খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গর্তে আটকা দুটি বন্য হাতি, তিন ঘণ্টা পর সফল উদ্ধার
বুধবার সকাল ৪ নভেম্বর, কক্সবাজারের টেকনাফ রেঞ্জের মধ্যনহীলা বিটের আওতাধীন হোয়াইক্যংয়ের কম্বনিয়াপাড়া মনুমিয়ার ঘোনা এলাকায় দুইটি বন্য হাতি খাবারের সন্ধানে বন থেকে বেরিয়ে এসে স্থানীয় গ্রামাঞ্চলে পৌঁছায়। খাবার খুঁজতে গিয়ে তারা হঠাৎই একটি গভীর কাদামাটির গর্তে পা ফেলতে থাকে এবং দু’জনেই গর্তের ভেতরে আটকে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি লক্ষ্য করে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম পরিষদ ও বন বিভাগের কাছে জানায়। দ্রুতই বন বিভাগ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এবং কয়েকজন গ্রামবাসীর সমন্বয়ে একটি উদ্ধার দল গঠন করা হয়। দলটি গর্তের চারপাশে নিরাপত্তা বজায় রেখে, হাতিগুলোর মাথা ও পা থেকে বের করার জন্য মোটা দড়ি ও কাঠের লাঠি ব্যবহার করে কাজ শুরু করে।
উদ্ধার কাজটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে। গর্তের মাটি নরম ও পিচ্ছিল হওয়ায় হাতিগুলোকে সরাতে অতিরিক্ত শক্তি ও ধৈর্য প্রয়োজন হয়। ইআরটি দলের সদস্যরা গর্তের পাশে একটি ছোট ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে মাটি কিছুটা পরিষ্কার করে, ফলে দড়ি টেনে হাতিগুলোকে ধীরে ধীরে গর্তের বাইরে টানা সম্ভব হয়। গ্রামবাসীরাও দড়ি টেনে সাহায্য করে, যাতে হাতিগুলোকে কোনো আঘাত না হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর, শেষ পর্যন্ত দু’জন হাতি গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে এবং তৎক্ষণাৎ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার প্রক্রিয়ার শেষে, বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ হাতিগুলোকে পুনরায় তাদের স্বাভাবিক বনের পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। হাতিগুলোকে নিরাপদে বনে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ছোট ট্র্যাক্টর ও কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা দ্রুত ও নিরাপদে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানে পৌঁছাতে পারে।
স্থানীয় মানুষ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই সফল উদ্ধারকে প্রশংসা করে, বলেন যে দ্রুত সাড়া এবং সমন্বিত কাজের ফলে প্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, এই ঘটনার মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংযোগে সতর্কতা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা রোধে বন বিভাগ স্থানীয় জনগণকে বন্যপ্রাণীর চলাচল ও খাবার সন্ধানের সময় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]