খুঁজুন
, ,

জনগণ আর স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
জনগণ আর স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী

দেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, যারা অতীতে এদেশের মানুষের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছে এবং জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনা করেছে, তারা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার স্বপ্ন দেখলেও তা কোনোদিন সফল হবে না। রবিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যারা দেশের সন্তানদের রক্ত পান করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি, সেই অপশক্তিকে জনগণ আর কখনোই গ্রহণ করবে না। তাদের রাজনীতি বা পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। জনগণ তাদের সেই দুর্বিষহ শাসনামলের কথা ভুলে যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী মানসিকতা লালনকারীরা উড়ে এসে জুড়ে বসবে, এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। দেশের মানুষ এখন সচেতন এবং তারা নিজেদের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার দীর্ঘ সময় ধরে এদেশের জনগণের ওপর যেভাবে স্টিম রোলার চালিয়েছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাদের কোনো ক্ষমা নেই এবং জনগণের রায় তাদের বিরুদ্ধে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রিজভী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসের কাছে সকল ষড়যন্ত্রই পরাজিত হতে বাধ্য।

আলোচনা সভায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নানা দিক বিশ্লেষণ করেন। তারা বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে এখন যে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। কোনো অশুভ শক্তি যেন পুনরায় জনগণের ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান নেতারা। রিজভীর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বিএনপির এই সিনিয়র নেতার বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদের তাৎপর্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদের তাৎপর্য

বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দিন যেন এক নতুন সংবাদের জন্ম দেয়। প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং যোগাযোগের সহজলভ্যতার এই যুগে কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক রূপ পরিগ্রহ করে। আজ বিশ্ব রাজনীতি কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে অন্য মহাদেশে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই জটিল সমীকরণগুলো কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পণ্যের দাম এবং বিশ্ব নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

বৈশ্বিক রাজনীতির আকাশে প্রতিদিনই যেন নতুন মেঘ জমছে। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্যের লড়াই এখন আর কেবল সামরিক শক্তিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন প্রযুক্তিগত আধিপত্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন দখলের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ভূ-রাজনীতির এই জটিল খেলাগুলোতে কূটনীতির অদৃশ্য সুতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পর্দার আড়ালে চলা নীরব আলোচনাগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান সংঘাতের চেয়েও বেশি প্রভাব বিস্তার করছে বিশ্ব ব্যবস্থায়। বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক জোটগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষায় যে ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে, তা ভবিষ্যৎ বিশ্বকাঠামোকে নতুন করে গড়ে তুলছে।

সংঘাতের আগুন যখন কোনো এক অঞ্চলে জ্বলে ওঠে, তখন তার উত্তাপ অনুভূত হয় বিশ্বজুড়ে। প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি বা সামরিক মহড়াগুলো এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যখন এই ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে, তখন সাধারণ পাঠকের মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে—বিশ্ব কি বড় কোনো পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? আসলে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ঘটনা আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। কখনও কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তির আশা জাগছে, আবার কখনও নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্থিরতা বাড়ছে। এই দ্বিমুখী স্রোত এখন বিশ্ব রাজনীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধি—এসব বিষয় এখন কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং তা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশগুলো থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাই এই সংকটের আঁচ পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য নীতিগুলোর পরিবর্তন এবং মুদ্রার মানের ওঠানামা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিভিন্ন দেশের আর্থিক নীতিমালার সমন্বয় ও অসামঞ্জস্যতা নিয়ে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আজ প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংবাদ কেবল তথ্যের জোগান দেয় না, বরং তা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, পৃথিবী কোন দিকে এগোচ্ছে। আজ যারা বিশ্বনেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন, তারা বুঝতে পারছেন যে এককেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা এখন অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বহুপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মেরুকরণ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে সচেতন পাঠক হিসেবে প্রতিটি সংবাদের পেছনের প্রেক্ষাপট অনুধাবন করা জরুরি। বিশ্বব্যাপী চলমান প্রতিটি পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যতের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলছে, আর সেই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা আজ সময়ের দাবি।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট: বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশ্চিন্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট: বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশ্চিন্তা

দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের চিত্র অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান চিত্র পর্যালোচনা করলে এক ভিন্নধর্মী সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন সংকট নিয়ে যে শঙ্কা বা আলোচনা ছিল, তা এবার অনেকটাই উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন যে পরিমাণ আসন রয়েছে, তা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, সামগ্রিকভাবে দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আসন সংকট নেই, বরং উল্টো চিত্র দেখা দিচ্ছে। অর্থাৎ আসন আছে কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, যা এক নতুন ধরনের শিক্ষার্থী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, উচ্চশিক্ষার এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে দেশের মাঝারি সারির, ছোট এবং রাজধানীর বাইরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় ধরনের বিপাকে পড়তে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে মানসম্মত শিক্ষার দাবি এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পাওয়ার আশায় শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানের বা নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র টিউশন ফি-র ওপর নির্ভরশীল, তারা শিক্ষার্থী সংকটে পড়লে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।

পরিস্থিতি কেবল বেসরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। যদিও শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতা বরাবরই থাকে, তবে তুলনামূলক কম পরিচিত বা নতুন স্থাপিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এবার শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে বেগ পেতে হতে পারে। আসন খালি পড়ে থাকার এই আশঙ্কা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখার ক্ষেত্রেও একটি বাধা হিসেবে কাজ করবে। কারণ, ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ব্যাহত হয় এবং গবেষণাসহ নানা একাডেমিক কার্যক্রমে ভাটা পড়ে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় এখন কেবল নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটটি একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রবর্তন করতে পারবে না, তাদের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়বে।

সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন একটি বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি। আসন আর শিক্ষার্থীর এই অসামঞ্জস্যতা কেবল ভর্তি মৌসুমেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদেও শিক্ষার সামগ্রিক মানে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তাদের নিজস্ব সক্ষমতা, শিক্ষার গুণমান এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অন্যথায়, শিক্ষার্থী সংকটের এই ঢেউ বড় সংখ্যক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
   
পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু

রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় রবিবার রাতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাত সোয়া ৮টার দিকে থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার আকস্মিকতায় থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্য ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও থানা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, দুর্বৃত্তরা পল্লবী থানার পাশের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে থানা লক্ষ্য করে ককটেলটি নিক্ষেপ করে। ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচ বরাবর এই ছোড়া ককটেলটি থানার প্রাঙ্গণে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে চলে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। কারা বা কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের উস্কানিমূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় অন্ধকার থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পল্লবী থানা ভবন ও আশপাশের এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশি নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা কি না, তা নিয়েও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক, সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছে। পল্লবী থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ রয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখন ওই ফ্লাইওভার ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজধানীতে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে না। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যে কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং থানায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ
বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদের তাৎপর্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট: বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশ্চিন্তা পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব নিরূপণে নতুন সুবিধা আনছে এআই চ্যাটবট ক্লড ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ চত্বর বাণিজ্যিক বিরোধ নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বার্তা চীনের জনগণ আর স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী পাল্লা বাড়ানোর ঘোষণা ইরানের: নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য