খুঁজুন
, ,

আমতলীতে মাজারে হামলা,ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ,আহত ৩৫ পীরের অনুসারীদের মধ্যে আতঙ্ক 

মাইনুল ইসলাম রাজু ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
আমতলীতে মাজারে হামলা,ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ,আহত ৩৫ পীরের অনুসারীদের মধ্যে আতঙ্ক 
রবিবার গভীর রাতে আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বটতলার নামক স্থানের নিকটবর্তী হযরত খাজা ইসমাঈল শাহ মাজারে বার্ষিক ওরশ চলাকালে ইমাম কল্যান ফাউন্ডেশনের ব্যানারে একদল তোহিদী জনতা হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করেছে । এতে মাজারের সামিয়ানা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং হামলা ও পাল্টা হামলায় উভয় গ্রুপের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। এঘটনায় সোমবার সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। মাজারে হামলা এবং অগিনকান্ডের ফলে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মাজার কতৃপক্ষ দাবী করেন। হামলার পর ইসমাইল শাহ পন্থী অনুসারী ও মুরদানদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মাজারে হামলার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকার লোক ভির করছেন পরিস্থিতি দেখার জন্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মাওলানা ওমর ফারুক জিহাদি ও গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শতাধিক তৌহিদী জনতা মাজারে উপস্থিত হয়ে ওরশ ও গান বাজনা বন্ধ করতে বলেন। এতে উভয়পক্ষের বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে ইভয় পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এ সময় ঘটনাস্থরে উপস্থিত তৌহিদী জনতা লাঠি শোটা নিয়ে মাজারে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর করে এবং মাজারে অগ্নি সংযোগ করে অভিযোগ মাজার পন্থীদের। হামলা পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়। আহতরা হল মাজারের খাদেম এ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ইসমাইল শাহের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম, খবির (৩০), বেল্লাল (৩২) জাকির হোসেন (৩১) সালমা বেগম (৪০), মিজানুর রহমমমান (৪৫) আবুল কালাম (৪২),সোলায়মান (৩৮), রেজাউল (১৮), বাদল মৃধা (৪০), দুলাল মৃধা (৪২), আবু বকর (৪২), আবুল হোসেন (২৮), আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৮), মোঃ মামুন (৪৩), আবুল হোসেন (৩৩)। আহত অন্যরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মাজারে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আমতলীর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দেও সহায়তায় প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে ওই রাতেই আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান ও ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মাজারের খাদেম অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল অভিযোগ করে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদের নেতৃত্ব্বে এ হামলা ও অগ্নি সংযোগ হয়েছে। এতে মাজারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । অনুসারীদেও থাকার টিনসেডের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় তা পুরে ছাই হয়ে গেছে। মাজারের ভিতরেও কবরের উপর হামলা করে এবং আগুন দিয়ে গিলাব পুরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্টীলের সীমানা ভেঙ্গে ফেলেছে। তারা আমাকেসহ আমাদের ভক্ত ও অনুসারীদের উপর বেধরক হামলা করে ২০ জনকে আহত করেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজন আমতলী হাসপাতালে ভর্তি আছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘঠনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
ইসলামী আন্দোলন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক গাজী বায়েজিদ বলেন, আমাদেও বিরুদ্ধে হামলা অঘ্নি সংযোগের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। পবিত্র মাহে রমজান মাসে ইসমাঈল শাহের অনুসারীরা ইসলাম বিরোধী কাজ থেকে নিষেধের জন্য মাজারে যাই। মাজারে যাওয়ার পর তারা আমাদেও তৌহিদী জনতার উপর চলা (লাকরি) লাঠি নিয়ে হামলা করে। আমরা এঘটনার বিচার চাই।
 ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী বলেন, এ মাজারটি ভন্ডের আস্থানা । ওরশের নামে এখানে গানবাজনা ও গাজা মাদক সেবন ও নারীর আসর বসায়। তারা মাজার সেজদা করে শিরক করছেন। এজন্য রবিবার আমতলী উপজেলার ইমাম কল্যান ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ আমাকে ঘটনার প্রতিবাদের জন্য তাৎক্ষনিক আমির বানিয়ে একটি প্রতিবাদ কমিটি গঠন করে। এর পর রাত সোয়া ১২ টার সময় শত শত ইমাম মুসল্লী এবং তৌহিদী জনতা নিয়ে ইসলাম বিরোধী কাজের প্রতিবাদ করার জন্য আমরা মাজারে যাই। আমরা মাজারের খাদেম অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে রমজান মাসে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম কিন্তু তিনি তা না শুনে তার নির্দেশে তার ভক্তবৃন্দরা আমাদের লোকজনের উপর চলা (লাকরি) নিয়ে হামলা করে। হামলায় আমাদের ১৫ জন আহত হয়েছে । হামলা এবং ঘগ্নিকান্ডে মাজারের প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন। এই ভন্ড মাজারের খাদেম বাবুল উকিল ও তার দোসরদের আমরা শান্তির দাবী জানাই।
ইসমাইল শাহের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তৌহিদী জনতা ব্যানের রবিবার গভীর রাতে আমার বাবার মৃত্যু বার্ষিকী পালনের দিন হামলা করে ভাংচুর করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করে দুটি টিনের ঘর পুরিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেকান্দার বয়াতী জানান, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হযরাত খাঁজা ইসমাঈল শাহ ১৯৯০ সালে আমতলী আসেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ২৬ ফাল্গুন মারা জান। আমতলী উপজেলায় তার প্রায় কয়েক হাজার ভক্ত অনুসারী রয়েছে। তারা তাকে আমতলী রেখে পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বটতলা নামক স্থানে দাফন করে সেখানে একটি মাজার নির্মান করেন। প্রতিবছর বাংলা ২-৩ চৈত্র ২দিন ব্যাপী ওরশ পালন করেন তারা। এসময় এখানে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। হামলা ও অগ্নিকান্তের ঘটনায় আমতলীতে মাজার পন্থি মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে ।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, ওরশ চলাকালে রাত সাড়ে ১২ টার সময় হঠাৎ ডাক চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি টিনের ঘর আগুনে জ্বলছে। লোকজন ভয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। পরে পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাসেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আমতলী ফায়ার ষ্টেশনের ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত পৌনে তিনটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুনে মাজারের ভেতরের সামিয়ানা ও দুটি টিনের ঘর পুড়ে গেছে।
আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ মুক্তির অপেক্ষায়। এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির আগেই এক বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে এর অন্যতম গান ‘তু মিল যায়ে’। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে গানটি শ্রোতাদের একাংশ দারুণভাবে পছন্দ করলেও, নেটিজেনদের বড় একটি অংশ সুর চুরির অভিযোগে সরব হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গানটির সুর পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের কালজয়ী সৃষ্টি ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে। এই বিতর্ক এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘কিং’ সিনেমার গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ্যে আসে। গানটি শোনার পর থেকেই সংগীতপ্রেমী ও মৌসুমী ভৌমিকের ভক্তরা দাবি করতে থাকেন যে, সুরের বিন্যাস, তাল ও মেলোডি মৌসুমীর মৌলিক গানের সঙ্গে অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যাচ্ছে। সুরের এই সাদৃশ্য কাকতালীয় নয় বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মৌসুমীর এক অনুরাগী প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন এবং সুর চুরির অভিযোগ তুলে একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন। সেই পোস্টের পর থেকেই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সংগীতের জগতে নিজের অনন্য শৈলীতে জায়গা করে নিয়েছেন মৌসুমী ভৌমিক। তার ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ গানটি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও নস্টালজিক একটি সৃষ্টি। সেই গানের সুর অপরিবর্তিত রেখে বা কিছুটা অদলবদল করে বলিউড সিনেমায় ব্যবহার করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুরাগীরা। তারা একে সৃজনশীলতার অভাব এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এত বড় অভিযোগের পর অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মৌসুমী ভৌমিক। তবে তিনি সরাসরি কোনো আইনি লড়াইয়ের কথা জানাননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং দর্শকদের মন্তব্যের ভিত্তিতে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মৌসুমীর এই নীরবতা বা সংযত প্রতিক্রিয়া নিয়েও ভক্তরা নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। কেউ বলছেন, শিল্পী হয়তো বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন, আবার কেউ মনে করছেন তিনি বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুর চুরির এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনার ঝড় থামার কোনো লক্ষণ নেই।

বলিউডে সুর চুরির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতেও বহুবার বড় বাজেটের সিনেমার গান বিদেশি বা আঞ্চলিক কোনো গানের সুরের সঙ্গে মিলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘কিং’ সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, সুরের সাদৃশ্য অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে, কিন্তু শ্রোতারা যখন সরাসরি চুরির অভিযোগ আনেন, তখন বিষয়টি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এখন দেখার বিষয়, ‘কিং’ সিনেমার নির্মাতারা কি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো সাফাই দেবেন, নাকি বিতর্ক এড়িয়ে সিনেমা মুক্তির দিকেই মনোনিবেশ করবেন। গায়িকা মৌসুমী ভৌমিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংগীত জগৎ ও তার অগণিত ভক্তরা।

রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪

রাজধানী ঢাকায় গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি ও অবৈধভাবে তা মজুতকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় গাড়ি থেকে বিভিন্ন দামি পার্টস সরিয়ে ফেলে তা নিজেদের হেফাজতে রেখে বিক্রি করে আসছিল এই চক্রটি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও সবুজবাগ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. জসিম, মো. হারুন, আলামুন হুদা ওরফে মোল্লা এবং সুলতান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এদের প্রত্যেকের বয়স চল্লিশের কোঠা থেকে ষাটের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত যন্ত্রাংশগুলো চোরাই পথে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না এবং সেগুলো কোথায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওত পেতে থেকে এই চক্রটি সুযোগ বুঝে গাড়ির মূল্যবান পার্টস খুলে নিয়ে যেত। পরবর্তীতে এসব যন্ত্রাংশ তাদের গোপন আস্তানায় মজুত রাখা হতো। জব্দ করা যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য বেশ ভালো হওয়ায় এবং সহজে হাতবদল করা যায় বিধায় তারা এই অপরাধমূলক কার্যক্রম বেছে নেয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, গুলশান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা ঢাকা মহানগরীর অন্য কোনো এলাকায় তাদের আরও কোনো গোপন আস্তানা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

রাজধানীর গাড়ি মালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যন্ত্রাংশ চুরির আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই সফল অভিযানে কিছুটা হলেও জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চোর চক্রের পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট কাজ করছে, তা উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুতই এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে। গুলিতে আহত মাহমুদুল হক নামের ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুল হক একটি মাইক্রোবাসে করে যাতায়াত করছিলেন। খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জনের একটি দল তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দিনের আলোতে এমন দুঃসাহসিক ও নৃশংস হামলার ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক ঠিক কী কারণে হামলার শিকার হলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক শত্রুতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনতে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে, আহত ব্যবসায়ীর স্বজনরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ব্যবসায়ীরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ
শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার