খুঁজুন
, ,

প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে এলো বর্ষা

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে এলো বর্ষা

বর্ষা মানে আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ, রিম-ঝিম বৃষ্টি, নতুন প্রাণে জেগে ওঠার গান। সৃষ্টির খেলায় উন্মত্ত হয়ে বর্ষায় প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে যৌবন, মানবমনে জেগে ওঠেছে সুখ-বিরহের নতুন পরশ।

ষড়ঋতুর পালা বদলে বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যে বর্ষাকাল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বাংলা দিনপঞ্জিকা অনুসারে আষাঢ় ও শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। প্রকৃতিতে সবুজ আর সতেজ করার মূলমন্ত্র নিয়ে চালায় নিজের রাজত্ব। গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন বর্ষার রিম-বৃষ্টি স্বস্তি হয়ে নেমে আসে। প্রবল বর্ষণে নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে পূর্ণ যৌবনা হয়ে ওঠে এ সময়। বিলে-ঝিলে ফুটন্ত শাপলা-শালুক বিমোহিত করে মনপ্রাণ। প্রকৃতিতে বর্ষা মানে নব জীবনের সঞ্চার। পাখি বা মানুষের ছড়ানো বীজ মাটি ফুঁড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় বৃষ্টির নিমন্ত্রণে। গায়ক থেকে কবি, কিংবা লেখক- বর্ষার রূপে মুগ্ধ হয়েছেন সবাই। নিজেদের কণ্ঠ আর লেখনিতে করেছেন বৃষ্টি বন্দনা। ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে; ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ কবিতায়ও ফুটে উঠেছে বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের ছন্দময় সাহিত্য-কথামালা। কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার বর্ষার রূপ-লাবণ্য। বর্ষা বন্দনায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায় গেয়েছেন, ‘এলো বরষা যে সহসা মনে তাই; রিম ঝিম ঝিম, রিম ঝিম ঝিম…গান গেয়ে যাই।’ প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন- ‘রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে; কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে; কদম তমাল ডালে দোলনা দোলে; কুহু পাপিয়া ময়ূর বোলে; মনের বনের মুকুল খোলে; নট-শ্যাম সুন্দর মেঘ পরশে।’ ষড়ঋতুর মাঝে বর্ষাকালকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি গান, কবিতা রচিত হয়েছে।

বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে নেত্রকোনা জেলা  সদরসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, প্রকৃতিতে বর্ষার আবির্ভাবে গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে জীর্ণ-শীর্ণ গাছপালাগুলো সতেজ হয়ে ওঠেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদ-নদী, খাল-বিল ফিরে পেয়েছে হারানো যৌবন। প্রকৃতিতে এখন কেবলই নতুন সৃষ্টির জয়জয়কার। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কদম, বেলি, টগর, হাস্নাহেনা, বকুল, শাপলা, পদ্ম, দোলনচাঁপা, কেয়া, কামিনী, রঙ্গন, দোপাটি, কলাবতী, সন্ধ্যামালতি, বনতুলসী, কলমিসহ নানান রঙের বাহারি ফুল। বর্ষায় প্রকৃতিতে দেখা মিলছে- করমচা, জামরুল, পেয়ারা, ডেওয়া, কাউ, গাবসহ বিভিন্ন জাতের ফল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বর্ষার জমা পানিতে জমে উঠেছে মাছ ধরার উৎসব। রাতে ফসলের মাঠে জমা পানিতে লাইট আর কোঁচ দিয়ে মাছ শিকারের ব্যস্ততা। বর্ষায় নগরজীবনে দিনে রাস্তা-ঘাটে মানুষের আনাগোনা থাকলেও গ্রামে সে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বৃষ্টির রিম-ঝিম শব্দে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে টেলিভিশনে খবরের চ্যানেল আর খোশগল্পে মেতে ওঠে গ্রামবাসী।

জেলা সদরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা বাংলা বিষয়ের সিনিয়র প্রভাষক ও দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে বর্ষার অনুভূতি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, বর্ষা মানেই সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি। বর্ষা মানেই নাগরিক জীবনে স্বস্তি-শান্তি। বর্ষা বিহীন বাংলার প্রকৃতির সৌন্দর্য কল্পনাও করা যায় না। বর্ষা ঋতু তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য অনন্য, স্বতন্ত্র ও অন্যতম। বর্ষাকাল কবি-সাহিত্যিকদের কাছে অত্যন্ত আবেগময়, কাব্যময় ও প্রেমময়। রহস্যময়ী বর্ষার রূপ ও বৈচিত্রে রয়েছে নীরব কোমলতা-মাদকতা। আকাশ-প্রকৃতির গভীর মিতালিতে শিল্প-সাহিত্যের উপকরণ খুঁজে ফিরেন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকরা। তারা এই অনুষঙ্গ থেকে আবহমানকাল ধরে অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত হয়ে আসছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধভারে বর্ষার অপরূপ রূপের বর্ণনা চিরকালীন-অমলীন।

কথা হয় কবি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে জড়িত এনামুল হক পলাশের সাথে তিনি তার অনুভূতিতে জানান, বর্ষার মহিমা উজ্জীবিত করেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। গ্রামের প্রকৃতিতে যখন বৃষ্টি নামে, তখন মানবমন কিছুটা ভাবুক হওয়াই স্বাভাবিক। অজান্তেই তখন মন ছুটে যায় ফেলে আসা দিনগুলোর সুখময় স্মৃতির আঙ্গিনায়। রবি ঠাকুরের ভাষায়, “আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে, জানিনে জানিনে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না লাগে না।” বর্ষার আসল রূপ ফুটে ওঠে গ্রামীণ পরিবেশে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা শহুরে জনজীবনে ভোগান্তি নিয়ে এলেও গ্রামে সে আসে আনন্দ উচ্ছ্বাসের কারণ হয়ে। বর্ষা নব জীবনের বার্তা নিয়ে এলেও হঠাৎ বিষাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে থমকে যায় জনজীবন। যদিও নানান কারণে প্রকৃতি দিন দিন রুক্ষ ও রুদ্র হয়ে উঠছে। ষঢ়ঋতু হারাচ্ছে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট। তবুও ষঢ়ঋতুর বাংলাদেশে প্রকৃতিতে বিরাজ করে অপার সৌন্ধর্য। ফুলে, ফলে আর সবুজের স্নিগ্ধতায় প্রস্ফুটিত হয় রূপসী বাংলা।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হলেও প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে আসে বর্ষাকাল। বিশেষ করে গ্রামীণ প্রকৃতিতে বর্ষা আসে অন্যরকম সজিবতা নিয়ে। শৈশবে বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলেনি এমন বালক খুব কমই আছে। শহর কিংবা গ্রাম উভয় জায়গাতেই বৃষ্টির দিনে এ খেলাটি একটি নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও গ্রামে-গঞ্জে এসময় প্রায়ই কিশোরদের বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি খেলতে দেখা যায়। এ সময় হরহামেশাই ছোট ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে দলবেঁধে বিভিন্ন ঘরোয়া খেলায় অংশ নিয়ে থাকে।

মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয়

পিছিয়ে পড়া ম্যাচ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের স্বাদ পাওয়া ফুটবলে সবসময়ই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম। আর সেই জয়ের কান্ডারি যখন লিওনেল মেসি হন, তখন তা যেন এক রূপকথার গল্পের মতো শোনায়। মেজর লিগ সকারের নিয়মিত মৌসুমে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির সাম্প্রতিক ম্যাচটি তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে মায়ামি।

ম্যাচের শুরুতে পরিস্থিতি একেবারেই ইন্টার মায়ামির পক্ষে ছিল না। প্রতিপক্ষ নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে মায়ামির রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খেলার প্রথমার্ধের দিকে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লে মায়ামির ডাগআউটে কিছুটা অস্বস্তি নেমে আসে। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল বড়, কিন্তু গোল হজম করার পর দলের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ভাটা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে মাঠে অধিনায়ক হিসেবে মেসি ছিলেন বরাবরের মতোই শান্ত এবং স্থির। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দলগত সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

বিরতির পর মাঠে ফিরে যেন নতুন রূপ ধারণ করে মায়ামি। মেসি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান দেওয়া, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা—সবকিছুই ছিল নিখুঁত। সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণ শানাতে শুরু করে ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে মেসির অসাধারণ এক পাস থেকে সতীর্থ গোল আদায় করে নিলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সমতায় ফিরে আসার পর মায়ামির খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। ঠিক এমন সময়ে মেসি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেন। জয়সূচক গোলটি করার সময় তার অভিজ্ঞতা ও ক্ষিপ্রতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে তিনি যখন বল জালে জড়ালেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। এক গোল খাওয়ার পর যেভাবে মায়ামি ফিরে এসেছে, তা তাদের লড়াকু মানসিকতারই পরিচয় দেয়।

এই জয়ের গুরুত্ব শুধু পয়েন্টের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত মৌসুমের শেষদিকে এসে প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত মূল্যবান। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলটিকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলে দিয়েছে মায়ামি। মৌসুমের সমীকরণ যখন শেষের দিকে, তখন এমন জয় দলের সামগ্রিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে তুলল। পয়েন্ট তালিকার উন্নতি কেবল দলের আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং প্লে-অফের লড়াইয়েও তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।

মেসির এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। মাঠে তার উপস্থিতিতেই দলের চিত্র বদলে যায়। ইন্টার মায়ামির কোচ থেকে শুরু করে সতীর্থ এবং ভক্ত—সবাই এখন সামনের ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। মেসি যদি এমন ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে মায়ামির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হবে। আজকের এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ নয়, বরং দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করার একটি উপলক্ষ হিসেবে কাজ করবে।

স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ

ইউরোপের শীতকাল মানেই সাদা বরফের চাদরে ঢাকা পাহাড় আর হিমশীতল বাতাসের এক রোমাঞ্চকর আবহ। শীত এলেই পর্যটকদের একটা বড় অংশ ভিড় জমান ইউরোপের বিভিন্ন স্কি রিসোর্টে। অনেকের কাছে শীতকালীন ভ্রমণের একমাত্র মানেই হলো স্কিইং। তবে বিষয়টি যদি কেবল বরফের ওপর স্লাইড করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো সাধারণ পর্যটকদের জন্য ইউরোপের শীতের আকর্ষণ এত বিশাল হতো না। আপনি যদি স্কিইংয়ে পারদর্শী না হন বা এই রোমাঞ্চকর খেলায় আগ্রহ বোধ না করেন, তবুও ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ হতে পারে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতার একটি। স্কিইংয়ের বাইরেও ইউরোপের শীত উপভোগ করার এমন অনেক উপায় রয়েছে যা আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখতে পারে।

ইউরোপের দীর্ঘ শীতকালীন দিনগুলোতে বরফে ঢাকা বনভূমিতে হাঁটাহাঁটি করা এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। শান্ত, নিস্তব্ধ বনের ভেতর দিয়ে বরফের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় চারপাশের প্রকৃতি যে রূপ ধারণ করে তা এক কথায় জাদুকরী। এছাড়া যারা কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য কুকুরের স্লেজে চড়া হতে পারে দারুণ একটি সুযোগ। অনেক পর্যটকই এই স্লেজ রাইডকে শীতকালীন ভ্রমণের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। বরফের ওপর দিয়ে ছুটে চলা স্লেজ আপনাকে দেবে এক দারুণ গতি আর আনন্দের অনুভূতি।

শীতের ইউরোপে হিমায়িত হ্রদে মাছ ধরার অভিজ্ঞতারও জুড়ি নেই। বরফ কেটে নিচে জাল বা বড়শি ফেলে মাছ ধরার এই পদ্ধতিটি যেমন কৌতুহলোদ্দীপক, তেমনি ধৈর্য ও কৌশলের পরীক্ষা নেয়। আবার শীতের সন্ধ্যায় নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিস দেখার জন্য ইউরোপের উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলো বেছে নিতে পারেন। রাতের আকাশে রঙের যে খেলা তৈরি হয়, তা পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ উপহার। এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া ও সঠিক গন্তব্য বেছে নেওয়া জরুরি।

বরফের ওপর আইস স্কেটিং ইউরোপীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক শহর কিংবা পর্যটন কেন্দ্রের পাশে কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক আইস রিং তৈরি করা হয় যেখানে ছোট-বড় সবাই মিলে স্কেটিংয়ের আনন্দ নিতে পারেন। এছাড়া শীতের সন্ধ্যায় স্থানীয় ক্রিসমাস মার্কেটগুলোতে ঘুরে বেড়ানো, উষ্ণ পানীয় পান করা এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া ভ্রমণকে অন্য মাত্রা দেয়। সবশেষে বলা যায়, স্কিইং জানা কিংবা না জানা বড় কথা নয়, ইউরোপের শীতকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে অনুভব করাই আসল ভ্রমণ আনন্দ। প্রতিটি গন্তব্যের নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে, যা আপনার শীতের ছুটিকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও আনন্দময়। সঠিক পরিকল্পনা আর প্রস্তুতির মাধ্যমে স্কিইং ছাড়াও ইউরোপে কাটিয়ে আসতে পারেন এক দারুণ শীতের অবকাশ।

মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে একটি বেসরকারি হোটেলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। হোটেলের বর্জ্য চেম্বার বা স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারা মারা যান। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, শনিবার গভীর রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা চেম্বার পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকদের নিযুক্ত করেছিল। কাজ চলাকালীন চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন শ্রমিকরা। ভেতরে থাকা কোনো ব্যক্তি বের হতে না পারায় এবং তীব্র গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে তারা অচেতন হয়ে পড়েন। এর ফলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই উদ্ধার অভিযানে আরও একটি বিপত্তি ঘটে। চারজনকে উদ্ধার করতে চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করেন আরও দুজন। কিন্তু তারাও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের তড়িঘড়ি করে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার পর তাদের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা মিথেন বা অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শ্রমিকদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ ঘটনার পর হোটেলের মালিক ও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পরিষ্কারের কাজে বিশেষ সুরক্ষামূলক পোশাক ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না। এই অবহেলার কারণে মূল্যবান প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল। ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলকেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এই মুহূর্তে শোকের মাতম চলছে। প্রশাসন তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, ওই হোটেলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষও তদন্ত চালাচ্ছে। শহরের অন্যান্য হোটেলের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ
মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয় স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬)
Advertisement