খুঁজুন
, ,

প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তির পথে ‘ঢোলকলমি’

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তির পথে ‘ঢোলকলমি’

আবহমান গ্রাম বাংলার প্রত্যেক এলাকায় বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জায়গায় অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা ঢোলকলমি। কয়েক বছর আগেও ঢোল কলমি গাছ দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই একটি পরিচিত নাম ছিল। তবে কালের বিবর্তনে ক্রমেই গাছটি বিলুপ্তির পথে।

অযত্ন-অবহেলায় জন্ম নেয়া এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়ে জমির ক্ষয়রোধ করে। কয়েক বছর আগেও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো। গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরা এর ডাটাকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করতেন। এর অপুর্ব ফুল যেকোনো বয়সী মানুষের নজর কাড়ে। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি কিছুটা মাইক আকৃতির ফুলটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। মধুর জন্য ফুলে আবার কালো ভোমরাও আসে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছটি সন্ধান করতে গেলে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায়নি এক সময়ের অতি পরিচিত প্রকৃতিতে অযত্নে বেড়ে ওঠা ঢোল কলমি গাছ।

জেলা সদরের মালনী এলাকার বাসিন্দা সরকারি চাকুরিজীবী ও লেখালেখির সাথে জড়িত কবি এনামুল হক পলাশের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ঢোল কলমি’ আমাদের অঞ্চলে গাছটির নাম উজাওড়ি। গত ৩০-৩৫ বছর আগেও এ গাছটি আমাদের এলাকয় দাপটের সাথে প্রভাব বিস্তার করে ছিল। অথচ এখন সারা উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ঘুরলেও কিছু কিছু জায়গা ছাড়া গাছটির অস্তিত্ব প্রায় বিলীনের পথে। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, গত ৯০ এর দশকে দেশজুড়ে ঢোল কলমি গাছ নিয়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় গুজব রটেছিল-ঢোলকলমি গাছে থাকা পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, এটা যেকোন মানুষকে কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। তৎকালীন সময়ে এ সংক্রান্ত খবর রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকায় মহামারীর মৃত্যুর খবরের মত কবে ক’জন মরল আবার ক’জন হাসপাতালে গেল সেরকম ভাবে প্রচারিত হয়েছিল প্রায় মাস জুড়ে। ব্যাস! শুরু  হয়ে গেল ঢোল কলমি নিধন। দিন কয়েকের মধ্যে সব ঢোল কলমি কেটে সাফ।‘বাঙালি যে, এত করিৎকর্মা কে জানতো!’ এরপর এ গুজবের আতংক চরম পর্যায়ে পৌছালে টিভিতে একজন বিশেষজ্ঞ পোকাটি ধরে এনে নিজের হাতের উপর ছেড়ে দিয়ে হাটিয়ে, তারপর হাত দিয়ে পিষে মেরে দেখিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, এটি আসলে খুবই নিরীহ একটি কীট, মোটেও প্রাণ সংহারী নয়। এরপর থেকেই আতঙ্ক কেটে যায়।  ততোদিনে ঢোল কলমি নিধন সম্পন্ন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বুদ্ধি দিয়ে যৌক্তিকতা খুজতে যায়ইনা আমরা বাঙালি। শুনলেই হলো, দে ছুট….! এতো হুজুগে মাতাল আমরা বাঙালি।‘ অনেক এলকায় স্বল্প হলেও ঢোল কলমি এখনও কালের স্বাক্ষী হিসেবে রয়েগেছে।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, মাত্র ক’বছর আগেও উপজেলার প্রায় অধিকাংশ ফসলের ক্ষেত, পুকুর ও বসতবাড়ির চারপাশে বেড়ার প্রধান উপকরণ হিসেবে এই ঢোল কলমির ব্যবহার হতো। কেউ কেউ কলমি গাছের সাথে নেট ও বাঁশের চটা ব্যবহার করে বেড়াকে শক্তিশালী করতো। ঢোল কলমি খরা ও বন্যায় সহনীয় বলে প্রতিকুল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। সহজেই আবার কলমি গাছ মারা যায় না বলে খাল-বিল, ডোবা এবং খোলামেলা পরিবেশে এ গাছ খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে। তবে বর্তমানে কলমি গাছের সংকটে এর ব্যবহার আর তেমন চোখে পড়ে না।

জেলা সদরের সিংহের বাংলা গ্রামের গৃহস্থ হাসেম আলী বলেন, ঢোল কলমি গাছটি খুবই উপকারী গাছ। এই ঢোল কলমির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নদীতীর ভাঙন রক্ষা করে। আমাদের এলাকার মা-বোনেরা এক সময় রান্নার কাজেও ব্যবহার করতো এই গাছটি। গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে পরিচিতি রয়েছে এই ঢোল কলমির।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তফাজ্জল হোসেন আকন্দ  বলেন, ঢোলকলমির বৈজ্ঞানিক নাম- ipomoea carnea। ইংরেজি নাম- Pink morning glory Bush morning glory। কিছু ভেষজ গুণও রয়েছে। ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা। ঢোল কলমি মূলত গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়।  গাছটির পাতা হৃৎপিণ্ডাকার, সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ঢোল কলমি খুবই উপকারী গাছ। নদীর তীর, খালপাড়ের মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখা, ভূমিক্ষয় রোধ, ভাঙনরোধে ঢোলকলমি গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র সুরক্ষায় মূল্যবান এ উদ্ভিদকে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সকলেরই উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয়

পিছিয়ে পড়া ম্যাচ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের স্বাদ পাওয়া ফুটবলে সবসময়ই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম। আর সেই জয়ের কান্ডারি যখন লিওনেল মেসি হন, তখন তা যেন এক রূপকথার গল্পের মতো শোনায়। মেজর লিগ সকারের নিয়মিত মৌসুমে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির সাম্প্রতিক ম্যাচটি তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে মায়ামি।

ম্যাচের শুরুতে পরিস্থিতি একেবারেই ইন্টার মায়ামির পক্ষে ছিল না। প্রতিপক্ষ নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে মায়ামির রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খেলার প্রথমার্ধের দিকে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লে মায়ামির ডাগআউটে কিছুটা অস্বস্তি নেমে আসে। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল বড়, কিন্তু গোল হজম করার পর দলের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ভাটা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে মাঠে অধিনায়ক হিসেবে মেসি ছিলেন বরাবরের মতোই শান্ত এবং স্থির। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দলগত সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

বিরতির পর মাঠে ফিরে যেন নতুন রূপ ধারণ করে মায়ামি। মেসি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান দেওয়া, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা—সবকিছুই ছিল নিখুঁত। সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণ শানাতে শুরু করে ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে মেসির অসাধারণ এক পাস থেকে সতীর্থ গোল আদায় করে নিলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সমতায় ফিরে আসার পর মায়ামির খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। ঠিক এমন সময়ে মেসি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেন। জয়সূচক গোলটি করার সময় তার অভিজ্ঞতা ও ক্ষিপ্রতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে তিনি যখন বল জালে জড়ালেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। এক গোল খাওয়ার পর যেভাবে মায়ামি ফিরে এসেছে, তা তাদের লড়াকু মানসিকতারই পরিচয় দেয়।

এই জয়ের গুরুত্ব শুধু পয়েন্টের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত মৌসুমের শেষদিকে এসে প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত মূল্যবান। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলটিকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলে দিয়েছে মায়ামি। মৌসুমের সমীকরণ যখন শেষের দিকে, তখন এমন জয় দলের সামগ্রিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে তুলল। পয়েন্ট তালিকার উন্নতি কেবল দলের আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং প্লে-অফের লড়াইয়েও তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।

মেসির এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। মাঠে তার উপস্থিতিতেই দলের চিত্র বদলে যায়। ইন্টার মায়ামির কোচ থেকে শুরু করে সতীর্থ এবং ভক্ত—সবাই এখন সামনের ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। মেসি যদি এমন ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে মায়ামির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হবে। আজকের এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ নয়, বরং দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করার একটি উপলক্ষ হিসেবে কাজ করবে।

স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ

ইউরোপের শীতকাল মানেই সাদা বরফের চাদরে ঢাকা পাহাড় আর হিমশীতল বাতাসের এক রোমাঞ্চকর আবহ। শীত এলেই পর্যটকদের একটা বড় অংশ ভিড় জমান ইউরোপের বিভিন্ন স্কি রিসোর্টে। অনেকের কাছে শীতকালীন ভ্রমণের একমাত্র মানেই হলো স্কিইং। তবে বিষয়টি যদি কেবল বরফের ওপর স্লাইড করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো সাধারণ পর্যটকদের জন্য ইউরোপের শীতের আকর্ষণ এত বিশাল হতো না। আপনি যদি স্কিইংয়ে পারদর্শী না হন বা এই রোমাঞ্চকর খেলায় আগ্রহ বোধ না করেন, তবুও ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ হতে পারে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতার একটি। স্কিইংয়ের বাইরেও ইউরোপের শীত উপভোগ করার এমন অনেক উপায় রয়েছে যা আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখতে পারে।

ইউরোপের দীর্ঘ শীতকালীন দিনগুলোতে বরফে ঢাকা বনভূমিতে হাঁটাহাঁটি করা এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। শান্ত, নিস্তব্ধ বনের ভেতর দিয়ে বরফের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় চারপাশের প্রকৃতি যে রূপ ধারণ করে তা এক কথায় জাদুকরী। এছাড়া যারা কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য কুকুরের স্লেজে চড়া হতে পারে দারুণ একটি সুযোগ। অনেক পর্যটকই এই স্লেজ রাইডকে শীতকালীন ভ্রমণের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। বরফের ওপর দিয়ে ছুটে চলা স্লেজ আপনাকে দেবে এক দারুণ গতি আর আনন্দের অনুভূতি।

শীতের ইউরোপে হিমায়িত হ্রদে মাছ ধরার অভিজ্ঞতারও জুড়ি নেই। বরফ কেটে নিচে জাল বা বড়শি ফেলে মাছ ধরার এই পদ্ধতিটি যেমন কৌতুহলোদ্দীপক, তেমনি ধৈর্য ও কৌশলের পরীক্ষা নেয়। আবার শীতের সন্ধ্যায় নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিস দেখার জন্য ইউরোপের উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলো বেছে নিতে পারেন। রাতের আকাশে রঙের যে খেলা তৈরি হয়, তা পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ উপহার। এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া ও সঠিক গন্তব্য বেছে নেওয়া জরুরি।

বরফের ওপর আইস স্কেটিং ইউরোপীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক শহর কিংবা পর্যটন কেন্দ্রের পাশে কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক আইস রিং তৈরি করা হয় যেখানে ছোট-বড় সবাই মিলে স্কেটিংয়ের আনন্দ নিতে পারেন। এছাড়া শীতের সন্ধ্যায় স্থানীয় ক্রিসমাস মার্কেটগুলোতে ঘুরে বেড়ানো, উষ্ণ পানীয় পান করা এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া ভ্রমণকে অন্য মাত্রা দেয়। সবশেষে বলা যায়, স্কিইং জানা কিংবা না জানা বড় কথা নয়, ইউরোপের শীতকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে অনুভব করাই আসল ভ্রমণ আনন্দ। প্রতিটি গন্তব্যের নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে, যা আপনার শীতের ছুটিকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও আনন্দময়। সঠিক পরিকল্পনা আর প্রস্তুতির মাধ্যমে স্কিইং ছাড়াও ইউরোপে কাটিয়ে আসতে পারেন এক দারুণ শীতের অবকাশ।

মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে একটি বেসরকারি হোটেলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। হোটেলের বর্জ্য চেম্বার বা স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারা মারা যান। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, শনিবার গভীর রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা চেম্বার পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকদের নিযুক্ত করেছিল। কাজ চলাকালীন চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন শ্রমিকরা। ভেতরে থাকা কোনো ব্যক্তি বের হতে না পারায় এবং তীব্র গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে তারা অচেতন হয়ে পড়েন। এর ফলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই উদ্ধার অভিযানে আরও একটি বিপত্তি ঘটে। চারজনকে উদ্ধার করতে চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করেন আরও দুজন। কিন্তু তারাও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের তড়িঘড়ি করে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার পর তাদের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা মিথেন বা অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শ্রমিকদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ ঘটনার পর হোটেলের মালিক ও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পরিষ্কারের কাজে বিশেষ সুরক্ষামূলক পোশাক ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না। এই অবহেলার কারণে মূল্যবান প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল। ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলকেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এই মুহূর্তে শোকের মাতম চলছে। প্রশাসন তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, ওই হোটেলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষও তদন্ত চালাচ্ছে। শহরের অন্যান্য হোটেলের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ
মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয় স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬)
Advertisement