খুঁজুন
, ,

বর্ষার প্রকৃতি জুড়ে হাসছে বর্ষাদূত কদম

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ২:১৫ অপরাহ্ণ
বর্ষার প্রকৃতি জুড়ে হাসছে বর্ষাদূত কদম

‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান…..।’ বর্ষার শুরুতে চিরচেনা মিষ্টি একটা গন্ধে মেতে উঠেছে গ্রামীণ সবুজ শ্যামল প্রকৃতি। ঋতুচক্রে বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষা এলেই প্রকৃতির পরতে পরতে যে ফুলটি নীরবে জানান দেয় তার আগমন, সেটি হলো বর্ষাদূত কদম ফুল।

গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা কদম ফুল মনে করিয়ে দিচ্ছে ঋতুর আবর্তে বাংলার প্রকৃতিতে চলছে বর্ষাকাল। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস হচ্ছে বর্ষাকাল। বর্ষাকালের আরেক সৌন্দর্যের নাম হলুদ আর সাদার আভায় বের হওয়া কদম ফুল। বাংলা কবিতা আর গানেও সমভাবে সমাদৃত হয়েছে বর্ষাকাল ও কদম। বর্ষার সঙ্গে কদম ফুলের যেন এক নিবিড় সম্পর্ক প্রাকৃতিকভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। তাইতো পল্লীকবি জসিম উদ্দিন বর্ষা ও কদমের সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন- ‘প্রাণ সখিরে…ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে।’

সরেজমিনে জেলা সদরসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখাগেছে, গ্রীষ্মের শেষে বর্ষার শুরুতে সড়কের পাশে, মেঠোপথের ধারে, বসতবাড়ির আশপাশে, পুকুর ও দিঘির পাড়ের কদম গাছ ছেয়ে আছে মিষ্টি গন্ধেভরা হলুদ আর সাদার আভায় তুলতুলে কদম ফুলে। এসব ফুলের মন ভোলানো সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। শিশুরা এসব ফুল তাদের খেলার অনুষঙ্গ হিসেবেও ব্যবহার করছে। আবার কিশোরীদের চুলের খোপা ও বেনিতেও শোভা পাচ্ছে বর্ষাদূত কদম ফুল। উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীদের হাতেও শোভা পাচ্ছে এই ফুল। প্রতিটি সড়ক দিয়ে যেতে যেতে কদম ফুলের গন্ধ ও সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সবাই। কদম ফুলের গন্ধে যেনো গ্রাম বাংলার চিরচেনা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। চকচকে উজ্জ্বল সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা কদম ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কদম ফুলের সতেজ নির্মল সৌন্দর্য আর মোহনীয় ঘ্রাণ প্রকৃতিপ্রেমীসহ সকলের মনে সৃষ্টি করেছে ভিন্ন এক সম্মোহনী অনুভূতি।

বারহাট্টা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার লায়লা জানান, কদম ফুল সাধারণত আষাঢ় মাসে দেখা যাওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতিতে জৈষ্ঠ্য মাস থেকেই প্রকৃতিতে শোভা পায় কদম ফুল। ‘কদম’ এসেছে সংস্কৃত নাম ‘কদম্ব’ থেকে। এই ফুলের আরেক নাম নীপ। এছাড়াও এ ফুলের আরও কতগুলো নাম রয়েছে যেমন- সর্ষপ, সুরভি, পুলকি, মেঘাগমপ্রিয়, বৃত্তপুষ্প, সিন্ধুপুষ্প, ললনাপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী ইত্যাদি। এ দেশের ফুলগুলোর নামের মধ্যে কদম ফুল অন্যতম।

তিনি বলেন, যা বিরহীকে ব্যথিত করে, তা-ই কদম্ব। ‘নির্জন যমুনার কূলে, বসিয়া কদম্ব ডালে…বাজায় বাঁশি বন্ধু শ্যামরায়।’ সেই বাঁশির সুরে রাধার মন ব্যাকুল। বৈষ্ণব সাহিত্য রাধা-কৃষ্ণের বিরহ-বেদনায় একাকার হয়ে আছে কদমের সুরভি। এ কারণেই বুঝি কদমের আরেক নাম সুরভি। বর্ষার প্রকৃতি বাংলা সাহিত্যে এনে দিয়েছে স্নিগ্ধতা। বর্ষার উপহার সোনা রঙের কদম ফুল নিয়ে রচিত হয়েছে নানা গল্প, উপন্যাস, কবিতা আর গান।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জায়েদা মেহের নিগারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কদম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম- Anthocephalus indicus এবং ইংরেজি নাম- Burflower tree। কদম Rubiaceae পরিবারের Neolamarckia গণের একটি বৃক্ষ। কদমগাছ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ ফুট লম্বা হয়। প্রস্থ ঊর্ধ্বে ৫ থেকে ৭ ফুট হয়। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, মালয় ও চীনে। এই গাছের পাতা লম্বা, চকচকে উজ্জ্বল সবুজ। শীতকালে এই গাছের পাতা ঝরে গেলেও বসন্ত এলেই এই গাছে পাতা নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। কদম ফুল গোলাকার। ফুলটিকে একটি ফুল মনে হলেও আসলে এটি অসংখ্য ফুলের একটি গুচ্ছ। এর ভেতরে মাংসল পুষ্পাধার রয়েছে, যাতে হলুদ রংয়ের ফানেলের মতো নরম সাদা পাপড়িগুলো আটকে থাকে। কদম গাছের ফল বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য। এরাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় এই গাছের বংশবিস্তারে সাহায্য করে থাকে।

তিনি বলেন, ভেষজ ঔষধিগুণে ভরা কদম পাতা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। এর ব্যবহারে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ব্যথানাশক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কদমের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পায়ের তালু জ্বলা, ব্রণসৃষ্ট ক্ষত ও গ্রন্থিস্ফীতি রোগে এর ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। এ ছাড়া কদম ফুল সেদ্ধ করা পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ছোট বেলায় কদমফুল নিয়ে অনেক খেলাধুলা করেছি, সে-সময় যত গাছ দেখেছি বর্তমানে এতো গাছ আর চোখে পড়ে না। মূলত বর্ষাকালে প্রকৃতিতে কদম ফুল ফোটে। এই ফুলের সঙ্গে গ্রামবাংলার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন অসময়েও কদম ফুল ফুটতে দেখা যায়। শিমুল ফুলসহ অনেক ফুলেরই এখন বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে কিন্তু কদমফুলের গাছ রোপনে এখন পর্যন্ত সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগও গ্রহণ করা হয় না। অবহেলিত ভাবে এখানে-সেখানে প্রাকৃতিক ভাবে যা হয়। কদম ফুল অন্যরকম একটা ফুল যেটি দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। আমাদের গাছটিকে রক্ষা করতে বেশি বেশি রোপন করা উচিৎ। গাছের বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত বলে জ্বালানি কাঠের জন্য রোপণ করা যেতে পারে। নরম কাঠ বলে সহজেই নানা কাজে ব্যবহার করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, কদম ফুল শুভ্রতার প্রতীক। বাংলাদেশে কদমফুল বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিস্নাতক দিনে বাঙালীদের মনে অন্য রকম অনূভূতি এনে দেয়। কদম ফুল ও বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষা মৌসুমের সৌন্দর্য ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। কদম গাছের কাঠ জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা হয়। কদমের অনেক ঔষধিগুণ রয়েছে। সরকারী ভাবে এই গাছ রোপনের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয়

পিছিয়ে পড়া ম্যাচ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের স্বাদ পাওয়া ফুটবলে সবসময়ই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম। আর সেই জয়ের কান্ডারি যখন লিওনেল মেসি হন, তখন তা যেন এক রূপকথার গল্পের মতো শোনায়। মেজর লিগ সকারের নিয়মিত মৌসুমে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির সাম্প্রতিক ম্যাচটি তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে মায়ামি।

ম্যাচের শুরুতে পরিস্থিতি একেবারেই ইন্টার মায়ামির পক্ষে ছিল না। প্রতিপক্ষ নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে মায়ামির রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খেলার প্রথমার্ধের দিকে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লে মায়ামির ডাগআউটে কিছুটা অস্বস্তি নেমে আসে। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল বড়, কিন্তু গোল হজম করার পর দলের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ভাটা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে মাঠে অধিনায়ক হিসেবে মেসি ছিলেন বরাবরের মতোই শান্ত এবং স্থির। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দলগত সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

বিরতির পর মাঠে ফিরে যেন নতুন রূপ ধারণ করে মায়ামি। মেসি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান দেওয়া, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা—সবকিছুই ছিল নিখুঁত। সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণ শানাতে শুরু করে ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে মেসির অসাধারণ এক পাস থেকে সতীর্থ গোল আদায় করে নিলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সমতায় ফিরে আসার পর মায়ামির খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। ঠিক এমন সময়ে মেসি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেন। জয়সূচক গোলটি করার সময় তার অভিজ্ঞতা ও ক্ষিপ্রতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে তিনি যখন বল জালে জড়ালেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। এক গোল খাওয়ার পর যেভাবে মায়ামি ফিরে এসেছে, তা তাদের লড়াকু মানসিকতারই পরিচয় দেয়।

এই জয়ের গুরুত্ব শুধু পয়েন্টের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত মৌসুমের শেষদিকে এসে প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত মূল্যবান। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলটিকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলে দিয়েছে মায়ামি। মৌসুমের সমীকরণ যখন শেষের দিকে, তখন এমন জয় দলের সামগ্রিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে তুলল। পয়েন্ট তালিকার উন্নতি কেবল দলের আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং প্লে-অফের লড়াইয়েও তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।

মেসির এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। মাঠে তার উপস্থিতিতেই দলের চিত্র বদলে যায়। ইন্টার মায়ামির কোচ থেকে শুরু করে সতীর্থ এবং ভক্ত—সবাই এখন সামনের ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। মেসি যদি এমন ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে মায়ামির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হবে। আজকের এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ নয়, বরং দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করার একটি উপলক্ষ হিসেবে কাজ করবে।

স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ

ইউরোপের শীতকাল মানেই সাদা বরফের চাদরে ঢাকা পাহাড় আর হিমশীতল বাতাসের এক রোমাঞ্চকর আবহ। শীত এলেই পর্যটকদের একটা বড় অংশ ভিড় জমান ইউরোপের বিভিন্ন স্কি রিসোর্টে। অনেকের কাছে শীতকালীন ভ্রমণের একমাত্র মানেই হলো স্কিইং। তবে বিষয়টি যদি কেবল বরফের ওপর স্লাইড করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো সাধারণ পর্যটকদের জন্য ইউরোপের শীতের আকর্ষণ এত বিশাল হতো না। আপনি যদি স্কিইংয়ে পারদর্শী না হন বা এই রোমাঞ্চকর খেলায় আগ্রহ বোধ না করেন, তবুও ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ হতে পারে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতার একটি। স্কিইংয়ের বাইরেও ইউরোপের শীত উপভোগ করার এমন অনেক উপায় রয়েছে যা আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখতে পারে।

ইউরোপের দীর্ঘ শীতকালীন দিনগুলোতে বরফে ঢাকা বনভূমিতে হাঁটাহাঁটি করা এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। শান্ত, নিস্তব্ধ বনের ভেতর দিয়ে বরফের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় চারপাশের প্রকৃতি যে রূপ ধারণ করে তা এক কথায় জাদুকরী। এছাড়া যারা কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য কুকুরের স্লেজে চড়া হতে পারে দারুণ একটি সুযোগ। অনেক পর্যটকই এই স্লেজ রাইডকে শীতকালীন ভ্রমণের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। বরফের ওপর দিয়ে ছুটে চলা স্লেজ আপনাকে দেবে এক দারুণ গতি আর আনন্দের অনুভূতি।

শীতের ইউরোপে হিমায়িত হ্রদে মাছ ধরার অভিজ্ঞতারও জুড়ি নেই। বরফ কেটে নিচে জাল বা বড়শি ফেলে মাছ ধরার এই পদ্ধতিটি যেমন কৌতুহলোদ্দীপক, তেমনি ধৈর্য ও কৌশলের পরীক্ষা নেয়। আবার শীতের সন্ধ্যায় নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিস দেখার জন্য ইউরোপের উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলো বেছে নিতে পারেন। রাতের আকাশে রঙের যে খেলা তৈরি হয়, তা পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ উপহার। এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া ও সঠিক গন্তব্য বেছে নেওয়া জরুরি।

বরফের ওপর আইস স্কেটিং ইউরোপীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক শহর কিংবা পর্যটন কেন্দ্রের পাশে কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক আইস রিং তৈরি করা হয় যেখানে ছোট-বড় সবাই মিলে স্কেটিংয়ের আনন্দ নিতে পারেন। এছাড়া শীতের সন্ধ্যায় স্থানীয় ক্রিসমাস মার্কেটগুলোতে ঘুরে বেড়ানো, উষ্ণ পানীয় পান করা এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া ভ্রমণকে অন্য মাত্রা দেয়। সবশেষে বলা যায়, স্কিইং জানা কিংবা না জানা বড় কথা নয়, ইউরোপের শীতকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে অনুভব করাই আসল ভ্রমণ আনন্দ। প্রতিটি গন্তব্যের নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে, যা আপনার শীতের ছুটিকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও আনন্দময়। সঠিক পরিকল্পনা আর প্রস্তুতির মাধ্যমে স্কিইং ছাড়াও ইউরোপে কাটিয়ে আসতে পারেন এক দারুণ শীতের অবকাশ।

মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে একটি বেসরকারি হোটেলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। হোটেলের বর্জ্য চেম্বার বা স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারা মারা যান। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, শনিবার গভীর রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা চেম্বার পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকদের নিযুক্ত করেছিল। কাজ চলাকালীন চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন শ্রমিকরা। ভেতরে থাকা কোনো ব্যক্তি বের হতে না পারায় এবং তীব্র গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে তারা অচেতন হয়ে পড়েন। এর ফলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই উদ্ধার অভিযানে আরও একটি বিপত্তি ঘটে। চারজনকে উদ্ধার করতে চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করেন আরও দুজন। কিন্তু তারাও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের তড়িঘড়ি করে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার পর তাদের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা মিথেন বা অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শ্রমিকদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ ঘটনার পর হোটেলের মালিক ও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পরিষ্কারের কাজে বিশেষ সুরক্ষামূলক পোশাক ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না। এই অবহেলার কারণে মূল্যবান প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল। ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলকেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এই মুহূর্তে শোকের মাতম চলছে। প্রশাসন তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, ওই হোটেলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষও তদন্ত চালাচ্ছে। শহরের অন্যান্য হোটেলের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ
মেসির নৈপুণ্যে মায়ামির জয় স্কিইং না জেনেও যেভাবে উপভোগ করবেন ইউরোপের শীতকালীন ভ্রমণ মধ্যপ্রদেশে হোটেলের বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬)
Advertisement