বরিশালে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ স্থানীয় শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় একটি সরকারি সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশজুড়ে থাকা সরকারি জায়গার গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে কেটে সাবাড় করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ী। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতির নেতৃত্বে তার অনুসারীরা গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এই গাছ কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। চোখের সামনে সরকারি সম্পত্তি এভাবে উজাড় হতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি রাস্তার ধারের বড় বড় গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় মঙ্গলবার উজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে থানায় দায়ের করা অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয়রা অভিযুক্ত হিসেবে জিয়া আমিন রাঢ়ীর সম্পৃক্ততার কথা জোরালোভাবে বলছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের গাছগুলো কেটে ফেলায় রাস্তাটি এখন অনেকটা বৃক্ষহীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা ও তার অনুসারীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এসব গাছ কেটে ট্রাকযোগে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। তারা স্থানীয়ভাবে বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। গাছ কাটার এই ঘটনার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার সৌন্দর্য ও ছায়াও নষ্ট হয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। সরকারি রাস্তার গাছ কাটার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, যারা সরকারি এই সম্পদের ক্ষতি করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। বিষয়টি নিয়ে এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]