সুন্দরবনে কেওড়ার মৌসুমের শেষের চিহ্ন, বানরদের তীব্র অনুসন্ধান
সুন্দরবনের কেওড়া ফলের মৌসুমের শেষের সূচনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে গাছের অধিকাংশ শাখা শূন্য হয়ে গেছে, ফলে গাছের ছায়া এখনো তেমনই রয়ে গেছে, তবে কিছু গাছের ডালপালায় এখনও রসালো ফল ঝুলে আছে। এই অবশিষ্ট ফলের জন্য বানরের দলগুলো সক্রিয়ভাবে গাছগাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবারে একাধিক ফলের সন্ধান করা যায়।
কেওড়া গাছ, যা বৈজ্ঞানিকভাবে “কেওড়া গাছ” নামে পরিচিত, সমুদ্রতটের নিকটবর্তী ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। গাছের ফল ছোট, হালকা সবুজ রঙের এবং পাকার পর স্বাদে মিষ্টি-টক স্বাদ থাকে, যা স্থানীয় প্রাণী ও পাখিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সরবরাহ করে। ফলের পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের পাতা ও ডালপালার রঙও ধূসর হয়ে যায়, যা মৌসুমের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
বানররা, বিশেষ করে রঙিন লম্বা লেজের বানর, কেওড়া ফলের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ দেখায়। ফলের গন্ধ তাদের নাকের কোণে পৌঁছালে, তারা দ্রুত গাছের দিকে অগ্রসর হয়। গাছের শাখা থেকে শাখায় লাফিয়ে, তারা ফলটি হাতে নেয় এবং দ্রুত নিচে নামিয়ে খায়। কিছু সময়ে, একাধিক বানর একসাথে গাছের শীর্ষে পৌঁছে, ফল ভাগাভাগি করে। এই আচরণটি পর্যবেক্ষকদের কাছে মুগ্ধকর দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
বন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, কেওড়া মৌসুমের শেষের দিকে বানরের খাবার সরবরাহ কমে যাওয়ায়, তারা অন্য ফলের দিকে ঝুঁকতে পারে অথবা ম্যানগ্রোভের অন্যান্য অংশে খাবার অনুসন্ধান করতে পারে। এই পরিবর্তন স্থানীয় ইকোসিস্টেমের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, কেওড়া ফলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে পড়ে, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং পরবর্তী মৌসুমের গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেওড়া মৌসুমের সমাপ্তি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের একটি স্বাভাবিক চক্র। যদিও ফলের পরিমাণ হ্রাস পায়, তবে বানরের সক্রিয়তা এবং গাছের পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে পরবর্তী বছরেও এই প্রাকৃতিক দৃশ্য পুনরাবৃত্তি হবে। স্থানীয় পর্যটক ও গবেষকরা এই সময়ে গাছের অবশিষ্ট ফল ও বানরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী, যা ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনার জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]