খুঁজুন
, ,

১৭২ আবেদন, অনুমোদন মাত্র ৩৯: ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
১৭২ আবেদন, অনুমোদন মাত্র ৩৯: ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে (পবিস) মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট এবং আর্থিক লেনদেন সহ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি নীতিমালা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে পছন্দের মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। তাদের কারণে যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎসেবায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য ২০২৫ সালের ৬ মে মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা এবং ১৫ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে আরইবির নির্দেশিকা (১০০-৫২) অনুযায়ী না থাকা কয়েকটি অতিরিক্ত শর্ত সংযোজন করা হয়। এর মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও লাইনম্যানের সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুরু থেকেই নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতেই এসব শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল।আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেয় রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম। প্রাথমিকভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে কোনো নোটিশ না দিয়ে দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানো হয়। অনেক ঠিকাদার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ সময় পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পূর্বে তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হিসেবে ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হাসান সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন এবং পুরো তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
তাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর গোপনে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব রংপুরে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সব প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ আবারও একই ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ১০ মে ওই ৩১টি এবং ২১ মে আরও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ ঘটনায় তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান, ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডারের মাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছি। এবারও নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে দূরের জেলার প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এজিএম নাহিদ ইসলাম আমাকে উচ্চ মহলের সুপারিশ আনতে বলেছিলেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক তদবির ও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে।”
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, “সেখানে ইঞ্জিনিয়াররাই বিষয়টি দেখাশোনা করেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার চার-পাঁচ মাস হয়ে গেছে। বিষয়টি আমার মনে নেই। আমি চলে আসার পর সেখানে আরও একজন জিএম ছিলেন, তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন বলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।”
ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঠিকাদার তালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডেল করেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই। যাচাই-বাছাই কমিটিতে আমি শুধু একজন সদস্য ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঠিকাদার তালিকাভুক্তির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না। তবে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কথা উল্লেখ করেছেন। আর সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য অন্যদের কাগজপত্র গ্রহণ না করার বিষয়টি অফিস প্রধানের এখতিয়ার। এখানে আমার কিছু করার ছিল না।”
বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, “মিনি ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি অতীতের। ১৭২টি আবেদনের মধ্যে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগে কীভাবে হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
অনিয়ম দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, “আমি নতুন করে আর কোনো কাগজপত্র জমা নেব না। তবে অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
অন্যদিকে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “মোট ১৭৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সঠিক থাকায় প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর জিএম শাখাকে সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠায়। পরে আবারও সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোথাও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা নেই। যারা প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছেন, তারা যেকোনো সময় সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে পারেন। বর্তমানে জিএম শাখায় জানতে চাইলে তারা বলেছেন, নতুন করে কেউ কাগজ জমা দেননি।”
নিজের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে যে অভিযোগ এসেছে, একই অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। কিন্তু লিখিত ও কোনো রেকর্ড প্রমাণ না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আমি দুইবার নির্দেশনা দিয়েছি, কিন্তু তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। কেন গড়িমসি করছে, সেটি আমার জানা নেই।”
এছাড়াও তিনি বলেন, “১৭২টি প্রতিষ্ঠানই সাময়িক তালিকাভুক্ত হলেও কোনো সমস্যা নেই। যার ইচ্ছা সে কাজ করবে। ঠিকাদারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।”
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জমা দিতে গেলে অনেকের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি এবং বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়েছে। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
তাদের আশঙ্কা, মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত রাখলে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎসেবায় ভোগান্তির মুখে পড়বেন। বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অযৌক্তিক বিলম্ব, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং গ্রাহক হয়রানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবছর নবায়ন ফি থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে ঘুষ, অতিরিক্ত বিল আদায়, টেন্ডার অনিয়ম, দীর্ঘ লোডশেডিং এবং ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বিধি অনুযায়ী সাময়িক তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির

দেশের বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যকারিতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি। গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এই কমিটিকে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং এক ধরনের প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, বর্তমান সংবিধান সংশোধন কমিটি সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয় এবং এটি আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। তারা মনে করেন, যেভাবে তড়িঘড়ি করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে জনআকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রতিফলন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম জুলাই বিপ্লবের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের দাবির সপক্ষে একটি বিকল্প প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। তাদের মতে, সংবিধান সংস্কারের মতো একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা প্রস্তাব করেছেন যে, গণভোটের রায় অনুযায়ী একটি স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের সকল স্তরের মানুষের মতামত গ্রহণ করে সংবিধানের প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংশোধনী আনতে হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা বিশেষ কমিটির দ্বারা নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ছাত্রশক্তি রুখে দেবে। তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, সংবিধান সংশোধন হতে হবে গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী, কোনো আরোপিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়। বর্তমান কমিটি বাতিল করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, ছাত্রশক্তির এই বিবৃতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সংবিধান সংশোধন একটি দীর্ঘমেয়াদী ও জাতীয় প্রভাব বিস্তারকারী প্রক্রিয়া। তাই এ ধরনের কাজে সব মহলের আস্থাশীল হওয়া প্রয়োজন। তবে ছাত্রশক্তির মতো একটি সচেতন ছাত্র সংগঠনের এই জোরালো প্রতিবাদ এবং বিকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবি ও আপত্তির প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আগামী দিনে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

পরিবারের অভাব দূর করতে এবং বাবার অকাল মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গাইবান্ধা থেকে গাজীপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ তৌফিক হোসেন। স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। মাত্র বাইশ বছর বয়সী এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া সেই তরুণ এখন নিথর দেহ হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা তৌফিক হোসেন। বিগত কয়েক দিন ধরে কারখানা এলাকায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এই আন্দোলন চলাকালীন এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কোনো এক পর্যায়ে তৌফিক গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন তৌফিক। তার ওপর নির্ভর করেই চলত তাদের পরিবারের অন্নসংস্থান। কিন্তু কারখানার মজুরি আন্দোলনের জের ধরে যে সহিংসতার শিকার হতে হবে, তা কেউ ভাবেনি। তৌফিকের স্বজনরা জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার এই মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি দরিদ্র পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৌফিকের এই মর্মান্তিক পরিণতির খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র বা উত্তেজনার মুখে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি জানিয়েছেন, যেন দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয় এবং শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। তৌফিকের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তৌফিকের মতো একজন কর্মঠ তরুণের প্রাণ ঝরে যাওয়ায় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পোশাক শিল্পের এই অস্থিরতা নিরসনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর আলোচনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ। তৌফিকের পরিবার এখন শোকের সাগরে ভাসছে, আর তাদের চোখে মুখে এখন শুধুই হারানো স্বজনের স্মৃতি। জীবিকার তাগিদে শহরে আসা তরুণের এমন পরিণতির দায়ভার কার, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে নেমে আসা পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকা। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জালকুড়ি সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উত্তেজিত শ্রমিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ শুরু করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা তাদের আঘাতের ধরণ কেমন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিকদের এই অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তারা শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শ্রমিকরা তাদের ওপর চড়াও হওয়ায় বাধ্য হয়েই বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানা এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। মজুরি বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে কেন্দ্র করে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় এক ধরণের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, দেশের পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবি দীর্ঘদিনের। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে আসছেন। আজকের এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। কারণ, এই ধরণের সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে, তবে সড়কে এখনো থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সর্বশেষ
সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে সরকার: মজিবুর রহমান মঞ্জু সিউলে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিএনপির প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ শ্রমিক অসন্তোষ ও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তির কঠোর সমালোচনা চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বাগত জানাল বিএনপি নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করল বিসিবি জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
Advertisement