খুঁজুন
, ,

ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ সম্ভব

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ সম্ভব

মিড‑টার্ম নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে, ফলে কংগ্রেসের আইনপ্রণয়নের ক্ষমতা একতরফা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তন ট্রাম্পের শাসনামলে শেষ দুই বছরকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখন বিশ্লেষণের মূল বিষয়।

প্রথমত, ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকলে তারা প্রেসিডেন্টের নীতি‑বিরোধী আইন প্রস্তাবনা দ্রুত বাধা দিতে পারবে। ট্রাম্পের প্রশাসন যে বেশ কিছু বিধি‑বিধান ও নির্বাহী আদেশ গ্রহণ করেছে, যেমন পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত রোল‑ব্যাক, অভিবাসন নীতি কঠোর করা এবং স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, সেগুলোর পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের জন্য কংগ্রেসের ভোট প্রয়োজন হবে। সেনেটের অধিকাংশ সদস্য ডেমোক্র্যাটিক হলে, এসব নীতির পুনরায় আলোচনা ও সংশোধন সহজ হবে।

দ্বিতীয়ত, ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের অধীনে বাজেট ও আর্থিক নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব। ফেডারেল বাজেটের অনুমোদন ও সংশোধনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, তাই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত করছাড় বা ব্যয়‑বৃদ্ধি পরিকল্পনা পুনরায় পর্যালোচনা করা যাবে। ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত সামাজিক কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পছন্দ করে; তাই এই ক্ষেত্রগুলোতে নতুন আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা দেখা যায়।

তৃতীয়ত, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডেমোক্র্যাটরা বিচারিক নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট বিচারিক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন, কংগ্রেসের সেনেটের অনুমোদন ছাড়া কোনো ফেডারেল বিচারক, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, নিযুক্ত করা যায় না। সেনেটের ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত রক্ষণশীল বিচারিক প্রার্থীর অনুমোদন কঠিন হয়ে পড়বে, ফলে ভবিষ্যৎ বিচারিক সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাটিক দৃষ্টিভঙ্গি অধিকতর প্রাধান্য পেতে পারে।

এছাড়া, ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের অধীনে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার পুনরায় চালু হতে পারে। ট্রাম্পের প্রশাসন অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের কিছু ধারাকে বাতিল করার চেষ্টা করলেও, কংগ্রেসের নতুন নিয়ন্ত্রণে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এই আইনকে পুনরায় সক্রিয় করতে বা তার পরিবর্তে নতুন স্বাস্থ্যসেবা নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে স্বাস্থ্য বীমা সম্প্রসারণ, মেডিকেডের অধিকার বৃদ্ধি এবং ঔষধের দাম নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো পুনরায় আলোচনার মুখে আসবে।

পরিবেশ নীতি ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের প্রভাব স্পষ্ট হবে। ট্রাম্পের প্রশাসন পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কংগ্রেসের নতুন নিয়ন্ত্রণে থাকা ডেমোক্র্যাটরা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে কঠোর নীতি, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন এবং ফসিল ফুয়েল ব্যবহার সীমিত করার জন্য আইন প্রণয়নের চেষ্টা করবে। এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি পুনরায় স্বাক্ষর বা বজায় রাখার দিকেও সহায়ক হতে পারে।

অবশেষে, ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের অধীনে ভোটাধিকার সম্প্রসারণ ও নির্বাচনী সংস্কার সম্পর্কিত আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটার আইডি আইন, গেরিম্যান্ডারিং এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভোটার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণে এসে ট্রাম্পের শেষ দুই বছরের শাসনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আইনগত, আর্থিক, বিচারিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা, ভোটার অধিকার সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার পুনরায় চালু করা—এগুলোই ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য পদক্ষেপের মূল দিক। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী মাসগুলোতে স্পষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগীয় প্রধানের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগীয় প্রধানের বৈঠক

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাই সিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে সমন্বয় সাধন করা।

বৈঠকের সময় দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিময়, এবং অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে চলমান রেলওয়ে, সেতু ও জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে চীনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। লিউ হাই সিং উল্লেখ করেন যে, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হতে ইচ্ছুক এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদভাবে জানিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে চাইছে, বিশেষ করে হাই-টেক শিল্প, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং সবুজ জ্বালানি ক্ষেত্রে। এছাড়া, উভয় দেশই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণের জন্য সমন্বয় বাড়াতে চায়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে।

বৈঠকে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দু’দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ চীনের কাছে রপ্তানি মূলত পোশাক ও চামড়া পণ্য, আর চীন থেকে আমদানি মূলত যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল। লিউ হাই সিং উল্লেখ করেন যে, চীন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে ইচ্ছুক। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ চীনের উচ্চমানের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতে চায়, যাতে দেশীয় শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। লিউ হাই সিং বাংলাদেশে পরবর্তী সফরের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতি ও কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেন।

এই বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় পক্ষই আশাবাদী যে, এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে এবং তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সন্তান বড় হওয়ার সাথে কি দূরত্ব বাড়ছে? অভিভাবকত্বের নতুন সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
সন্তান বড় হওয়ার সাথে কি দূরত্ব বাড়ছে? অভিভাবকত্বের নতুন সংকট

আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে অনেক অভিভাবকই একটি সূক্ষ্ম অথচ গভীর শূন্যতা অনুভব করেন। ঠিক যেমনটি ঘটেছে তাহেরা বেগমের ক্ষেত্রে। তার তেরো বছর বয়সী মেয়ে অরু এখন পড়ার টেবিলে বই খুলে রাখলেও তার সমস্ত মনোযোগ আটকে থাকে মুঠোফোনের স্ক্রিনে। কয়েক দিন ধরে মেয়েটির আচরণের এই পরিবর্তন মা হিসেবে তাকে বেশ চিন্তিত করে তুলেছে। অরু এখন স্কুল থেকে ফিরে খুব কম কথা বলে, সারাদিনের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো যেন হারিয়ে গেছে কোথাও। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে সে এখন আর প্রাণ খুলে উত্তর দেয় না, বরং খুব সংক্ষিপ্ত ও যান্ত্রিক জবাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমন চিত্র আজ অনেকের ঘরেই নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে কৈশোরের একটি সাধারণ পর্যায় হিসেবে দেখলেও অভিভাবকরা একে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখেন। শৈশবে যেসব শিশু বাবা-মায়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকত, তারাই কৈশোরে পা দিয়ে নিজের জগৎ তৈরি করতে চায়। এই বয়সে তাদের মনে এক ধরনের নতুন সত্তার জন্ম নেয়, যেখানে বন্ধুদের গুরুত্ব বাড়ে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রবণতা প্রকট হয়ে ওঠে। মা-বাবারা যখন দেখেন তাদের প্রাণবন্ত সন্তানটি হঠাৎ করেই নিজেকে ঘরের চার দেয়ালের মাঝে গুটিয়ে নিচ্ছে, তখন তারা আতঙ্কে ভোগেন। এই অকারণ নীরবতা কি বড় হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, নাকি পরিবারের সাথে তাদের মানসিক দূরত্ব বাড়ছে, সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই দূরত্বের কারণগুলোকে আরও ঘনীভূত করেছে। আগে সন্তানরা অবসরে বাবা-মায়ের সাথে সময় কাটাত, এখন সেই সময়টুকু তারা ভার্চুয়াল জগতে ব্যয় করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গেম কিংবা ইন্টারনেটের অসীম দুনিয়া তাদের মনস্তাত্ত্বিক জগতের অনেকটা দখল করে নিয়েছে। ফলে বাস্তব জীবনের সম্পর্কের চেয়ে তারা ডিজিটাল সম্পর্কের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বাবা-মায়েরা যখন তাদের সাথে আলাপ করতে চান, তখন তারা এটিকে হস্তক্ষেপ মনে করে বিরক্ত হয়। এই দুই প্রজন্মের চিন্তাধারার ফারাক পারিবারিক বন্ধনগুলোকে আরও ঠুনকো করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দেন যে, এই সংকটের মুহূর্তে কঠোর শাসনের চেয়ে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া বেশি জরুরি। জোর করে তাদের জগত থেকে টেনে বের না করে বরং তাদের জগতটা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। অরু যেমন তার মায়ের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছে, তেমনি অনেক কিশোর-কিশোরীই মনে করে অভিভাবকরা তাদের আবেগ বুঝতে অক্ষম। তাই সন্তানদের সাথে সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে হলে আলাপচারিতার ধরন বদলাতে হবে। তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। সন্তানদের কথা শোনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা না গেলে এই দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

পরিশেষে, সন্তান বড় হওয়ার মানে এই নয় যে তারা আমাদের থেকে চিরতরে দূরে সরে যাচ্ছে। এটি জীবনের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তনের ধাপ। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, তাদের এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং তাদের পাশে থাকা। প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের সাথে গুণগত সময় কাটানো, যেখানে ফোনের কোনো জায়গা থাকবে না। ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই এই মানসিক দূরত্ব ঘুচিয়ে আবার তাদের কাছাকাছি আসা সম্ভব। অরু বা তাহেরা বেগমের গল্পটি হয়তো প্রতিটি বাড়িরই চিত্র, তবে সঠিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা দিয়ে এই জটিলতাকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

ইউরোপের আকাশে উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ব্যাপক আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
ইউরোপের আকাশে উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ব্যাপক আতঙ্ক

ইউরোপের আকাশপথে ভয়াবহ এক নিরাপত্তাজনিত আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল গত মঙ্গলবার। এদিন মহাদেশটির বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। আকস্মিক এই হুমকির ঘটনায় ইউরোপের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বেশ কয়েকটি দেশে জরুরি অবস্থা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করতে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সবকটি তল্লাশি চালানোর পর বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক কোনো বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, যখন ইউরোপের একাধিক দেশের আকাশসীমায় থাকা বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে একযোগে বোমা হামলার হুমকি পাঠানো হয়। এই উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ারের মতো জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন্সগুলোও ছিল। হুমকির খবর পাওয়ার পরপরই বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিমানকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয় এবং বেশ কিছু উড়োজাহাজকে নিকটস্থ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে শুরু করে টার্মিনাল এলাকাগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এই ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। বিমানবন্দরগুলোর রানওয়ে থেকে দূরে সরিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে এনে সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করা হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এসব অভিযানের কারণে বহু ফ্লাইট সূচিতে দেরি হয় এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বিমান সংস্থাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। উড়োজাহাজগুলোতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিই ছিল কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের পরিকল্পিত হুমকিকে আকাশপথে নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সবগুলো তল্লাশি শেষে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়নি, তবে এটি সুপরিকল্পিত কোনো অন্তর্ঘাত বা নাশকতার চেষ্টা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন ওই হুমকিগুলো কোথা থেকে এবং কীভাবে পাঠানো হয়েছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই হয়তো কোনো মহল থেকে এই ভুয়া বা মিথ্যা হুমকির বার্তা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কোনো দেশের প্রশাসনই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী উড়োজাহাজগুলো পরবর্তী সময়ে যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বা ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়।

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগীয় প্রধানের বৈঠক সন্তান বড় হওয়ার সাথে কি দূরত্ব বাড়ছে? অভিভাবকত্বের নতুন সংকট ইউরোপের আকাশে উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ব্যাপক আতঙ্ক ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ সম্ভব ‘আমি সহজে ক্লান্ত হই না’ শিরোনামের নতুন ভিডিও প্রথম আলোতে প্রকাশ টেস্ট অভিষেকের স্মৃতিচারণা: ৫০ বছর পর ৫ উইকেটের মাধ্যমে ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তিন দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের কর্তৃত্ব নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলপন্থি সিনেটরের আসনে ২৮ বছর পর ডেমোক্র্যাটদের জয়
Advertisement