খুঁজুন
, ,

বায়ুদূষণের প্রভাবে রুক্ষ চুল: যেভাবে নেবেন ৫ ঘরোয়া যত্ন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
বায়ুদূষণের প্রভাবে রুক্ষ চুল: যেভাবে নেবেন ৫ ঘরোয়া যত্ন

শহুরে যান্ত্রিক জীবনে বায়ুদূষণ এখন এক নিত্যসঙ্গী। আমাদের শরীরের ফুসফুস বা ত্বকের সুরক্ষার বিষয়ে আমরা যতটা সচেতন, চুলের ক্ষেত্রে অনেকেই ততটা যত্নশীল নন। অথচ বাতাসে ভেসে থাকা ধুলোবালি, ধোঁয়া এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক কণাগুলো আমাদের মাথার ত্বক ও চুলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সূক্ষ্ম ধূলিকণা চুলের কিউটিকলে ঢুকে পড়ে আর্দ্রতা শুষে নেয়, যার ফলে চুল তার স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে রুক্ষ, শুষ্ক এবং প্রাণহীন হয়ে ওঠে। দূষণের পাশাপাশি জলদূষণ এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণেও চুলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তাই শীত কিংবা বর্ষা—সব ঋতুতেই চুলের জন্য আলাদা যত্নের প্রয়োজন। বাজারে বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া গেলেও, ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমেই চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আজ আলোচনা করব এমনই পাঁচটি কার্যকরী মাস্ক নিয়ে, যা আপনার চুলকে রাখবে সতেজ ও ঝলমলে।

প্রথমত, টক দই ও মধুর মাস্ক অত্যন্ত কার্যকর। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখে এবং মধু চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সমপরিমাণ টক দই ও মধুর মিশ্রণ চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দ্বিতীয়ত, অ্যালোভেরা জেল ও নারকেল তেলের মিশ্রণ চুলের রুক্ষতা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং নারকেল তেল চুলকে গভীর থেকে পুষ্টি জোগায়। অ্যালোভেরা জেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে নিয়মিত চুলে ম্যাসাজ করলে দূষণের প্রভাব অনেকটা কমে আসে। তৃতীয়ত, ডিম ও অলিভ অয়েলের মাস্ক প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক। ডিমের কুসুম এবং অলিভ অয়েলের মিশ্রণ চুলে প্রোটিনের জোগান দেয়, যা চুলকে মজবুত ও মসৃণ করে। এটি সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

চতুর্থত, কলা ও অলিভ অয়েলের মাস্ক চুলের যত্নে বেশ জনপ্রিয়। পাকা কলা চটকে তাতে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। কলা চুলে গভীর কন্ডিশনিংয়ের কাজ করে এবং অলিভ অয়েল চুলকে করে তোলে রেশমি ও উজ্জ্বল। এটি ৩০ মিনিট চুলে রেখে ধুয়ে ফেলুন। সর্বশেষ বা পঞ্চম পদ্ধতিটি হলো আমলা ও মেথির গুঁড়োর প্যাক। আমলা এবং মেথি চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ চুলে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না, জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত চুল ধোয়া, প্রচুর জল পান করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার প্রাথমিক শর্ত। এছাড়া দূষণ থেকে বাঁচতে বাইরে বের হওয়ার সময় স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করার অভ্যাস করা ভালো। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়ার ধৈর্য বজায় রাখতে হবে, কারণ এর ফল তাৎক্ষণিক না হলেও দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ। সঠিক নিয়মে এই ঘরোয়া যত্নগুলো মেনে চললে দূষিত বাতাসের প্রভাব কাটিয়ে আপনার চুল আবার হয়ে উঠবে আগের মতোই ঝলমলে ও প্রাণবন্ত।

তিন দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
তিন দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন

সাভারে আবারও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালের দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন পোশাকশিল্পের কর্মীরা। তাদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের দীর্ঘ এলাকা জুড়ে যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ঢাকা-আরিচা রুটে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের মূল দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে পোশাকশিল্পে কর্মরতদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চেয়ে তারা আরও দুটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো শ্রমিকদের কোনোভাবেই কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে না এবং অন্যায়ভাবে কোনো শ্রমিককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা যাবে না। নিজেদের এই তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়কের ওপর নেমে আসেন। এক পর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকদের এই অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশের যান চলাচল থমকে গেছে। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। যারা সকালে কাজের তাগিদে বা জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে রওনা হয়েছিলেন, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালের দিকে হঠাৎ করেই শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে দেখা যায় এবং এরপর থেকেই যানজট ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করে।

দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক ও গণপরিবহনের চালকেরাও বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে বাধ্য হন। এদিকে মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে, যা ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সাভার ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বেতন ও ছাঁটাই সংক্রান্ত ইস্যুতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বেতন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের কর্তৃত্ব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের কর্তৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি এই নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ভোটগণনার চূড়ান্ত পর্যায়ে দেখা গেছে, প্রতিনিধি পরিষদের আধিপত্য হারানোর পর এবার দেশটির আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে চলে গেছে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ বর্তমান প্রশাসনের নীতির ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মোট একশটি আসনবিশিষ্ট সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ৫১টি আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে উচ্চকক্ষে তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হলো, যা তাদের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস বা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দেবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিচারপতি নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ডেমোক্র্যাটরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনের এই রায় রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা ছিল সারা দেশে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এবং তার দল পরিচালিত ক্যাম্পেইনগুলো নিয়ে যে উচ্চ আশা ছিল, তার প্রতিফলন ভোটের বাক্সে খুব একটা দেখা যায়নি। বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ভোটারদের এই ভিন্নমুখী আচরণই রিপাবলিকানদের জন্য পরাজয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অর্থ হলো, রিপাবলিকানরা আইনসভার ভেতরে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বেন।

নির্বাচনের এই ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক দলের শীর্ষ নেতাদের কণ্ঠে স্বস্তির সুর শোনা গেছে। তারা একে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করছেন। অপরদিকে রিপাবলিকান শিবিরে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা এই হারকে সাময়িক বিপর্যয় হিসেবেই দেখছেন। দলের ভেতরে এখন আত্মবিশ্লেষণের সময় এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন কী কৌশল গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে একটি সেমিফাইনাল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় নিশ্চিতভাবেই তাদের সামনের দিনের পথচলাকে সহজ করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের জন্য আগামী দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণ থাকায় সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্মেও বড় ধরনের কোনো আইনি বাধা আসবে না বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ডেমোক্র্যাটরা তাদের এই নতুন শক্তিকে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন এবং ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন কি না। এদিকে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে উঠে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নিয়ে যখন জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি জনপ্রিয় মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, যদি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল তার দলের বিপক্ষেও যায়, তবে তিনি তা বিনাবাক্যেই মেনে নেবেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তার শ্রদ্ধা বজায় থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

নির্বাচনী ডামাডোলের এই সময়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রিপাবলিকানদের হটিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের দখল নেওয়ায় ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি কেবল হার মেনে নেওয়ার কথাই বলেননি, বরং আগামী দিনগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। দেশ পরিচালনার স্বার্থে বিরোধী দলের সাথে মিলে কাজ করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা মার্কিন জনমানসে ট্রাম্পের এই বার্তা স্বস্তি আনতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনে প্রেসিডেন্টর এমন নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। ট্রাম্পের এই অবস্থান মূলত ভোটারদের আস্থা ধরে রাখার একটি কৌশল হিসেবেও অনেকে দেখছেন। কারণ নির্বাচনের চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টর পক্ষ থেকে সংযত আচরণ কাম্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সবসময়ই বিতর্কের জন্ম দেয়, তবে এবারের নির্বাচনের চিত্র ভিন্ন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হওয়া বা না হওয়ার চেয়েও এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হওয়া।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ধারা রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবুও তিনি পরাজয় মেনে নেওয়ার যে মানসিকতা দেখিয়েছেন, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। সিনেট ও কংগ্রেসের ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে নতুন যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব এখন স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের সাথে বিরোধী শিবিরের এই সমঝোতার বার্তা কতটা বাস্তব রূপ পায় এবং সেটি মার্কিন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে কতটা ভূমিকা রাখে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় যেকোনো দলের জন্যই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে সেই প্রক্রিয়া শেষে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বা বিরোধী দলের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখাই একটি পরিপক্ক গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে, যা বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা হলেও শান্ত বাতাসের পরশ বুলিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
তিন দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের কর্তৃত্ব নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলপন্থি সিনেটরের আসনে ২৮ বছর পর ডেমোক্র্যাটদের জয় শীতের সুইডিশ ল্যাপল্যান্ডে স্বপ্নময় মেরুজ্যোতির হাতছানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সাইফার অফিসার পদে বাছাই পরীক্ষার ফল প্রকাশ রাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামল বিজিবি ও আনসার বায়ুদূষণের প্রভাবে রুক্ষ চুল: যেভাবে নেবেন ৫ ঘরোয়া যত্ন মানি হাইস্টের পর দর্শকদের নতুন আকর্ষণ কলিশন কোর্স
Advertisement