ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও ইসরায়েলে সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে তোলপাড় মার্কিন রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলাফল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। নির্বাচনে এই পরাজয়ের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানান বিশ্লেষণ উঠে আসছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফলের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খোদ রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে একটি বড় কারণ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে দলটির এই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য রো খান্না এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি কেবল যুদ্ধের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি, বরং ইসরায়েলে সামরিক ও অর্থনৈতিক সব ধরনের সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তা হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে মার্কিন জনগণের মতামতের ওপর প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে যে আমূল পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছিল, তা কি নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। রো খান্নার এই প্রস্তাব সেই বিতর্কের আগুনে নতুন ঘি ঢেলেছে। তিনি মনে করছেন, ইসরায়েলকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার এই অবস্থান ডেমোক্র্যাটদের মধ্য থেকেও ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাব দীর্ঘদিনের।
নির্বাচনী ফলাফলের পরবর্তী এই সময়ে ইরান, ইসরায়েল এবং ইউক্রেন—এই ত্রিভুজ সমীকরণে ট্রাম্প প্রশাসন কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই নতুন সমীকরণে বড় ধরনের বদল আসতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে না হেঁটে কীভাবে কূটনৈতিক সমাধান বের করা যায়, তা নিয়ে চাপে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে ইসরায়েলের জন্য সহায়তা বন্ধের দাবি শুধু রাজনৈতিক কৌশলের অংশ নাকি নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন, তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তুমুল তর্ক-বিতর্ক শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের গত দুই বছরের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নেওয়া কঠোর অবস্থানগুলো নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটারদের একটি বড় অংশ দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাইরে যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রো খান্নার মতো নেতাদের এমন প্রস্তাব নতুন করে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সামনের দিনগুলোতে মার্কিন কংগ্রেস এই ইস্যুতে কী ধরনের আইন প্রণয়ন করে বা বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আপাতত বিষয়টি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইস্যু হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]