খুঁজুন
, ,

বরিশালে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ স্থানীয় শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ স্থানীয় শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় একটি সরকারি সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশজুড়ে থাকা সরকারি জায়গার গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে কেটে সাবাড় করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ী। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতির নেতৃত্বে তার অনুসারীরা গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এই গাছ কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। চোখের সামনে সরকারি সম্পত্তি এভাবে উজাড় হতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি রাস্তার ধারের বড় বড় গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় মঙ্গলবার উজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে থানায় দায়ের করা অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয়রা অভিযুক্ত হিসেবে জিয়া আমিন রাঢ়ীর সম্পৃক্ততার কথা জোরালোভাবে বলছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের গাছগুলো কেটে ফেলায় রাস্তাটি এখন অনেকটা বৃক্ষহীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা ও তার অনুসারীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এসব গাছ কেটে ট্রাকযোগে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। তারা স্থানীয়ভাবে বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। গাছ কাটার এই ঘটনার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার সৌন্দর্য ও ছায়াও নষ্ট হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। সরকারি রাস্তার গাছ কাটার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, যারা সরকারি এই সম্পদের ক্ষতি করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। বিষয়টি নিয়ে এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, দায় চাপালেন ভ্যান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, দায় চাপালেন ভ্যান্স

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয় এবং কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ফলাফলের নেপথ্যের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ। তার মতে, সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধের প্রভাব ভালোভাবে গ্রহণ করেনি এবং এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ভোটের মাঠে দলের এই বিপর্যয় নেমে এসেছে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা এবার বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য পুনরায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের বড় একটি অংশ বর্তমান প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে ইরানের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণ ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জেডি ভ্যান্স দলের ব্যর্থতা স্বীকার করে যে বার্তাটি দিয়েছেন, তা মূলত দলের ভেতরের অসন্তোষকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, কোনো রাখঢাক ছাড়াই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৎভাবে আলোচনার সময় এসেছে।

ইরান যুদ্ধের বিষয়টি আমেরিকান রাজনীতিতে সবসময়ই একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। ভ্যান্সের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে যে, রিপাবলিকানরা কি সত্যিই কেবল যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই এই জনসমর্থন হারিয়েছে, নাকি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশল বা অর্থনৈতিক নীতিও সমানভাবে দায়ী? দলের ভেতরের অনেকেই ভ্যান্সের এই ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানালেও, রক্ষণশীল শিবিরের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে দলীয় দুর্বলতার আড়াল হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, যুদ্ধের চেয়েও বড় সংকট হয়তো ছিল দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব এবং ভোটারদের চাহিদা বোঝার অক্ষমতা।

এদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন করে তাদের এজেন্ডা সাজাতে শুরু করেছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি কি আসলেই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে পেরেছে? ভ্যান্সের এই স্বীকারোক্তি বিরোধী শিবিরের জন্য ট্রাম্প ও তার দলের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে ২০২৬ সালের পরবর্তী সময়ে রিপাবলিকানদের জন্য আইন প্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের বাধা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভ্যান্সের এই বিশ্লেষণকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আগামীতে তাদের কৌশলগত পরিবর্তন কী হবে।

নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন আঙ্গিকে পরাজয়ের কারণ খুঁজছেন। কেউ কেউ বলছেন, ভোটাররা আসলে যুদ্ধের ভয়ংকর পরিণতির চেয়ে ঘরোয়া সমস্যার সমাধানকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয়গুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, রিপাবলিকান দলের ভেতরেই বৈদেশিক নীতি নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। ইরান ইস্যুতে নেওয়া তাদের সাম্প্রতিক অবস্থান যে ভোটারদের একটি বড় অংশকে হতাশ করেছে, তা ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট। এখন দলের হাই কমান্ড কীভাবে এই ক্ষত সারিয়ে তোলে, সেটাই মার্কিন রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ে দেখার বিষয় হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট নির্বাচনে ৫ নম্বর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন মুলুকের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, তার জন্মস্থান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জেও বইছে আনন্দের ঢেউ। তার পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় মানুষ এই জয়ে দারুণ গর্বিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি আইন ও জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ৫ নম্বর আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে শেখ মুজাহিদুর রহমানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। ফলে সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার এই ঘটনা যেমন তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়, তেমনি দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও তুলে ধরে। স্থানীয় ভোটাররা তার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট।

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দনের আদি নিবাস বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে। তার বড় ভাই বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে স্থানীয়ভাবে এই জয়কে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা এই প্রবাসী নেতার ওপর স্থানীয় জনগণের আস্থা অটুট রয়েছে। তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পেছনে এলাকার মানুষের সমর্থন ও প্রবাসী কমিউনিটির সম্মিলিত প্রয়াস কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। শেখ মুজাহিদুর রহমানের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি অতীতেও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই ভোটাররা তাকে পুনরায় বেছে নিতে দ্বিধা করেননি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেভাবে নিজের নির্বাচনি এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন, তা তাকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে তার আত্মীয়-স্বজন এবং শুভানুধ্যায়ীরা মিষ্টি বিতরণ এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করছেন। তাদের মতে, বিদেশে একজন আপনজন দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ হলেও, তার দীর্ঘদিনের কাজের স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠাই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রবাসী এই নেতা আগামী দিনে তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সেখানকার ভোটাররা। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তার এই জয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। সব মিলিয়ে তার এই সাফল্যে এখন খুশির আমেজ বিরাজ করছে তার জন্মভূমি ও কর্মস্থল উভয় জায়গাতেই।

১২ দেশে কর্মী পাঠানোর নিয়মে কড়াকড়ি: মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
১২ দেশে কর্মী পাঠানোর নিয়মে কড়াকড়ি: মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। মূলত ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ১২টি নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে এই কঠোর নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠান যদি এসব দেশে কর্মী পাঠাতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পূর্বানুমতি বা নিয়োগানুমতি গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এই অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মীর অনুকূলে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু করা হবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়েছে, যাতে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশনা রয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ার। বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৪ নভেম্বর এই চিঠি জারির পর থেকেই নতুন নিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠছিল। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগী বা অসাধু চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক কর্মী বিদেশে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ পান না। এই ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার আগে প্রতিটি আবেদনের খুঁটিনাটি যাচাই করবে। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগানুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মীকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সুরক্ষিত হবে এবং ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রবণতা কমবে। বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। অনেক সময় কিছু দেশ বা কোম্পানি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট শর্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ চুক্তির আশ্রয় নেয়। মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নজরদারি থাকলে এসব ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এজেন্সিগুলোকে এখন থেকে প্রতিটি আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মসংস্থান চুক্তিসহ আনুষঙ্গিক সকল নথিপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে যদি সন্তুষ্ট হয়, কেবল তখনই অনুমতি প্রদান করা হবে। এছাড়া, যেসব দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনগত বা শ্রমবাজারের জটিলতা রয়েছে, সেসব দেশের ক্ষেত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিয়ম না মেনে কর্মী পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পরিপত্রটি দেশের শ্রম অভিবাসন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু এই ১২টি দেশ নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে একই ধরনের নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে। এতে করে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। মূলত, প্রতিটি কর্মী যাতে সঠিক চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে এবং বৈধ পন্থায় বিদেশে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এখন থেকে এজেন্সিগুলোকে প্রতিটি ধাপের জন্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলবে।

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, দায় চাপালেন ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান ১২ দেশে কর্মী পাঠানোর নিয়মে কড়াকড়ি: মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫ ডিবি হেফাজতে দুই সাংবাদিক: সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া বরিশালে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ স্থানীয় শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের জন্য নতুন মনিটরিং নীতি চালু মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি হারের ফলে ইলন মাস্কের ক্ষতি ছয় হাজার কোটি ডলারের বেশি বিএনপি নেতার পুত্রের ওপর গৃহ হিংসা-ভাঙচুরের অভিযোগ, বাবা নিজে সোপর্দে দিলেন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করা সাতজন মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের পরিচয়