দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে একটি সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। বিশেষ করে সমবায় খাতের নাজুক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন সমবায় সমিতি যেভাবে তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
দেশের বিভিন্ন সমবায় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির বিষবাষ্প যেভাবে এই খাতগুলোকে গ্রাস করেছে, তাতে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। সমবায় সমিতিগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করা। কিন্তু সুশাসনের অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে এই লক্ষ্য এখন বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সমবায় খাতকে যদি পুনরায় অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে হয়, তবে সবার আগে এর ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে হবে। কোনো একক প্রচেষ্টায় এই পরিবর্তন সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে প্রতিটি সদস্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি মেনে চলতে হবে। তিনি দেশের সকল স্তরের মানুষকে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনীতি সচল রাখতে হলে যে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন, তা সমবায় খাতের মাধ্যমেই সহজতর হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতির মতে, দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ সমবায় খাত দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে, যা পরবর্তীতে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব অর্থনীতির চলমান অস্থিরতার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, সমবায় খাতের সংস্কার শুধু দুর্নীতি রোধ করবে না, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।
রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য দেশের সচেতন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কেবল আইন করে নয়, বরং মানসিকভাবে স্বচ্ছতা ও সততার মানসিকতা গড়ে তুললেই কেবল এই খাত থেকে সুফল পাওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে সমবায় খাত কীভাবে আরও গতিশীল ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর নজরদারি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সব ধরনের বাধা দূর করে একটি স্বচ্ছ ও টেকসই কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]