খুঁজুন
, ,

দীর্ঘ ১১ বছর পর বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা

রিপন কান্তি গুণঃ নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ ১১ বছর পর বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা

দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলন পরবর্তী একই সঙ্গে কাউন্সিলও অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবের আমেজ।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সরাসরি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মোট ৪৯৭ জন ভোটার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন। আসন্ন দ্বি-বার্ষিক সন্মেলনে সভাপতি পদে ৪ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন হেভিওয়েট  প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে।

নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য লড়বেন বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ। এ পদের জন্য অন্য প্রার্থীরা হলেন- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক আজাদ, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তালুকদার, বাউসী ইউনিয়নের ৩ বারের সফল সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রশীদ আলম তালুকদার।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন বর্তমান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিক আহম্মেদ কমল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্কাস আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল্লাহ সোহেল।

নির্বাচন নিয়ে কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা সৎ, আদর্শবান ও ত্যাগী নেতাদেরকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করতে চাই। যারা তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকবেন।

সভাপতি প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক আজাদ বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। তাই আমরা স্বাধীনভাবে দলের সম্মেলন করতে পারছি। বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে বারহাট্টা উপজেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আশা করি, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দল আরও সুসংগঠিত হবে ও শক্তিশালী হবে। সভাপতি পদে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতি প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রশীদ আলম তালুকদার জানান, আমার অভিযোগের ভিত্তিতে  উপজেলা বিএনপির সাত ইউনিয়নের কমিটি থেকে প্রশ্নবিদ্ধ কাউন্সিলর দের বাদ দিয়ে ত্যাগী ৪ জন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি আশা করি তৃনমুল বিএনপির ত্যাগী কাউন্সিলররা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তালুকদার জানান, আমি বিএনপির দুর্দিনে সভাপতি ছিলাম এবং কর্মীদের আগলে রেখেছিলাম। এখনও আমি তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে আছি। আমি সকল কাউন্সিলারদের কাছে যাচ্ছি আশা করি তারা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

সভাপতি প্রার্থী বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ বলেন, আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমাদের সম্মেলন। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা এখানে এসেছি। আমি তৃণমূল বিএনপির সাথে সবসময়ই ছিলাম এখনও আছি এবং থাকবো। আশা করি তারা আমাকে ভোটে জয়যুক্ত করবে।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব  আশিক আহমেদ কমল বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার আমাদের মামলা-হামলা করে নানারকম অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। তাদের অত্যাচারে অসংখ্য মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে আমাদের পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। তবুও আমি দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমি আশা করি, দলীয় নেতাকর্মীরা ভোট দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে আমাকে বিজয়ী করবেন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমান উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক  আক্কাস আলী বলেন, আমি মনে করি বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। আমি বিএনপির আদর্শের একজন সৈনিক। বিগত দিনে আমি সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছি ও জেল খেটেছি। আমি আশা করি এই নির্বাচনে কাউন্সিলাররা আমাকে ভোট দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করবেন।

আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমান উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আরিফুল্লাহ সোহেল  বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমার উপর হামলা মামলা ও  নির্যাতন হয়েছে। বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা। তারই প্রমাণ ২৫ তারিখের নির্বাচন। আমরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে চাই। আমি একজন তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে সবার সাথে থাকতে চাই। আমি আশা  করি ভোটাররা আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করবে।

সংশ্লিষ্ট  সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২০১৪ সালে বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ চলে গেলে ২০১৯ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। তারপর ২০১৯ সাল থেকে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যক্রম। এরপর ২০২২ সালে বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তৎক্ষালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মাইনুল হক কাশেম ও সাহতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চঞ্চলের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মী বিএনপির সম্মেলন মঞ্চে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বারহাট্টা কারিগরী ও বাণিজ্যক কলেজের মাঠে সম্মেলন দেওয়ার চেষ্টা করা হলে একই দিনে একই স্থানে যুবলীগের পোগ্রাম দেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে উপজেলা বিএনপি সম্মেলন স্থগিত করা হয়।

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৩১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি বিপজ্জনক হয়ে দেখা দেয়। জ্বর, কাশি ও শরীরে লাল দাগ বা ফুসকুড়ি এই রোগের প্রধান উপসর্গ। সময়মতো সচেতন না হলে এবং সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা পরবর্তীতে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশেরই যথাযথ টিকাদান সম্পন্ন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামের বিস্তার ঠেকাতে প্রতিটি এলাকায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে জেলাভিত্তিক সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত না হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারি উদ্যোগে চলমান এই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। যথাযথ সচেতনতা ও সময়মতো টিকা প্রদানই পারে এই ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি দিতে। অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার আওতা আরও বাড়ানো হবে। আক্রান্তদের সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে সব শিশুর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেটে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার ৬ নভেম্বর দুপুরে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন মন্ত্রী। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই মন্ত্রী তার নির্বাচনি এলাকা সিলেট-৪ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। সকালের দিকে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে তাকে স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিতে দেখা যায়। তবে দুপুরের দিকে আচমকা অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে মন্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সবার নজরে আসে। তিনি অস্বস্তি বোধ করায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিলেটের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের একটি দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে সিলেট জেলাজুড়ে তার নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও মন্ত্রীর অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দলের নেতারা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসনের নিয়মিত সংসদ সদস্য এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মব্যস্ততার মাঝে জনসেবামূলক কাজ করতে গিয়েই তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন। তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলেটিন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ধকল বা বিরতিহীন কর্মসূচির কারণে সাময়িক শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। তার সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে সিলেটবাসী। হাসপাতাল চত্বরে মন্ত্রীর অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেলেও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার সকল শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিশ্বে এক গভীর শূন্যতা ও আবেগের জন্ম দিয়েছে। মাঠের লড়াই থেকে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের সরে দাঁড়ানোর খবরে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে থাকা ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ব্যথিত হয়েছেন। এই মুহূর্তটিকে কেবল একজন খেলোয়াড়ের বিদায় হিসেবে না দেখে, বরং একটি যুগের পরিসমাপ্তি হিসেবেই দেখছে ফুটবলপ্রেমীরা। এমন আবেগঘন মুহূর্তে পর্তুগিজ মহাতারকার ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, রোনালদোর মতো খেলোয়াড় বিশ্ব ফুটবলে বিরল। তার মতে, রোনালদোর অর্জিত মাইলফলকগুলো কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রোনালদো ফুটবল ক্যারিয়ারে এমন সব কীর্তি ও রেকর্ড গড়েছেন, যার পুনরাবৃত্তি করা পরবর্তী প্রজন্মের কোনো খেলোয়াড়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়ার ক্ষমতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার জেদই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন ইনফান্তিনো।

ফিফা প্রধানের মতে, রোনালদোর এই অনন্য ফুটবল যাত্রা কেবল ট্রফি কিংবা গোলের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তিনি যেভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ফুটবল সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তা অতুলনীয়। একজন অ্যাথলেট হিসেবে তার নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতি তরুণ ফুটবলারদের জন্য চিরকাল একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ইনফান্তিনো তার বার্তায় উল্লেখ করেন, রোনালদোর মাঠে থাকা মানেই ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছুর জন্ম দেওয়া। বিশ্বজুড়ে অগণিত ফুটবল ভক্তদের জন্য তিনি যে আনন্দের মুহূর্তগুলো উপহার দিয়ে গেছেন, তা ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

রোনালদোর এই অবসরের সিদ্ধান্তটি ক্রীড়া বিশ্লেষকদের কাছে অপ্রত্যাশিত না হলেও, এটি নিশ্চিতভাবেই ফুটবল ইতিহাসের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নিজেকে সর্বোচ্চ শিখরে রেখেছেন। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয় এবং অসংখ্য শিরোপা জয়ের রেকর্ড তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং বয়সকে হার মানিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখা ছিল অনেকের কাছেই বিস্ময়ের।

ইনফান্তিনোর এই মন্তব্য বিশ্ব ফুটবলে রোনালদোর অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানের কথাই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল। যখন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে খোদ বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান এমন মন্তব্য করেন, তখন তা কেবল একটি বিদায়ী বার্তা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের একটি মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। পর্তুগিজ এই ফুটবল আইকনের অবসর পরবর্তী জীবন কেমন কাটে, তা নিয়েও এখন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। তবে আপাতত, ইনফান্তিনোর সুরেই সুর মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব বিদায় জানাচ্ছে এমন এক মহাতারকাকে, যার অভাব পূরণ হওয়া সত্যিই দুষ্কর। রোনালদোর ফুটবল মাঠের সেই চেনা গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং এবং গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার দৃশ্যগুলো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতির মণিকোঠায় বহুদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ
দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় মামলা