খুঁজুন
, ,

২৫টি মোবাইল ফোন ও ৭০টি ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম জব্দ ‘চাঁদপুরের তাজা ইলিশ বিক্রি’র ফাঁদ, ডিবির জালে ধরা ৮

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী-চাঁদপুর
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
২৫টি মোবাইল ফোন ও ৭০টি ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম জব্দ ‘চাঁদপুরের তাজা ইলিশ বিক্রি’র ফাঁদ, ডিবির জালে ধরা ৮

‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর অনলাইন শপ’, ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’, ‘চাঁদপুর ইলিশ ঘাট’ ইত্যাদি নামে পেইজ খুলে অনলাইনে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলো একটি অনলাইন প্রতারক চক্র। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ২৫টি মোবাইল ফোন ও ৭০টি অবৈধ সিমসহ উক্ত প্রতারক চক্রের আট সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো: আনাছ শেখ (২১) কামাল শেখ (২১) ইয়ানুর মোল্লা (২১) জোবায়ের হোসেন (২৩) রুবেল শেখ (২৯)  সাগর হোসেন (২৩) মোঃ আলীনূর ইসলাম (১৮) ও শরিফুল ইসলাম (২১)।

সোমবার ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ মে) খুলনা, নড়াইল ও যশোরে বিশেষ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এসময় তাদের হেফাজত হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ২৫টি মোবাইল ফোন ও ৭০টি ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম জব্দ করা হয়।

ডিবি-সাইবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ নভেম্বর ২০২৪ জনৈক মোঃ মাসুম বিল্লাহ ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’ নামক ফেসবুক পেইজে সুলভ মূল্যে ইলিশ মাছ বিক্রির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে ইলিশ অর্ডার দেন এবং তাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। কিন্তু  উক্ত অর্ডারের প্রেক্ষিতে তিনি কোনো ইলিশ পাননি। এ ঘটনায় মোঃ মাসুম বিল্লাহের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি পরবর্তীতে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তাধীন এই মামলায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে ডিবি। পরবর্তীতে সোমবার ও মঙ্গলবার খুলনা, নড়াইল ও যশোরে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের উক্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে ডিবি-সাইবার সূত্রে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন শপের ছবি ব্যবহার করে পেইজ খুলে চাঁদপুরের তাজা ইলিশ সুলভ মূল্যে সরবরাহের বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিলো। তারা ইলিশ সরবরাহের অর্ডার নিয়ে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করতো। টাকা নেওয়ার পর তারা গ্রাহকদের ইলিশ মাছ বুঝিয়ে দিতো না এবং কোন যোগাযোগ রাখতো না। চক্রটির মূলহোতা আনাছ শেখ ও শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডি সংগ্রহ করে মোবাইল কোম্পানি, বিকাশ ও নগদের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় ভুয়া সিম ও অ্যাকাউন্ট খুলে এই অভিনব প্রতারণা চালিয়ে আসছিলো। তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এই অভিনব প্রতারণার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের প্রতারণার শিকার অসংখ্য ভুক্তভোগী ডিএমপির বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ করেছেন, যার অনেকগুলো ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগে তদন্তাধীন রয়েছে।

চক্রটির সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে ডিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও আন্দোলনের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
   
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও আন্দোলনের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

গত মঙ্গলবার পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে যে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন, তা দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর মিরপুর এবং শিল্পনগরী গাজীপুরসহ দেশের প্রধান পোশাক উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে শ্রমিকরা রাজপথে নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই অস্থিরতায় পুলিশ ও শ্রমিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লেগেছে।

বিক্ষোভের এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের একটি বড় অংশ দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবির আড়ালে মূলত ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, পোশাক খাতের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে কোনো একটি পক্ষ বা রাজনৈতিক মহল পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে। তৃতীয় পক্ষের এই সংশ্লিষ্টতা আন্দোলনকে সহিংস করে তুলছে এবং স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন তারা।

তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকদের মতে, তারা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে রাস্তায় নামেননি। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়া এবং যাতায়াত খরচ মেটানোর লড়াইয়ে তারা দিশেহারা। শ্রমিকদের অভিযোগ, জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর দাবিটি উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের মতে, যখন মানুষ পেটের তাগিদে রাস্তায় নামে, তখন সেখানে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র খোঁজার চেয়ে পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনার পথ খোঁজা বেশি জরুরি।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতা স্থানীয় জনজীবন ও অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দফায় দফায় সংঘর্ষ, পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপরদিকে, কারখানা মালিকপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বারবার আলোচনা ও সমঝোতার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন দৃশ্যমান হচ্ছে না। সাধারণ শ্রমিকদের দাবি ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আসা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মধ্যে এই যে বিশাল দূরত্ব, তা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোশাকশিল্পের মতো একটি সংবেদনশীল খাতে যেকোনো বিশৃঙ্খলা দেশের রফতানি আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সংকট বা মজুরি বৈষম্যের বিষয়টিকে কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আলোকে না দেখে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে দেখা প্রয়োজন। আন্দোলনের পেছনে সত্যিকার অর্থে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয় হলেও শ্রমিকদের টিকে থাকার ন্যূনতম চাহিদাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসন না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পোশাক খাতের এই অস্থিরতা কাটিয়ে তুলতে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

খুলনায় মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা দগ্ধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
খুলনায় মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা দগ্ধ

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তিনি দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। মনিরুল ইসলাম বর্তমানে দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার ভোরে নিজের বাড়ির সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার খুব ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে তিনি লক্ষ্য করেন, তার বাড়ির প্রধান দরজার সামনে একটি মুড়ির প্যাকেট পড়ে আছে। অপরিচিত এই বস্তুটি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি কৌতূহলী হয়ে ওঠেন এবং সেটি হাতে তুলে নেন। এরপর তিনি প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখার চেষ্টা করতেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এলাকায় উপস্থিত হন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিস্ফোরণের ধরন ও এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই প্যাকেটটিতে বিস্ফোরক জাতীয় কোনো বস্তু ছিল কি না বা এর পেছনে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এমন শান্ত এলাকায় হঠাৎ এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়ির সামনে এমন বস্তু পড়ে থাকা এবং সেটি বিস্ফোরণ ঘটার বিষয়টি স্থানীয়রা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আহত মনিরুল ইসলামের সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বড়দিন পালনে আবেদনকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
বড়দিন পালনে আবেদনকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উৎসব আয়োজনের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দুই কোটি টাকা অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই আবেদনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে চাওয়ার প্রেক্ষাপটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আবেদনের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন কোটি টাকা অনুদান প্রদানের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থাৎ, ট্রাস্টের চাহিদা অনুযায়ী দুই কোটি টাকার বিপরীতে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এই সংক্রান্ত সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রী গত সোমবার দুই নভেম্বর অনুমোদন করেন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে সরকার বরাবরই উদার ও সহযোগী মনোভাব প্রদর্শন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই বৃহৎ উৎসবটি যাতে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে এবং কোনো আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পালন করা যায়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এই বাড়তি অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই অনুদানের অর্থ খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ফলে বড়দিন উৎসবকে ঘিরে সারা দেশে যেসব কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা আরও ব্যাপক আকারে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতি বছরই বড়দিনকে সামনে রেখে বিশেষ সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়। কিন্তু এবার আবেদনের চেয়ে বেশি অর্থ প্রদানের বিষয়টি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের গুরুত্বকে সরকারের পক্ষ থেকে যে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ২৫ ডিসেম্বর সারা দেশে বড়দিন পালিত হবে। এই উৎসবকে ঘিরে গির্জাগুলো সাজানো, প্রার্থনার আয়োজন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য এই অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি এই বাড়তি বরাদ্দের ফলে এবার বড়দিন উদযাপনে বিশেষ মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এখন এই অর্থ তৃণমূল পর্যায়ে উৎসব উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বণ্টন করার কার্যক্রম শুরু করবে। বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং উৎসবের প্রস্তুতিতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে।

সর্বশেষ
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও আন্দোলনের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খুলনায় মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা দগ্ধ বড়দিন পালনে আবেদনকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী একনজরে আজকের আলোচিত খবর ঢাকার রামপুরা এলাকায় বিটিভি ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন নিয়ে ভারতের সতর্কতা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দ্রুততর বিজ্ঞাপন থেকে সরাসরি সিনেমা ট্রাম্পের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে আর্থিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত বম্বে হাইকোর্টের আদেশে দিয়া মির্জার ভিডিও পুনরুদ্ধার, বিজেপি নেতাদের আপত্তি অস্বীকারে আদালতের অসন্তোষ
Advertisement