ইরানি কমান্ডারদের ওপর হামলা হলে শত্রুপক্ষকে চরম মূল্য দেওয়ার হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে এবং তাতে ইরানের কোনো সামরিক কমান্ডারকে নিশানা করা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি। সম্প্রতি আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির পক্ষ থেকে ইরানকে নিয়ে দেওয়া নানা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান এই ধরনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
আইআরজিসির প্রধান কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মাদ মোকাদ্দামফার প্রকাশ্যে এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি আবারও ইরানি কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে তার পরিণাম ভালো হবে না। সেক্ষেত্রে পালটা আঘাত হিসেবে সরাসরি শত্রুপক্ষের শীর্ষ নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইরানের। মূলত বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া সামরিক হুমকি ও আগ্রাসী মনোভাবের জবাব হিসেবেই এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বরং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আইআরজিসি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সতর্কবার্তা কেবল কথার কথা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ক ইরানকে নিয়ে বিভিন্ন সময় প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের নেতাদের পক্ষ থেকে ইরানকে টার্গেট করে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা বারবার দেখা গেছে। কিছুদিন আগেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানোর সময় নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্পের সেই দাবি বা মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া এল বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান বরাবরই তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিজেদের কমান্ডারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আইআরজিসির এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সরাসরি সামরিক ভারসাম্যের লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়। আগে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তারা আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষার কৌশল গ্রহণ করেছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক উস্কানি এই পুরো অঞ্চলকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে। তবে ইরানের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু দেশের সম্মান ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে যেকোনো পর্যায়ে গিয়ে তারা তার জবাব দেবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তির এই দ্বৈরথ নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সামরিক বিশেষজ্ঞ ও ভূ-রাজনীতির কারবারিরা ইরানের এই নতুন ঘোষণাকে একটি কৌশলগত পাল্টা চাল হিসেবেই দেখছেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]