লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১৬ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার প্রকল্পে চরম ধীরগতি, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সাড়ে ১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। উন্নয়নমূলক কাজের এমন অস্বাভাবিক ধীরগতিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণে প্রকল্পের কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনজীবনে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার নাগরিকদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে এই বড় অংকের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে যে হারে কাজ চলছে, তাতে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকায় পৌর এলাকার প্রধান সড়কগুলোর বেহাল দশা কাটছে না। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বললেই চলে। সড়কগুলোর সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক স্থানেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে, যার ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে অসম্পূর্ণ কাজ ফেলে রাখায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি তদন্ত করে কাজের গতি বাড়ানো হোক, যাতে সাধারণ মানুষ এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে।
এদিকে পৌর এলাকার উন্নয়নকাজের এই ধীরগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিকদের দাবি, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কঠোর নজরদারি বজায় রাখা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করা আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রকল্পের এমন ধীরগতির কারণ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। জনস্বার্থে নেওয়া এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে সময়মতো ও যথাযথ গুণমান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানে দেখার প্রত্যাশা করছেন বাসিন্দারা। সঠিক সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে ভবিষ্যতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। বর্তমানে পৌরবাসীর একটাই দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে তাদের চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]