খুঁজুন
, ,

প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তির পথে ‘ঢোলকলমি’

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তির পথে ‘ঢোলকলমি’

আবহমান গ্রাম বাংলার প্রত্যেক এলাকায় বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জায়গায় অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা ঢোলকলমি। কয়েক বছর আগেও ঢোল কলমি গাছ দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই একটি পরিচিত নাম ছিল। তবে কালের বিবর্তনে ক্রমেই গাছটি বিলুপ্তির পথে।

অযত্ন-অবহেলায় জন্ম নেয়া এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়ে জমির ক্ষয়রোধ করে। কয়েক বছর আগেও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো। গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরা এর ডাটাকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করতেন। এর অপুর্ব ফুল যেকোনো বয়সী মানুষের নজর কাড়ে। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি কিছুটা মাইক আকৃতির ফুলটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। মধুর জন্য ফুলে আবার কালো ভোমরাও আসে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছটি সন্ধান করতে গেলে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায়নি এক সময়ের অতি পরিচিত প্রকৃতিতে অযত্নে বেড়ে ওঠা ঢোল কলমি গাছ।

জেলা সদরের মালনী এলাকার বাসিন্দা সরকারি চাকুরিজীবী ও লেখালেখির সাথে জড়িত কবি এনামুল হক পলাশের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ঢোল কলমি’ আমাদের অঞ্চলে গাছটির নাম উজাওড়ি। গত ৩০-৩৫ বছর আগেও এ গাছটি আমাদের এলাকয় দাপটের সাথে প্রভাব বিস্তার করে ছিল। অথচ এখন সারা উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ঘুরলেও কিছু কিছু জায়গা ছাড়া গাছটির অস্তিত্ব প্রায় বিলীনের পথে। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, গত ৯০ এর দশকে দেশজুড়ে ঢোল কলমি গাছ নিয়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় গুজব রটেছিল-ঢোলকলমি গাছে থাকা পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, এটা যেকোন মানুষকে কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। তৎকালীন সময়ে এ সংক্রান্ত খবর রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকায় মহামারীর মৃত্যুর খবরের মত কবে ক’জন মরল আবার ক’জন হাসপাতালে গেল সেরকম ভাবে প্রচারিত হয়েছিল প্রায় মাস জুড়ে। ব্যাস! শুরু  হয়ে গেল ঢোল কলমি নিধন। দিন কয়েকের মধ্যে সব ঢোল কলমি কেটে সাফ।‘বাঙালি যে, এত করিৎকর্মা কে জানতো!’ এরপর এ গুজবের আতংক চরম পর্যায়ে পৌছালে টিভিতে একজন বিশেষজ্ঞ পোকাটি ধরে এনে নিজের হাতের উপর ছেড়ে দিয়ে হাটিয়ে, তারপর হাত দিয়ে পিষে মেরে দেখিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, এটি আসলে খুবই নিরীহ একটি কীট, মোটেও প্রাণ সংহারী নয়। এরপর থেকেই আতঙ্ক কেটে যায়।  ততোদিনে ঢোল কলমি নিধন সম্পন্ন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বুদ্ধি দিয়ে যৌক্তিকতা খুজতে যায়ইনা আমরা বাঙালি। শুনলেই হলো, দে ছুট….! এতো হুজুগে মাতাল আমরা বাঙালি।‘ অনেক এলকায় স্বল্প হলেও ঢোল কলমি এখনও কালের স্বাক্ষী হিসেবে রয়েগেছে।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, মাত্র ক’বছর আগেও উপজেলার প্রায় অধিকাংশ ফসলের ক্ষেত, পুকুর ও বসতবাড়ির চারপাশে বেড়ার প্রধান উপকরণ হিসেবে এই ঢোল কলমির ব্যবহার হতো। কেউ কেউ কলমি গাছের সাথে নেট ও বাঁশের চটা ব্যবহার করে বেড়াকে শক্তিশালী করতো। ঢোল কলমি খরা ও বন্যায় সহনীয় বলে প্রতিকুল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। সহজেই আবার কলমি গাছ মারা যায় না বলে খাল-বিল, ডোবা এবং খোলামেলা পরিবেশে এ গাছ খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে। তবে বর্তমানে কলমি গাছের সংকটে এর ব্যবহার আর তেমন চোখে পড়ে না।

জেলা সদরের সিংহের বাংলা গ্রামের গৃহস্থ হাসেম আলী বলেন, ঢোল কলমি গাছটি খুবই উপকারী গাছ। এই ঢোল কলমির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নদীতীর ভাঙন রক্ষা করে। আমাদের এলাকার মা-বোনেরা এক সময় রান্নার কাজেও ব্যবহার করতো এই গাছটি। গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে পরিচিতি রয়েছে এই ঢোল কলমির।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তফাজ্জল হোসেন আকন্দ  বলেন, ঢোলকলমির বৈজ্ঞানিক নাম- ipomoea carnea। ইংরেজি নাম- Pink morning glory Bush morning glory। কিছু ভেষজ গুণও রয়েছে। ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা। ঢোল কলমি মূলত গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়।  গাছটির পাতা হৃৎপিণ্ডাকার, সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ঢোল কলমি খুবই উপকারী গাছ। নদীর তীর, খালপাড়ের মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখা, ভূমিক্ষয় রোধ, ভাঙনরোধে ঢোলকলমি গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র সুরক্ষায় মূল্যবান এ উদ্ভিদকে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সকলেরই উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম

গাইবান্ধায় ভয়াবহ ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল নামের এক চা ব্যবসায়ী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার খাতিরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে চড়া সুদে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঋণের আসল ও সুদের পাহাড়সম বোঝা বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপ ও হুমকির মুখে বিপর্যস্ত হয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

ঘটনার পর আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যা এই আত্মহত্যার করুণ চিত্র সামনে এনেছে। চিরকুটটিতে তিনি স্পষ্টভাবে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই বিপুলকে সুদের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। শুধু চাপ দিয়েই তারা ক্ষান্ত হননি, তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হচ্ছিল। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তার চিরকুটে আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছিলেন যে, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে এক পর্যায়ে তাকে ভিটেমাটি হারাতে হতে পারে। এই চরম মানসিক অস্থিরতা ও সামাজিক লাঞ্ছনার ভয়ে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, যারা সুদের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষকে এভাবে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ধরনের মহাজনদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে আরও অনেক ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ একইভাবে নিঃস্ব হওয়ার পাশাপাশি জীবন হারাবেন বলে মনে করছেন অনেকে। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চিরকুটে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ী বিপুলের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে। পুরো ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই করুণ পরিণতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল আশা করছে, চিরকুটে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন চড়া সুদের ফাঁদে পড়ে আর কাউকে অকালে প্রাণ দিতে না হয়।

সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। বিপুলসংখ্যক পর্যটক প্রতিবছর কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন সৈকতে ভিড় জমান। তবে এই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রায়শই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি, যা একটি পর্যটনবান্ধব দেশের জন্য কাম্য নয়। সমুদ্রসৈকতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের সচেতনতার অভাব এই প্রাণহানির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও পর্যটকদের মধ্যে তা মানার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে কম, যার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

পর্যটনশিল্পের প্রসারে থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের অনেক দেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার মূলে রয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সৈকতের বিশাল এলাকা জুড়ে পর্যাপ্ত লাইফগার্ডের অভাব, সতর্কতামূলক সংকেত অমান্য করার প্রবণতা এবং জরুরি উদ্ধারকাজে ধীরগতি পর্যটন অভিজ্ঞতাকে ম্লান করে দিচ্ছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কেবল আইন প্রয়োগ নয়, পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা জীবনের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কবার্তা বড় করে টাঙানো এবং পর্যটকদের নিয়মিত সচেতন করার প্রচারণা চালানো জরুরি। অসচেতন পর্যটকদের সামলাতে ও দুর্ঘটনা রোধে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। পর্যটন বিকাশের প্রাথমিক শর্তই হলো নিরাপত্তা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে পর্যটনশিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা কঠিন হবে।

আমাদের পর্যটন খাতের সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হলে সৈকতের অব্যবস্থাপনা দূর করার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতনতা তৈরিতে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পর্যটক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সৈকত এলাকাগুলোকে পর্যটকদের জন্য আরও বেশি নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখনই দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রাণের বিনিময়ে বিনোদন—এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিরাপদ পর্যটন সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। যথাযথ পদক্ষেপ ও জনসচেতনতাই পারে সৈকতের নিরাপত্তা-ঘাটতি দূর করে পর্যটন খাতের হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনতে।

মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে রূপচর্চার নানান ঘরোয়া উপায় বা হ্যাকস আমাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। এসবের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো মুখে বরফ ঘষা। অনেক রূপচর্চাবিদ বা ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, প্রতিদিন নিয়ম করে মুখে বরফের টুকরো ঘষলে ত্বকের ওপেন পোরস বা রোমকূপের ছিদ্র ছোট হয়ে আসে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধারণাটি কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত, নাকি এটি নিছকই একটি ইন্টারনেটের মিথ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।

চিকিৎসকদের মতে, আমাদের ত্বকের রোমকূপের আকার জিনগত কারণ বা হরমোনের পরিবর্তনের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। চাইলেই বরফ ঘষে এই প্রাকৃতিক ছিদ্রগুলোকে চিরতরে ছোট করে ফেলা সম্ভব নয়। যখন আমরা ত্বকে বরফ ঘষি, তখন ঠান্ডার প্রভাবে সাময়িকভাবে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়। এর ফলে ত্বক কিছুটা টানটান মনে হতে পারে এবং রোমকূপগুলোও সংকুচিত দেখায়। তবে এই প্রভাবটি অত্যন্ত সাময়িক। বরফ সরিয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ত্বক স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে এবং রোমকূপগুলো আবার আগের অবস্থায় চলে যায়। অর্থাৎ, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন যে, বরফ ব্যবহারের পদ্ধতি ভুল হলে উপকারের চেয়ে অপকার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সরাসরি ত্বকে বরফ ঘষা অনেকের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বরফের অতিরিক্ত শীতলতা ত্বকের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বরফ ধরে রাখলে বরফপোড়া বা কোল্ড বার্ন হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সরাসরি বরফের প্রয়োগ বিপজ্জনক হতে পারে।

রূপচর্চার ক্ষেত্রে কোনো নতুন পদ্ধতি অনুসরণের আগে তা ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বরফ ব্যবহারের যে চলটি জনপ্রিয় হয়েছে, তা মূলত ত্বকের সাময়িক সতেজতা বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে ওপেন পোরস বা ত্বকের গভীর কোনো সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকরী নয়। ত্বকের যত্নে সঠিক ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং রুটিন অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটে ছড়ানো সব রূপচর্চার টিপস অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। বরফ ঘষলে ত্বক সাময়িকভাবে সজীব মনে হতে পারে, কিন্তু এটিকে ওপেন পোরস দূর করার কোনো জাদুকরী ওষুধ হিসেবে দেখা ভুল। যদি ত্বকের রোমকূপের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকে, তবে কোনো বিশেষজ্ঞ চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঘরোয়া উপায়ের নামে ভুল অভ্যাস ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিসাধন করতে পারে, তাই যে কোনো রুটিন শুরুর আগে সজাগ থাকা প্রয়োজন।

সর্বশেষ
ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা নামলেই ছাতিমের সুবাস কেন ছড়ায় বাতাসে বেলে মাছের বালির নিচে লুকিয়ে থাকার রহস্য মস্কোর পার্কে হামলার ছক, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আটক
Advertisement