খুঁজুন
, ,

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন কাল, শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন কাল, শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা

গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করা হবে বলে আজ শ্রমমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকালই এই মজুরি বোর্ডের গঠন সম্পন্ন হবে এবং এতে শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিজিএমইএ (বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) ও বিকেএমইএ (বেংগালোর কনফেডারেশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্স) নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি মেনে নেওয়ার ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। উভয় সংস্থার নেতারা এই সিদ্ধান্তকে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস এবং লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সরবরাহ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মজুরি সংক্রান্ত অসন্তোষ এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রতিবাদ দেখা গেছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকার ও শিল্প সংস্থাগুলি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছে। মজুরি বোর্ডের গঠন এই আলোচনার একটি নতুন দিক নির্দেশ করে, যেখানে শ্রমিক, শিল্প সংস্থা এবং সরকারী প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে মজুরি কাঠামো নির্ধারণে অংশ নেবে।

শ্রমমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মজুরি বোর্ডের মূল কাজ হবে বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি, উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দিক থেকে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা। এছাড়া শ্রমিকদের কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নীতি প্রণয়নেও এই বোর্ডের ভূমিকা থাকবে। তিনি বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিরা সরাসরি বোর্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের চাহিদা ও সমস্যাগুলো সরাসরি উপস্থাপন করতে পারবে, যা নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বাড়াবে।

গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে উঠবে। তারা দাবি করেন, মজুরি নির্ধারণে শুধুমাত্র সংখ্যা নয়, কাজের সময়, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক এবং সামাজিক সুবিধা ইত্যাদি বিষয়গুলোও বিবেচনা করা উচিত।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গার্মেন্টস সেক্টরে মজুরি বৃদ্ধি সরাসরি রপ্তানি মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তবে শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা ও কর্মী সন্তুষ্টি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, মজুরি বোর্ডের কার্যকরী কাজের মাধ্যমে শ্রমিক ও শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় থাকবে।

শ্রমমন্ত্রী শেষ কথা বলেন, মজুরি বোর্ডের গঠন ও কার্যক্রমের সময়সূচি শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের মজুরি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা দেশের সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি।

জামায়াত‑ইসলামি ও কওমিপন্থীর বিরোধের মূল কারণ ও উত্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
   
জামায়াত‑ইসলামি ও কওমিপন্থীর বিরোধের মূল কারণ ও উত্স

বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতির দৃশ্যপটে জামায়াত‑ইসলামি ও কওমিপন্থীর সম্পর্ক এক দীর্ঘ ও জটিল গল্পের অংশ। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা আজও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। উভয় গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্যই ইসলামী নীতি ভিত্তিক শাসন গঠন, তবে তাদের পদ্ধতি, কৌশল ও জোটের দিক থেকে পার্থক্য স্পষ্ট।

ইতিহাসিকভাবে দেখা যায়, জামায়াত‑ইসলামি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে তার ভূমিকা ও পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক চলেছে। অন্যদিকে, কওমিপন্থী গোষ্ঠী ১৯৭০-এর দশকে উদ্ভূত হয়, যা মূলত ইসলামী সংহতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি করে। তাদের মূল তত্ত্ব হল ধর্মীয় সংগঠনকে রাষ্ট্রের থেকে আলাদা রাখা, যা জামায়াত‑ইসলামির ধর্ম-রাজনীতি মিশ্রণ নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

রাজনৈতিক দিক থেকে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ হল ক্ষমতার জন্য জোট গঠন ও নির্বাচনী কৌশল। জামায়াত‑ইসলামি বহুবার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করে সরকারে অংশ নেয়, যেখানে কওমিপন্থীরা প্রায়শই স্বাধীনভাবে বা ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করে। এই পার্থক্যই তাদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এছাড়া, ধর্মীয় নেতৃত্বের স্বীকৃতি ও ধর্মীয় শিক্ষার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

আদর্শিক পার্থক্যও বিরোধকে তীব্র করেছে। জামায়াত‑ইসলামি ইসলামী শাসনের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও ধর্মীয় আইন (শরিয়া) প্রয়োগের পক্ষে দাঁড়ায়, যেখানে কওমিপন্থীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, শিক্ষার পদ্ধতি ও সামাজিক নীতি নিয়ে মতবিরোধ গড়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিফলিত হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিরোধের প্রভাব দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। নির্বাচনী সময়ে উভয় গোষ্ঠীর সমর্থকরা প্রায়শই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও র্যালি আয়োজন করে, যা সামাজিক উত্তেজনা বাড়ায়। তদুপরি, মিডিয়ার মাধ্যমে উভয় পক্ষের বক্তব্যের প্রচার ও ভুল তথ্যের বিস্তারও বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে, সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, জামায়াত‑ইসলামি ও কওমিপন্থীর বিরোধের মূল কারণ ঐতিহাসিক শিকড়, আদর্শিক পার্থক্য এবং রাজনৈতিক কৌশলের পারস্পরিক বিরোধে নিহিত। এই দ্বন্দ্বের উত্স ও ধারাবাহিকতা বোঝা দেশের ইসলামি রাজনীতির ভবিষ্যৎ গঠন ও সামাজিক সংহতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যদি উভয় গোষ্ঠী পারস্পরিক সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তৃতীয় সপ্তাহের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, হ্যালোইন ঘিরে বাড়তি সতর্কতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
তৃতীয় সপ্তাহের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, হ্যালোইন ঘিরে বাড়তি সতর্কতা

ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি শহরে তৃতীয় সপ্তাহের বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে হ্যালোইন উৎসবের নিকটবর্তী সময়ে, জনসাধারণের সমাবেশ ও পার্টি-সামগ্রীর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিচ্ছে।

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নির্বিঘ্নে সমাধান হবে এমন কোনো আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিক্ষোভের তীব্রতা এবং হ্যালোইন উৎসবের সময়সূচি একসাথে মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন, সড়ক বন্ধ, এবং জনসমাগমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে।

বিক্ষোভের মূল দাবি এখনও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার এবং সরকারী নীতি সমালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে বিক্ষোভের সংখ্যা ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পূর্বের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপত্তা সংস্থার জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

হ্যালোইন উৎসবের সময়ে রাস্তায় সজ্জা, পার্টি ও ভেজা-চাঁদা পোশাকের ব্যবহার বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ধরনের পরিবেশে অশান্তি বা হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ার কথা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। ফলে, ফরাসি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন হ্যালোইন উদযাপনের আগে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে, যাতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, হ্যালোইন সপ্তাহে বিশেষ করে প্যারিস, মার্সেই এবং লিলের মতো বড় শহরে অতিরিক্ত ক্যামেরা স্থাপন, গশ্বর পয়েন্টে নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো এবং জরুরি সেবার দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এছাড়া, অপ্রয়োজনীয় সমাবেশ ও বড় আকারের পার্টি-ইভেন্টে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী কিছু গ্রুপ ইতিমধ্যে হ্যালোইন উদযাপনের সময় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিরিক্ত কঠোর হলে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে। তবে, নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে, জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে, ফরাসি সরকার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে সমর্থন ও সমঝোতা চাচ্ছে, যাতে বিক্ষোভের মূল কারণগুলো সমাধান করা যায় এবং হ্যালোইন উৎসবের সময় কোনো অপ্রয়োজনীয় হিংসা না ঘটে। সরকারী মুখপাত্রের মতে, বিক্ষোভের মূল লক্ষ্যগুলোকে স্বীকার করে যথাযথ নীতি পরিবর্তন করা হবে, তবে তা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা বজায় রেখে করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, তৃতীয় সপ্তাহের বিক্ষোভের তীব্রতা এবং হ্যালোইন উৎসবের নিকটবর্তী সময়ে বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতা ফ্রান্সের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা ও বিক্ষোভের মূল দাবির সমন্বয় কীভাবে পরিচালিত হবে, তা আগামী দিনগুলোতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

বিশ্ব বাজারে চীনা স্লিপ টেক ব্র্যান্ডের দাপট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
বিশ্ব বাজারে চীনা স্লিপ টেক ব্র্যান্ডের দাপট

বিশ্বব্যাপী ঘুমের মান উন্নত করার চাহিদা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনের বেশ কয়েকটি স্লিপ টেকনোলজি কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করেছে। তারা শুধুমাত্র ম্যাট্রেস উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর এবং ইন্টারনেট‑অফ‑থিংস (IoT) ভিত্তিক সমন্বিত সমাধান প্রদান করছে। ফলে ঘুমের গুণগত মান, শারীরিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত ডেটা সংগ্রহ এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা একসাথে উন্নত হচ্ছে।

এই ব্র্যান্ডগুলোর পণ্যপরিসরে স্মার্ট ম্যাট্রেস, হেডব্যান্ড, বেডসাইড ল্যাম্প এবং এমনকি এআই‑চালিত ফার্নিচার অন্তর্ভুক্ত। স্মার্ট ম্যাট্রেসে এমবেডেড সেন্সর রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, শোয়ানোর সময়ের আন্দোলন ইত্যাদি রিয়েল‑টাইমে পর্যবেক্ষণ করে এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্লেষণ ফলাফল সরবরাহ করে। এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ঘুমের ধরণ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ দেয়, যেমন তাপমাত্রা সামঞ্জস্য বা নিদ্রা‑সাহায্যকারী সাউন্ড। একই সঙ্গে, সেন্সরযুক্ত বেডসাইড ল্যাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলোয়ের তীব্রতা ও রঙ পরিবর্তন করে, যা ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে।

গত সেপ্টেম্বর শাংহাইতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফার্নিচার এক্সপোতে এই প্রযুক্তিগুলোকে কেন্দ্র করে এক বিশাল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চীনের শীর্ষ স্লিপ টেক কোম্পানিগুলো তাদের সর্বশেষ পণ্যসমূহের লাইভ ডেমো দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এক্সপোতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো এক বছরের মধ্যে গ্লোবাল বিক্রয় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য স্থির করেছে।

বাজারে প্রবেশের কৌশল হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বড় রিটেইল চেইনের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রধান শহরে ইতিমধ্যে স্মার্ট বেডের ডেমো রুম চালু হয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা বাস্তব সময়ে পণ্যের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পারেন। ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ করে জার্মানি ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় স্বাস্থ্য‑সচেতন ভোক্তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

তবে দ্রুত বিস্তার মানে নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে। ডেটা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কিছু দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। তাছাড়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশেও অনুরূপ স্লিপ টেক পণ্য বিকাশে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনা কোম্পানিগুলো গবেষণা ও উন্নয়নে অতিরিক্ত বিনিয়োগ বাড়িয়ে, পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং ব্যবহারকারী ডেটা সুরক্ষার জন্য নতুন প্রোটোকল প্রয়োগ করছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, আগামী পাঁচ বছর মধ্যে স্মার্ট স্লিপ টেকনোলজি গ্লোবাল হোম মার্কেটের অন্তত ২০ শতাংশ দখল করবে এবং ঘুমের স্বাস্থ্যকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রূপান্তরিত করবে। চীনের এই ব্র্যান্ডগুলোর দ্রুত গতি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী ঘুমের মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

সর্বশেষ
জামায়াত‑ইসলামি ও কওমিপন্থীর বিরোধের মূল কারণ ও উত্স তৃতীয় সপ্তাহের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, হ্যালোইন ঘিরে বাড়তি সতর্কতা বিশ্ব বাজারে চীনা স্লিপ টেক ব্র্যান্ডের দাপট চাঁদা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি, ভাইয়ের সঙ্গে কথা না বললে ছেলেপুলে পাঠানো হবে—সাব্বির হোসেন গ্রেফতার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন কাল, শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা বাঁধনহারা উপন্যাসে মুক্তির সন্ধান, পাঠচক্রে তীব্র আলোচনা শর্ষে‑হলুদ শাড়িতে সাদনিমা, মিষ্টি হাসি সহ পাঁচটি ছবি মহারাষ্ট্রের পিম্পরিতে ১৮ তলা থেকে পতনে মা-ছেলের মৃত্যু, চিরকুটে দ্বিতীয় বিয়ের আহ্বান বিমানবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ওপর স্বতন্ত্র তদন্তের দাবি ভূত চতুর্দশীর ১৪ শাক: ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভেষজ গুণের গল্প
Advertisement