শিকার ও বিক্রিও হয় না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, দেশে বন্যপ্রাণী আইনে যে কোনো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। ১৯৭৪ ও ২০১০ সালের আইনে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। এসব বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে যে আইন রয়েছে তাতে শাস্তির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। যতটুকু শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলো যদি কার্যকর করা হতো তাহলেও কচ্ছপ নিধন কমতো।

ভূল্লীতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
   
ভূল্লীতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে আদুরী রানী (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলার আরাজী কেশুরবাড়ি (আওতাইপাড়া) এলাকায় বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতের সীমানায় সড়ক জিগার গাছের ডাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আদুরী রানী ওই এলাকার সূর্য সাহার মেয়ে। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ক্ষিতীশ দেবনাথের ছেলে কিশোর দেবনাথের (২২) সঙ্গে আদুরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে, সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর দুজনের বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মনিরুজ্জামান মঞ্জু তাঁদের নিয়ে ঠাকুরগাঁও আদালতে এফিডেভিট করতে যান। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁরা ফিরে আসেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে আদুরী খাবার না খেয়ে অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছোট দুই বোনের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে তাঁর ছোট ভাই বাড়ির পেছনে গিয়ে একটি গাছের ডালে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান। পরে তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ভূল্লী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ভূল্লী থানার সেকেন্ড অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
   
জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট

একটি সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে চলমান জরুরি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, কর্মী ঘাটতির কারণে বহু কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহারহীন থেকে নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন গর্ভবতী নারী প্রসূতি অস্ত্রোপচারের জন্য এখানে আসেন, তবে যথাযথ জনবলের অভাবে সেবা প্রদান ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক জানান, গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি শল্যচিকিৎসার চাহিদা বাড়লেও, ডাক্তারের সংখ্যা, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি সরাসরি যন্ত্রপাতির ব্যবহারযোগ্যতা হ্রাস করছে। ফলে, উচ্চমূল্যের যন্ত্রপাতি দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, যা ধুলো, আর্দ্রতা ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণের কারণে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে কাজ করা একজন টেকনিশিয়ান উল্লেখ করেন, “যন্ত্রপাতি চালু না থাকলে তার মেকানিক্যাল অংশে জং জমে, সফটওয়্যার আপডেট না করা হলে সিস্টেমের ত্রুটি বাড়ে। এ ধরনের সমস্যার সমাধান না করলে যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, যা আর্থিক ক্ষতির বড় কারণ।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে প্রতি বছর কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বড় ধাক্কা মারবে। তারা সুপারিশ করছেন যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করে এই ঘাটতি দূর করতে হবে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিকারীও এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন যে, জনবলের ঘাটতি শুধুমাত্র যন্ত্রপাতির ক্ষতি নয়, রোগীর সেবার মানেও প্রভাব ফেলছে। “যদি যথাযথ কর্মী না থাকে, তবে জরুরি শল্যচিকিৎসা সময়মতো করা সম্ভব হয় না, যা মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।” তিনি যোগ করেন, “এটি একটি সিস্টেমিক সমস্যা, যা সমাধান না হলে রোগীর মৃত্যুহার বাড়তে পারে।”

হাসপাতালের প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তারা অস্থায়ীভাবে কিছু যন্ত্রপাতি অন্য হাসপাতাল থেকে ধার নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং শীঘ্রই অতিরিক্ত ডাক্তারের নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। তদুপরি, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নজরে নিয়ে জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করেছে। মন্ত্রীর মুখে স্পষ্ট হয়েছে যে, জনবলের ঘাটতি দূর করা এবং স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সুলভ ও নিরাপদ হতে হবে; এজন্যই আমরা কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেব।”

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের লড়াই, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের লড়াই, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের জন্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত, যেখানে প্রার্থীরা র‍্যালি, টাউন হল মিটিং এবং সরাসরি ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

বিশেষত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, কারণ এই নির্বাচনের ফলাফল পার্লামেন্টের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উভয় পার্টির নেতারা মিডিয়ায় বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ দুই দিনের মধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন রাজ্যে ঘন ঘন র‍্যালি আয়োজন করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। কিছু রাজ্যে প্রার্থীরা গৃহস্থালিতে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে তারা স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। এই ধরনের ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার প্রচার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মিডিয়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, শেষ মুহূর্তের এই প্রচারাভিযানগুলোতে সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ছে। প্রার্থীরা টুইটার, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যাতে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। একই সঙ্গে, প্রচলিত মিডিয়ার মাধ্যমে টেলিভিশন ও রেডিও বিজ্ঞাপনও বাড়িয়ে দিচ্ছেন দলগুলো।

নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফেডারেল নির্বাচন কমিশন (FEC) ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত কর্মী ও ভোটার সেন্টার স্থাপন করেছে। এছাড়া, ভোটারদের জন্য আগাম ভোটদান এবং মেইল-ইন ভোটের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণের হার সর্বোচ্চ করা যায়।

এই নির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেমোক্র্যাটরা যদি হাউসের বেশী সংখ্যক আসন জিতে নেয়, তবে তারা স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ নীতি এবং সামাজিক কল্যাণে নতুন আইন প্রণয়নে সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা যদি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তবে তারা কর হ্রাস, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শক্তি নীতিতে তাদের এজেন্ডা অগ্রসর করতে পারবে।

অবশেষে, ভোটারদের জন্য শেষ মুহূর্তের আহ্বান অব্যাহত রয়েছে। প্রার্থীরা ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে, ভোটারদেরকে তাদের অধিকার ব্যবহার করতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে উৎসাহিত করছেন। এই শেষ পর্যায়ের প্রচারাভিযানগুলোই শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলকে নির্ধারণ করবে।

সর্বশেষ
ভূল্লীতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের লড়াই, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ডিপফেকের শিকার জাহ্নবী কাপুর ও কীর্তি সুরেশের কঠোর আইন দাবি মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে গোষ্ঠী আক্রমণ, কয়েকজন মারধর শাকিল হত্যার সন্দেহভাজন সাতজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা হাদি হত্যার মামলায় সিআইডি প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল ফুটবলারদের সিদ্ধান্তের জটিলতা: বোকা বলা কি সঠিক? ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় আখতারুজ্জামানকে কারাগার থেকে মুক্তি
Advertisement