ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল ও সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম স্থানীয়দের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন ছয়টি গ্রামকে পুনরায় মূল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করার দাবি এবং নতুন উপজেলা গঠনের চলমান প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ চার ঘণ্টা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রেখেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আশ্বাসে অবরোধকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই অবরোধের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
আন্দোলনরত গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, গত চার ঘণ্টা ধরে তারা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুরাহার জন্য আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এবং দাবির বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন। তার এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই মূলত অবরোধকারীরা রাস্তা ও রেলপথ থেকে সরে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং বাসুদেব ইউনিয়নের সাথে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসাথে তারা নতুন উপজেলা গঠনের যে তোড়জোড় চলছে, তা জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন।
তবে অবরোধ প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনরত এলাকাবাসী আপাতত কোনো দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সামনে আগামী ৭২ ঘণ্টার একটি কড়া আল্টিমেটাম প্রদান করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, যদি আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা না হয়, তবে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। তারা জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে, যেখানে রেলপথ ও সড়কপথ আবারো অচল করে দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জনগণের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]