খুঁজুন
, ,

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের ভূমিকাঃ আইনশৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী-চাঁদপুর
প্রকাশিত: Thursday, 18 September, 2025, 10:35 pm
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের ভূমিকাঃ আইনশৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন

চাঁদপুরে সফলতার ১ বছর পূর্ণ করলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম

‘মানুষ মরণশীল’ এই সত্যকে ধারণ করে পৃথিবীর নিয়মেই প্রতিটা মানুষকে মৃত্যুর হাত ধরে একদিন অনন্ত জীবনে চলে যেতে হয়। এই যে আমাদের পৃথিবীতে আসা এবং চলে যাওয়া, মাঝের এই সময়টা ব্যক্তির কর্মকান্ড পৃথিবীতে তাঁকে অনন্ত জীবন দান করে। ব্যক্তির ভালো কর্মকান্ড তাকে যেমনিভাবে সম্মানিত করে বাঁচিয়ে রাখে ঠিক তেমনিভাবে তার কু’কর্মের জন্যও তিনি অনন্তকাল বেঁচে থাকেন। ক্ষুদ্র এ জীবনে যে ক’জন ব্যক্তি পৃথিবীতে সৎকর্ম রেখে গেছেন তারা যুগযুগান্তর ধরে বেঁচে আছেন এবং অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার পদে মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম গত ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশে চাকুরী, অপরাধ দমন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, মাদক দ্রব্য উদ্ধার, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বেগবান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিয়ে ও নারী-শিশু নির্যাতনের ব্যাপরে জিরো টালারেন্স ঘোষণাসহ চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে রয়েছে তার অসামান্য অবদান। তার যুগোপযোগী দক্ষ নেতৃত্বে জেলার অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি অত্র জেলায় সব ধরণের যানবাহন হতে চাঁদাবাজি বন্ধ করে সুধীজনদের প্রশংসা পেয়েছেন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রার্থীদের দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এবং সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজীকরণ ও দীর্ঘসূত্রিতা অবসানের লক্ষ্যে তার কার্যালয়ে হটলাইন প্রতিষ্ঠাপূর্বক আবেদন প্রাপ্তির দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা পরিহারের লক্ষ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে ও অন্যকে উৎসাহিত করতে তিনি সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া প্রতিনিধি, সর্বস্তরের জনগণ এবং সকল অফিসার ফোর্সদের সাথে বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করেন। এর মাধ্যমে তিনি জেলা পুলিশের মূল মেসেজ সকলের নিকট পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে মাঠ পর্যায়ের সকল বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি অনেকটাই প্রমাণ করেছেন পুলিশ জনগণের বন্ধু। ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছেন, যে মাদক ভয়াবহ রুপ ধারণ করে বর্তমান সমাজের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পরেছে। তাই শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে কিছুতেই মাদক সমূলে নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর এজন্য তিনি চাঁদপুর জেলাকে মাদকমুক্ত করতে কিছু ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছেন। তিনি সুশীল সমাজের সহযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে জেলার জনবহুল এলাকা, হাট বাজারগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপশি তিনি ‘মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীদের এ পথ থেকে সরে না আসলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে’ বলে হুশিয়ার করে দিচ্ছেন।
এছাড়াও পুলিশ সুপারের কঠোর অবস্থানের ফলে চাঁদপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার চেয়ে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জেলাবাসী বিশ্বাস করেন।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে মতলব উত্তর উপজেলার আলোচিত হাবিব উল্লাহ হত্যা, কচুয়ায় ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালক ফারুক হোসেন হত্যা, মতলব দক্ষিণে আলোচিত ফাতেমা বেগম রুপালী হত্যা, মতলব দক্ষিণে ইজি বাইক চালক মহিন মিয়াজী হত্যা, শাহরাস্তিতে আলমগীর হোসেন হত্যা ও হাজীগঞ্জে বৈষম বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আজাদ সরকার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ ২১৯৪ টি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন শেষে ৫০৫৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার, ২৮ টি ধারালো অস্ত্র, ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮ রাউন্ড গুলি এবং ২১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে।
এই সময়ে ৩০৮২৮ পিস ইয়াবা, ২৬৯.৩৮২ কেজি গাঁজা, ১.২৫ লিটার দেশী, ২০১ বোতল বিদেশী মদ এবং ১৪০ বোতল ফেনসিডিল চাঁদপুর জেলা পুলিশ উদ্ধার করে মাদকের সাথে আটককৃতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় অন্তর্গত ৮টি থানায় সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ও এলআইসি সফল প্রচেষ্টায় বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মোবাইল ফোন মালিকদের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গেল এক বছরে ৩ হাজার ৬৬৪ টি জিডির প্রেক্ষিতে হারানো অথবা চুরি যাওয়া মোট ১ হাজার ১৪১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন মামলায় পলাতক ও পরোয়ানাভূক্ত ৭৭৭১ জন আসামিকে গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এছাড়াও জিডির প্রেক্ষিতে ৬৫৪ জন নিখোঁজ ব্যক্তি (ভিকটিম) উদ্ধার করে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ।
নারী ও শিশু সহায়তা হেল্প ডেক্স থেকে ২৮৩ জন সেবা গ্রহণ করেছে এবং ২০১ জনের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে।
প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক ও সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে হট লাইন নাম্বার চালু করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে ১২৮ জন সেবা গ্রহণ করেছে এবং ৯৬ টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ আরো জানায়, গেল এক বছরে পুলিশ সুপারের সাথে ১২১০ জন দর্শনার্থী স্ব শরীরে এসে সেবা গ্রহণ করেছেন এরমধ্যে ৮৬০ জন পুরুষ এবং ৩৫০ জন নারী।
বিগত বছরে চাঁদপুরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার ৮টি থানায় নিয়মিত পুলিশ টহল, চেক পোস্ট পরিচালনা,
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অভিযান, বিভিন্ন থানায় ওপেন হাউজ ডে, কমিউনিটি পুলিশিং সভা, জেলা পুলিশের ফেসবুক পেইজে সতর্কতামূলক পোষ্ট, বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রেস ব্রিফিং সহ নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চাঁদপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম বলেন, দেখতে দেখতে দায়িত্বের এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। অনেক বড় জেলা হিসেবে এ জেলায় অপরাধ প্রবনতা তুলনামূলক কম, মানুষজনও শিক্ষিত ও সচেতন। তাই সবকিছুই বিশেষ ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। নেই কোনো অসুবিধা। বরং রয়েছে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার এক অপরিসীম পরিতৃপ্তি। যতদিন এ জেলায় থাকছি, প্রতি মুহুর্তই আমি আমার দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাব।
পুলিশ সুপার বলেন, মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই, মাদককে কোনভাবেই ছাড় ছাড় দেয়া যাবেনা। চাকুরী জীবনে আমি কখনো মাদকের সাথে আপোষ করিনি ভবিষ্যতেও করবোনা। যুব সমাজকে রক্ষায় জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যহত থাকবে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন— সমাজের অসহায়, নির্যাতিত মানুষের পুলিশ বাহিনীর নিকট ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা অনেক বেশী। চাঁদপুর জেলা পুলিশ মানুষের আশা—ভরসার ধারক ও বাহক হয়ে উঠতে চায়। ইতিমধ্যেই পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পদ্ধতির স্বচ্ছতায় পুলিশ সুপারের সভাপতিত্বে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল পদে ১৫৫ জন তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন পূরণ হয়।
পরিশেষে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, চাঁদপুরের সম্মানিত নাগরিক ও রেমিটেন্স যোদ্ধাগণ জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেজন্য জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ রইল।

দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 4:13 pm
   
দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:  দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।

রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে  কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে।

আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।

ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার,

একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে

আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

তরুন রানার এলিন খান বলেন,  একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে  ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা,

অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।

একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান,

তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়;

৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।

ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”

পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 9:37 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু সাঈদ নূর আলম বাবু। নতুন এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে সংগঠিত ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভূল্লী উপজেলা থেকেই ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবু বলেন, “আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। সকলের সহযোগিতা নিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করতে চাই। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভূল্লী উপজেলা থেকে ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা করি।”

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 3:16 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আলম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৭ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নূর আলম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া-শিলুলতলা এলাকার মো. সুফিয়ার রহমানের ছেলে। ডিবি পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো সংক্রান্ত ২০টি অ্যাপ পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নূর আলমের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় এর আগে তাকে রংপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, নূর আলম রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।