খুঁজুন
, ,

প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে এলো বর্ষা

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Thursday, 26 June, 2025, 2:46 pm
প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে এলো বর্ষা

বর্ষা মানে আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ, রিম-ঝিম বৃষ্টি, নতুন প্রাণে জেগে ওঠার গান। সৃষ্টির খেলায় উন্মত্ত হয়ে বর্ষায় প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে যৌবন, মানবমনে জেগে ওঠেছে সুখ-বিরহের নতুন পরশ।

ষড়ঋতুর পালা বদলে বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যে বর্ষাকাল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বাংলা দিনপঞ্জিকা অনুসারে আষাঢ় ও শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। প্রকৃতিতে সবুজ আর সতেজ করার মূলমন্ত্র নিয়ে চালায় নিজের রাজত্ব। গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন বর্ষার রিম-বৃষ্টি স্বস্তি হয়ে নেমে আসে। প্রবল বর্ষণে নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে পূর্ণ যৌবনা হয়ে ওঠে এ সময়। বিলে-ঝিলে ফুটন্ত শাপলা-শালুক বিমোহিত করে মনপ্রাণ। প্রকৃতিতে বর্ষা মানে নব জীবনের সঞ্চার। পাখি বা মানুষের ছড়ানো বীজ মাটি ফুঁড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় বৃষ্টির নিমন্ত্রণে। গায়ক থেকে কবি, কিংবা লেখক- বর্ষার রূপে মুগ্ধ হয়েছেন সবাই। নিজেদের কণ্ঠ আর লেখনিতে করেছেন বৃষ্টি বন্দনা। ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে; ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ কবিতায়ও ফুটে উঠেছে বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের ছন্দময় সাহিত্য-কথামালা। কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার বর্ষার রূপ-লাবণ্য। বর্ষা বন্দনায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায় গেয়েছেন, ‘এলো বরষা যে সহসা মনে তাই; রিম ঝিম ঝিম, রিম ঝিম ঝিম…গান গেয়ে যাই।’ প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন- ‘রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে; কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে; কদম তমাল ডালে দোলনা দোলে; কুহু পাপিয়া ময়ূর বোলে; মনের বনের মুকুল খোলে; নট-শ্যাম সুন্দর মেঘ পরশে।’ ষড়ঋতুর মাঝে বর্ষাকালকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি গান, কবিতা রচিত হয়েছে।

বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে নেত্রকোনা জেলা  সদরসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, প্রকৃতিতে বর্ষার আবির্ভাবে গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে জীর্ণ-শীর্ণ গাছপালাগুলো সতেজ হয়ে ওঠেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদ-নদী, খাল-বিল ফিরে পেয়েছে হারানো যৌবন। প্রকৃতিতে এখন কেবলই নতুন সৃষ্টির জয়জয়কার। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কদম, বেলি, টগর, হাস্নাহেনা, বকুল, শাপলা, পদ্ম, দোলনচাঁপা, কেয়া, কামিনী, রঙ্গন, দোপাটি, কলাবতী, সন্ধ্যামালতি, বনতুলসী, কলমিসহ নানান রঙের বাহারি ফুল। বর্ষায় প্রকৃতিতে দেখা মিলছে- করমচা, জামরুল, পেয়ারা, ডেওয়া, কাউ, গাবসহ বিভিন্ন জাতের ফল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বর্ষার জমা পানিতে জমে উঠেছে মাছ ধরার উৎসব। রাতে ফসলের মাঠে জমা পানিতে লাইট আর কোঁচ দিয়ে মাছ শিকারের ব্যস্ততা। বর্ষায় নগরজীবনে দিনে রাস্তা-ঘাটে মানুষের আনাগোনা থাকলেও গ্রামে সে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বৃষ্টির রিম-ঝিম শব্দে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে টেলিভিশনে খবরের চ্যানেল আর খোশগল্পে মেতে ওঠে গ্রামবাসী।

জেলা সদরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা বাংলা বিষয়ের সিনিয়র প্রভাষক ও দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে বর্ষার অনুভূতি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, বর্ষা মানেই সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি। বর্ষা মানেই নাগরিক জীবনে স্বস্তি-শান্তি। বর্ষা বিহীন বাংলার প্রকৃতির সৌন্দর্য কল্পনাও করা যায় না। বর্ষা ঋতু তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য অনন্য, স্বতন্ত্র ও অন্যতম। বর্ষাকাল কবি-সাহিত্যিকদের কাছে অত্যন্ত আবেগময়, কাব্যময় ও প্রেমময়। রহস্যময়ী বর্ষার রূপ ও বৈচিত্রে রয়েছে নীরব কোমলতা-মাদকতা। আকাশ-প্রকৃতির গভীর মিতালিতে শিল্প-সাহিত্যের উপকরণ খুঁজে ফিরেন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকরা। তারা এই অনুষঙ্গ থেকে আবহমানকাল ধরে অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত হয়ে আসছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধভারে বর্ষার অপরূপ রূপের বর্ণনা চিরকালীন-অমলীন।

কথা হয় কবি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে জড়িত এনামুল হক পলাশের সাথে তিনি তার অনুভূতিতে জানান, বর্ষার মহিমা উজ্জীবিত করেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। গ্রামের প্রকৃতিতে যখন বৃষ্টি নামে, তখন মানবমন কিছুটা ভাবুক হওয়াই স্বাভাবিক। অজান্তেই তখন মন ছুটে যায় ফেলে আসা দিনগুলোর সুখময় স্মৃতির আঙ্গিনায়। রবি ঠাকুরের ভাষায়, “আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে, জানিনে জানিনে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না লাগে না।” বর্ষার আসল রূপ ফুটে ওঠে গ্রামীণ পরিবেশে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা শহুরে জনজীবনে ভোগান্তি নিয়ে এলেও গ্রামে সে আসে আনন্দ উচ্ছ্বাসের কারণ হয়ে। বর্ষা নব জীবনের বার্তা নিয়ে এলেও হঠাৎ বিষাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে থমকে যায় জনজীবন। যদিও নানান কারণে প্রকৃতি দিন দিন রুক্ষ ও রুদ্র হয়ে উঠছে। ষঢ়ঋতু হারাচ্ছে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট। তবুও ষঢ়ঋতুর বাংলাদেশে প্রকৃতিতে বিরাজ করে অপার সৌন্ধর্য। ফুলে, ফলে আর সবুজের স্নিগ্ধতায় প্রস্ফুটিত হয় রূপসী বাংলা।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হলেও প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে আসে বর্ষাকাল। বিশেষ করে গ্রামীণ প্রকৃতিতে বর্ষা আসে অন্যরকম সজিবতা নিয়ে। শৈশবে বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলেনি এমন বালক খুব কমই আছে। শহর কিংবা গ্রাম উভয় জায়গাতেই বৃষ্টির দিনে এ খেলাটি একটি নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও গ্রামে-গঞ্জে এসময় প্রায়ই কিশোরদের বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি খেলতে দেখা যায়। এ সময় হরহামেশাই ছোট ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে দলবেঁধে বিভিন্ন ঘরোয়া খেলায় অংশ নিয়ে থাকে।

দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 4:13 pm
   
দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:  দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।

রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে  কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে।

আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।

ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার,

একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে

আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

তরুন রানার এলিন খান বলেন,  একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে  ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা,

অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।

একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান,

তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়;

৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।

ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”

পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 9:37 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু সাঈদ নূর আলম বাবু। নতুন এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে সংগঠিত ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভূল্লী উপজেলা থেকেই ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবু বলেন, “আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। সকলের সহযোগিতা নিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করতে চাই। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভূল্লী উপজেলা থেকে ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা করি।”

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 3:16 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আলম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৭ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নূর আলম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া-শিলুলতলা এলাকার মো. সুফিয়ার রহমানের ছেলে। ডিবি পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো সংক্রান্ত ২০টি অ্যাপ পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নূর আলমের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় এর আগে তাকে রংপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, নূর আলম রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।