খুঁজুন
, ,

ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ে জয়ী হতে এআই প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ে জয়ী হতে এআই প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের রোমাঞ্চকর জগতে গাড়ির গতিই শেষ কথা নয়। এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগ ব্যবধানও এখানে নির্ধারণ করে দেয় জয়ী কে হবে। বর্তমান সময়ে এই হাই-স্পিড প্রতিযোগিতায় গাড়ির গতির পাশাপাশি তথ্যের বিশ্লেষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিপ্লব নিয়ে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। কেবল চালকের সহজাত দক্ষতা কিংবা সাহসিকতা দিয়ে এখন আর এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া কঠিন। এর পেছনে কাজ করে তথ্যনির্ভর বিশাল এক প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড কম্পিউটিং এবং অ্যাজুর ব্যাচ প্রযুক্তি এখন রেস স্ট্র্যাটেজিস্ট বা কৌশলবিদদের জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। রিয়েল-টাইমে হাজার হাজার সিমুলেশন তৈরি করে রেসের প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা এখন অনেক সহজ হয়েছে।

মার্সিডিজ-এএমজি পেট্রোনাস এফ১ টিমের নেতৃত্বস্থানীয় কৌশলবিদ জোসেফ ম্যাকমিলান জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি তাদের কাজের ধারা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে গণিতে পিএইচডি সম্পন্ন করা ম্যাকমিলান জানান, এখন রেসের প্রতিটি ল্যাপ, পিট স্টপ এবং ওভারটেকের দৃশ্যপট মুহূর্তের মধ্যে সিমুলেশন করে দেখা সম্ভব হচ্ছে। আগে যেখানে কৌশলবিদদের কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন এআই কোডিং টুল এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে অতি দ্রুত জটিল সব গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে। একজন ভালো রেস কৌশলবিদের জন্য যৌক্তিক চিন্তা এবং মডেলিংয়ে দক্ষতা থাকা কতটা জরুরি, তা এখন প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মিয়ামি গ্রাঁ প্রির একটি ঘটনা এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তোলে। সেই প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনের জর্জ রাসেল পঞ্চম স্থানে থাকলেও কিমি আন্তোনেল্লি পোল পজিশন থেকে রেস শুরু করেছিলেন। কিন্তু রেসের শুরুতেই আন্তোনেল্লি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে যান। সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাকমিলান তাৎক্ষণিকভাবে আন্ডারকাট কৌশল গ্রহণ করেন। এটি এমন এক কৌশল যেখানে সামনের গাড়ির আগেই পিট স্টপ নেওয়া হয়, যাতে নতুন টায়ারের সুবাদে গাড়ির গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে টেক ওভার করা যায়। আবহাওয়া মেঘলা থাকা সত্ত্বেও ম্যাকমিলান হালকা ড্রাই টায়ার ব্যবহারের ঝুঁকি নেন এবং এআই-এর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সেই সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হয়।

রেস চলাকালীন প্রতিপক্ষের গাড়ির অবস্থান, আবহাওয়া এবং পিট স্টপের সঠিক সময় নির্ধারণ করা—সবই এখন এআই-এর বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। তথ্যবিশ্লেষণের এই নির্ভুলতা অনেক সময় চালকের ওপর বাড়তি চাপ কমিয়ে দেয় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান, সেখানে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল গতির লড়াইকে নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও কত উন্নত হবে এবং রেসিংয়ের চেহারা কতটা বদলে দেবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন প্রযুক্তিবোদ্ধা এবং রেসিংপ্রেমীরা।

ভাবুক সম্রাট: দৈনন্দিন যাতায়াত ও ভাড়ার অসামঞ্জস্য নিয়ে এক বিশ্লেষণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
ভাবুক সম্রাট: দৈনন্দিন যাতায়াত ও ভাড়ার অসামঞ্জস্য নিয়ে এক বিশ্লেষণ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো যাতায়াত। প্রতিদিন ঘর থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো বা প্রয়োজনে গন্তব্যে যাওয়ার পথে গণপরিবহনের শরণাপন্ন হতে হয় অসংখ্য মানুষকে। এই যাতায়াত ব্যবস্থার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে হাজারো ছোট-বড় গল্প। সম্প্রতি ভাবুক সম্রাট শিরোনামে একটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, যা মূলত আমাদের যাতায়াত খরচ ও প্রদত্ত পরিষেবার মধ্যকার বৈষম্যকে তুলে ধরে। অল্প দূরত্বের রাস্তায় আকাশচুম্বী ভাড়া আদায়ের প্রবণতা সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর অতৃপ্তি ও বিরক্তির জন্ম দেয়। এই অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপই যেন উঠে এসেছে সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে যেখানে মানুষ তাদের আক্ষেপ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, এতটুকু রাস্তার জন্য কেন এত বাড়তি ভাড়া দিতে হবে?

বাস্তবসম্মত আলোচনার খাতিরে আমাদের বুঝতে হবে, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ও সঠিক ভাড়ার নীতিমালা থাকা কতটা জরুরি। যখন কোনো যাত্রী অল্প দূরত্বের জন্য অস্বাভাবিক ভাড়া গুনতে বাধ্য হন, তখন সেটি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং মানসিক পীড়ারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যখন ভাড়ার অসামঞ্জস্য নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রতিকার পাওয়ার জায়গা থাকে না, তখন সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের অসহায়ত্ব কাজ করে। ভাবুক সম্রাটের এই আখ্যান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সেবার মানে ও খরচের প্রশ্নে সামঞ্জস্য থাকা একান্ত প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই যেন গ্রাহক হয়রানির শিকার না হন এবং ভাড়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, সেটিই প্রত্যাশিত।

গণপরিবহনের চালক ও সহকারীদের সাথে যাত্রীদের নিয়মিত বচসা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মূল কারণ প্রায়শই এই ভাড়া সংক্রান্ত বিবাদ। অনেক সময় সরকারি ভাড়ার তালিকার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের প্রবণতা দেখা যায়, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। অথচ এই সমস্যা নিরসনে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশেই কমে আসত। ভাবুক সম্রাট বিষয়টি কেবল একটি নিছক আক্ষেপ নয়, বরং আমাদের পরিবহন ব্যবস্থার অগোছালো অবস্থার একটি প্রতিচ্ছবি। যখন আমরা ভাবুক সম্রাটের মতো পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলি, তখন পরোক্ষভাবে আমরা সেই সকল মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠি যারা প্রতিদিন রাজপথে যাতায়াত করতে গিয়ে ভাড়ার এই বিড়ম্বনায় পড়েন।

ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভাড়ার চার্ট বা নীতিমালা অনুযায়ী লেনদেন নিশ্চিত করলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক মূল্যায়ন হোক এবং যাতায়াত ব্যবস্থা হোক সহজ ও সুলভ, এমনটাই কাম্য। ভাবুক সম্রাটের এই আক্ষেপ যেন অদূর ভবিষ্যতে আর শোনা না যায়, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। নাগরিক জীবনের এই ছোট ছোট সমস্যাগুলো সমাধানই পারে আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহনশীল ও মানবিক করে তুলতে। মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও পরিবহন খাতের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত। তাই ভাড়া নিয়ে অসামঞ্জস্য দূর করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ: শুধু কি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার মঞ্চ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ: শুধু কি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার মঞ্চ

প্রতি বছর শরতের আমেজ নিয়ে সেপ্টেম্বর মাস এলেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় নিউইয়র্ক। জাতিসংঘের সদর দফতরকে ঘিরে তখন তৈরি হয় এক দারুণ ব্যস্ততা। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, শীর্ষ কূটনীতিক এবং নীতি-নির্ধারকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই এলাকা। টেলিভিশনের পর্দায় আমরা দেখি বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নেতারা দাঁড়িয়ে একে একে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের সেই সব বক্তৃতার ছত্রে ছত্রে থাকে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা সংকটের সমাধানকল্পে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। এই দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন জাগতে পারে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই বিশাল আয়োজন কি কেবল বক্তৃতা দেওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক মঞ্চ মাত্র, নাকি এর পেছনে কাজ করে কোনো সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর প্রক্রিয়া?

অনেকেই মনে করেন, সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন মূলত একটি বিশাল মঞ্চ। এখানে নেতারা বিশ্ববাসীকে নিজেদের অবস্থান জানান দেন এবং নিজ দেশের প্রয়োজনে কূটনৈতিক বার্তা প্রচার করেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তৃতাগুলো অনেক সময় শোনার চেয়ে দেখার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে এই ধারণার পাশাপাশি শক্তিশালী একটি যুক্তিও রয়েছে যে, জাতিসংঘের আসল কার্যকারিতা কেবল বক্তৃতার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সেই সরগরম দিনগুলোতে মূল কাজগুলো হয় পর্দার আড়ালে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, সাইডলাইন আলোচনার সুযোগ এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির মাধ্যমেই অনেক সময় বড় কোনো বৈশ্বিক সংকটের সমাধানসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হলে এর অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে হবে। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশ সমান মর্যাদা পায়। ছোট কিংবা বড়, ধনী কিংবা দরিদ্র প্রতিটি রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর এখানে সমানভাবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ থাকে, যা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সচরাচর দেখা যায় না। যখন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা একই ছাদের নিচে অবস্থান করেন, তখন নানা জটিল সমস্যার সমাধানে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা নিরসনেও সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখে।

তবে সমালোচকদের মতে, অনেক সময় প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক থেকে যায়। নেতারা মঞ্চে বড় বড় কথা বললেও, মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন কতটা ঘটে, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কার্যকারিতা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তবুও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জাতিসংঘ হলো এমন একটি ফোরাম, যা যদি না থাকত, তবে বিশ্বের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ত।

পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কেবল বক্তৃতা দেওয়ার জায়গা নয়, বরং এটি বিশ্ব কূটনীতির এক বিশাল কারখানা। এখানে বক্তৃতার শব্দগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পর্দার পেছনের নিরব আলোচনাগুলো অনেক সময় বিশ্বরাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি রাখে। তাই একে নিছক আনুষ্ঠানিকতার জায়গা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই, বরং এটি বিশ্বনেতাদের জন্য এক জরুরি আলাপচারিতার ক্ষেত্র হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৫

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৪০৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন থানায় ৬২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রতিটি অপরাধ বিভাগের নিজস্ব এলাকাভিত্তিক অভিযানে এই বিপুলসংখ্যক গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের গোয়েন্দা শাখাগুলো মাদক ব্যবসা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মিরপুর অপরাধ বিভাগে সবচেয়ে বেশি অভিযান পরিচালনার খবর পাওয়া গেছে, যেখান থেকে ১৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর পরেই তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৯ জন এবং গুলশান বিভাগ থেকে ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে লালবাগ থেকে ৪০ জন, মতিঝিল থেকে ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৩৪ জন, উত্তরা থেকে ২০ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানেও ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই গ্রেফতার ও মামলার ঘটনাগুলো নিয়মিত পুলিশি টহলের একটি অংশ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের ধরতে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান নিয়মিত পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গ্রেফতারের সংখ্যা বা মামলার ধরন নিয়মিত পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার মাধ্যমে মহানগর পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফেরাতে এবং অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনতে ডিএমপি এ ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সর্বশেষ
ভাবুক সম্রাট: দৈনন্দিন যাতায়াত ও ভাড়ার অসামঞ্জস্য নিয়ে এক বিশ্লেষণ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ: শুধু কি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার মঞ্চ রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৫ ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ে জয়ী হতে এআই প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত মিরপুরে কঠোর নিরাপত্তাবলয়, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল ফেরত চাইতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ব্যবসায়ী মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয় স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম
Advertisement